
সাতক্ষীরা : আশাশুনি উপজেলার বেড়িবাঁধ ভেঙে আশপাশের এলাকা প্লাবিত। বাঁধ সংস্কারে সেনাসদস্যরা সহযোগিতা করছেন
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীতে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ তিনদিনেও সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি। সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে ৫টি গ্রাম, এ ছাড়া আংশিক প্লাবিত গ্রামের সংখ্যা কমপক্ষে ৭টি। সোমবার ঈদের নামাজের সময় সকাল ৯টার দিকে এই বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। ইতোমধ্যে বেড়িবাঁধের ভাঙন পয়েন্টে পরিস্থিতির ভয়াবহতা ঠেকাতে দ্রুত বিকল্প রিংবাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে একজন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলায় খোলপেটুয়া নদীর ভাঙনরোধ ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেসরকারি সংস্থা আলোর পথের আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ নূরুন্নবীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব রমজান আলী, শাহাবুদ্দিন হোসেন, মোহাম্মদ বাকী বিল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র দেলোয়ারার হোসাইন প্রমুখ। তারা খোলপেটুয়া নদীতে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করার বাজেটের সিটিজেন চার্টার দেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে খোলপেটুয়া নদীর পানিতে ভাঙনকবলিত এলাকার ছয়টি গ্রামে নিয়মিত জোয়ার ভাটা হচ্ছে। এতে করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ওইসব গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে সহাস্রাধিক চিংড়ি মাছের ঘের ও বোরো ধানের ক্ষেতসহ ফসলি জমি। ডুবে গেছে গ্রামগুলোর নিম্নাঞ্চলের পুকুর। পানি উঠছে বসতবাড়িতে, ভেঙে পড়ছে কাঁচা ঘরবাড়ি। স্থানীয়রা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, মাছের ঘেরে নদীর লবণপানি প্রবাহের জন্য বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে তলা দিয়ে পাইপ বসানোর কারণে বাঁধের নিচের মাটি দুর্বল হয়েছিল। যে কারণে তলার মাটি ক্ষয়ে যাওয়ায় হঠাৎ করে বেড়িবাঁধ ধসে পড়ে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার বিছট গ্রমের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, পাউবো খুলনা অঞ্চলের তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ শহিদুল আলম, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন, আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায় প্রমুখ।
বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু দাউদ জানান, বিছট গ্রামের যে স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙেছে, ওই স্থানটি দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। এ ছাড়া মূল যে পয়েন্টটি ভেঙেছে সেখানে একটি পাইপ লাইন ও গেট সিস্টেম ছিল। মাছের ঘেরে পানি তোলার জন্য পাউবোর বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে পাইপ বসিয়ে পানি তোলার কারণে হঠাৎ বাঁধটি ধসে যায়। আবু দাউদ বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে। ১০ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু। দ্রুত বাঁধ সংস্থার করা না গেলে তাঁর বিদ্যালয়ে পরীক্ষা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আনুলিয়া ইউপির চেয়ারম্যান মো. রুহুল কদ্দুস জানান, বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় গত দুদিন তাঁদের নির্ঘুম রাত কেটেছে। ঈদে তাঁর ইউনিয়নের মানুষ আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি। ইতোমধ্যে বিছট, বল্লভপুর, আনুলিয়া, চেঁচুয়া, কাকবাসিয়া গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, এখানকার ভাঙন খুবই ভয়াবহ। দ্রুত মেরামত করতে না পারলে আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে। বুধবার সকাল থেকে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ভাঙন এলাকায় বিকল্প রিংবাঁধ দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে সেনা সদস্যরা সহযোগিতা করছেন।
কলাপাড়ায় লোনা পানিতে থৈ থৈ করছে ফসলের খেত
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, পটুয়াখালী থেকে জানান, লোনা পানিতে সব থৈ থৈ করছে। কিন্তু কোনো নদীর দৃশ্য নয়। ইটবাড়িয়া গ্রামের একটি বিলের দৃশ্য। সম্পূর্ণটা আবাদি জমি। আমন মৌসুমে শতভাগ জমিতে ধানের আবাদ হয়। এখনো ডাল, সূর্যমুখী, ভুট্টাসহ বিভিন্ন রবিশস্য রয়েছে বিলের অনেক জমিতে। ঈদের দুইদিন আগেও ছিল শুকনো ফেটে চৌচির হওয়া। এখন লোনা পানিতে সব সয়লাব হয়ে গেছে। অমাবস্যার প্রভাবে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জোয়ারে গ্রামের সম্পূর্ণ খাল উপচে বিল পর্যন্ত একাকার হয়ে গেছে। মাঝের খেয়ার খন্দকার বাড়িসংলগ্ন এক ভেন্টের স্লুইসটির গেট না থাকায় জোয়ারে লোনা পানিতে গোটা এলাকার কৃষকের সর্বনাশ হয়ে গেছে। এখন ডালসহ সূর্যমুখী ভুট্টার ক্ষেত সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শুধু ফসল নয়। এলাকার অনেক কৃষকের মাছের ঘেরও লোনা পানিতে ডুবে গেছে। পুকুরেও লোনা পানি ঢুকেছে। রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের পানি এমনকি গবাদিপশুর খাবারের পানির সংকট শুরু হয়ে গেছে। গ্রামটির বিস্তীর্ণ আবাদি জমি এখন প্রায় হাঁটু সমান লোনা পানিতে ডুবে গেছে। কৃষক মাহতাব হোসেন জানান, হঠাৎ করে লোনা পানি ঢুকে বিল ডুবে গেছে। ফেলন ডালের ফলন ধরা গাছগুলো এখন নষ্ট হয়ে যাবে। আর কয়দিন পরে ফলন পাওয়ার কথা ছিল বলে তার দাবি। চোখের সামনে তার রবিশস্যের ক্ষতির কথা জানালেন। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, ঈদের পরে বিষয়টি সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।