
যশোরে ঈদের রাতে বাজি ফোটানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অলিদ নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও চারজন। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার বিরামপুরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, রাতের অন্ধকারে বিরামপুর ব্রিজের ওপর আপন, রাশেদুল ও শামীম বাজি ফোটাচ্ছিল। এ সময় সেখান দিয়ে যাচ্ছিল অলিদ, পিয়াল, আরিফ ও মেহেদী। তারা দাবি করে বাজি তাদের গায়ে পড়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। এ সময় অলিদসহ অন্যরা আপন, রাশেদুল ও শামীমকে মারপিট ও ছুরিকাঘাত করে। খবর পেয়ে আপনের বাবা রিপন আলী সেখানে গেলে তাকেও ছুরি মেরে আহত করে। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অলিদ গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আহত আপন, তার বাবা রিপন আলী, শামীম, অলিদ ও রাশেদুলকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে মারা যায় অলিদ। আহতদের মধ্যে রাশেদুলকে খুলনা মেডিক্যালে রেফার করা হয়েছে। এছাড়া আপন ও রিপন আলী ও শামীম যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত জানান, বাজি ফোটানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারিতে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন। হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।
সিলেটে খেলা নিয়ে
সংঘর্ষ আহত ৪০
স্টাফ রিপোর্টার সিলেট অফিস থেকে জানান, গোয়াইনঘাটে ঈদের দিনে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। ঈদুল ফিতরের নামাজের পর বেলা ১১টার দিকে উপজেলার লামার দমদমীয়া গ্রামের দুর্ঘামারা বিলের পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ভিতরগুল ও লামার দমদমীয়া গ্রামের লোকজনের মধ্যে দুর্ঘামারা বিলের পাড়ের একটি খেলার মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সোমবার দমদমীয়া গ্রামের বিবাহিত ও অবিবাহিত যুবকদের মধ্যে ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে দমদমীয়া গ্রামের বাসিন্দারা। অন্যদিকে ভিতরগুল গ্রামের একদল যুবক একই সময়ে মাঠে ফুটবল খেলতে যায়। এ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।
লক্ষ্মীপুরে শিশু গুলিবিদ্ধ
নিজস্ব সংবাদদাতা লক্ষ্মীপুর থেকে জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অহিদ হোসেন নামে এক যুবকের বাড়িতে হামলা-গুলি চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় অহিদকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে গুলিটি আবিদা সুলতানা (৬) নামে তার ভাতিজির পেটে বিদ্ধ হয়ে পেছনের দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের কাশিপুর কাচারিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গুলিবিদ্ধ আবিদা সদর উপজেলাধীন বসিকপুর ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকার ইব্রাহিম হোসেন ও আমেনা বেগম দম্পতির মেয়ে সন্তান।
সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পীযুষ চন্দ্র দাস বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একটি শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার পেটে গুলি লেগেছে। গুলি প্রবেশ এবং বাহিরের চিহ্ন ছিল। এতে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ভাঙ্গায় কয়েক দফায়
সংঘর্ষ, আহত ৬৫
নিজস্ব সংবাদদাতা ফরিদপুর ॥ ভাঙ্গায় পৃথক স্থানে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৬৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ এড়াতে উভয় স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত দশটা পর্যন্ত উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রাম ও তুজারপুর ইউনিয়নের সরাইবাড়ী গ্রামে দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর মধ্যে ভাঙ্গা উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মনসুরাবাদ গ্রামে দু’গ্রপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। উপজেলার হামিরদি ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রামে মঙ্গলবার বিকেলে শুরু হয়ে এ সংঘর্ষ সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
জানা গেছে, হামিরদী ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার বাবর আলী ও বর্তমান মেম্বার আলম মোল্যার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত ও সংঘর্ষ চলে আসছিল। ঈদের দিন রাতে আলম মোল্যার পক্ষের মাজহারুল ইসলাম নামের একজনকে বাবর আলীর পক্ষের লোকজন মারধর করে। এর জের ধরে ঈদের পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে বাবর আলী ও আলম মোল্যার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দুই ঘণ্টা ব্যাপী দুই পক্ষের কয়েক হাজার সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু করে। এ সময় ইট ও সুরকির আঘাতে আঘাতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় মনসুরাবাদ বাজারে কমপক্ষে ১৫টি দোকান ভাঙচুর, মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ৪ জনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে।
এদিকে, উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের সরাইবাড়ী গ্রামে খাঁ গোষ্ঠীর সঙ্গে তালুকদার গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। গ্রামের কবির খাঁ ও হাবি তালুকদার এই দুই গ্রুপের নেতৃত্ব দেন। ঈদের দিন রাতে কবির খাঁর এক আত্মীয় বাড়ি যাওয়ার পথে হাবি তালুকদারের লোকদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে ঈদের পরদিন মঙ্গলবার সকালে উভয় গ্রুপের লোকজন ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সকাল থেকে চলা সংঘর্ষ দফায দফায় রাত ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ১৫ জন আহত হন এবং দুই পক্ষের ছয়টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।