ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

ঈদের ছুটিতে দুর্গাপুর এখন পর্যটক নগরী

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর, নেত্রকোনা

প্রকাশিত: ১৯:১৫, ২ এপ্রিল ২০২৫

ঈদের ছুটিতে দুর্গাপুর এখন পর্যটক নগরী

ছবি: জনকণ্ঠ

সাদা মাটির পাহাড়, রানীখং মিশন, হাজং মাতা রাশি মণি স্মৃতি সৌধ, কমরেড মণি সিংহ স্মৃতি যাদুঘর, ঐতিহাসিক কমল রানীর দিঘী, সুসঙ্গ রাজবাড়ী, মানবকল্যাণকামী অনাথালয়, নীল পানির জলাধার, সোমেশ^রী নদীর স্বচ্ছ পানি, কমলা বাগান, ফান্দা ভ্যালি, সোমেশ^রী নদীর কাঠের সেতু, বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একাডেমি সহ ছোট-বড় অসংখ্য পর্যটন স্পটে ঈদের ছুটি কাটাতে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ছুটে এসেছে। তারা এখানে এসে অপার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

কেউবা পাহাড়ে উঠছেন, কেউবা সোমেশ^রী নদীর স্বচ্ছ পানিতে গোসল করছেন, কেউবা আদিবাসীদের সঙ্গে কথা বলছেন, আবার কেউবা প্রকৃতির কাছে গিয়ে ছবি তুলছেন। ঈদের দ্বিতীয় দিনে পর্যটকদের এমন ভিড় বিগত দশ বছরেও কেউ দেখেনি। যেনো পর্যটকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে সাদা মাটির পাহাড়।

এ বিষয়ে বুধবার (২ এপ্রিল) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের ছুটি কাটাতে দুর্গাপুরের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে পরিবারের সদস্য, দম্পতি ও বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে আসা পর্যটকদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। সবাই এই স্মৃতি ধরে রাখতে সেলফিবন্দি হচ্ছেন। অন্যান্য স্পটগুলোর তুলনায় সাদা মাটির পাহাড় এবং সোমেশ^রী নদীর লেকে পর্যটক সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো।

ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা বে-সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহসানুল হক বলেন, "জিআই পণ্য খ্যাত সাদা মাটির পাহাড় দেখতে আমি প্রথমবার দুর্গাপুরে এসেছি। আমরা চার বন্ধু মিলে মোটরবাইক নিয়ে সকালে ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছি। রাস্তা আগের চেয়ে অনেক ভালো, পর্যটন এলাকার সব জায়গাই সুন্দর। যারা এখানে কখনো আসেনি, আমি বলব, তারা এখানে না আসলে এই সৌন্দর্য উপভোগ করার শান্তিটা বুঝতে পারবে না। সত্যি বলতে আমি অনেক খুশি হয়েছি।"

ময়মনসিংহ থেকে আসা আরেক পর্যটক তাসলিমা আক্তার বলেন, "সাদা মাটির পাহাড়ে ভালো লাগার মতো অনেক কিছুই আছে। ভিডিওতে যতটা সুন্দর লাগে, বাস্তবে তার চেয়েও বেশি সুন্দর। তবে এত সুন্দর জায়গা কেন প্রচারিত হচ্ছে না, তা বুঝতে পারছি না। ঈদ উপলক্ষে অনেক বেশি ভিড়, তারপরও ভালো লাগছে। আশপাশের খাবারের দোকানগুলোর মানও ভালো এবং দাম কম। এককথায় বলতে, সত্যিই চমৎকার একটি জায়গা সুসঙ্গ দুর্গাপুর। সবগুলো স্পটই যেন সাজানো-গুছানো।"

স্থানীয় বাসিন্দা গণি মিয়া বলেন, "বছরের প্রায় সব সময়ই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। তবে দুটি ঈদে এখানে পর্যটকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। এবার ছুটি বেশি, তাই মানুষ ঘোরাফেরার সুযোগ পেয়েছে। আজকেও পর্যটকদের ভিড় অনেক। আগামীকাল আরো বাড়বে মনে হচ্ছে।"

পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "আমরা দেখেছি, অন্যান্য বারের চেয়ে এবার দর্শনার্থীদের ভিড় অনেক বেশি। ঈদের লম্বা ছুটি পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্গাপুরের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরতে আসছেন অনেক মানুষ। শুরু থেকেই আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কেউ যেন সীমান্তের কাছে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।"

সায়মা ইসলাম

×