
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় রমজানের মাসের তারাবির নামাজের হাদিয়া উঠানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৬ জনকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছে।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের ইটনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- কবির, শরীফ, রবিউল্লাহ, আ. ওহাব, রাজু, সজিব, জীবন, জয়নাল, ফোরকান।
এলাকাবাসী, পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইটনা গ্রামের শাহী মসজিদের রমজানের মাসের তারাবিহ নামাজের হাদিয়ার টাকার হিসাব নিয়ে ওই গ্রামের জীবন মিয়া ও শরীফ মিয়ার মধ্যে মঙ্গলবার রাতে বাকবিতন্ডা হয়। বুধবার সকালে শরীফ মিয়াকে দোকানের সামনে পেয়ে জীবন মিয়া আবারও তর্কে জড়ায়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের লোকজনসহ এলাকার অন্তত ১২ জন আহত হয়। জীবন মিয়া মসজিদ কমিটির সেক্রেটারির ভাতিজা।
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. লুৎফুর রহমান বলেন, সকাল ১০টার দিকে ১২ জন মারামারির রোগীকে নিয়ে আসেন স্বজনরা। শরীরে ছুরি, চাকু এবং রডের আঘাত ছিল। বেশির ভাগ মাথায় আঘাত রয়েছে। এদের মধ্যে ছয়জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকীরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে গেছে।
জানতে চাইলে শাহী মসজিদ কমিটির সদস্য আ. গফুর বলেন, জীবন মিয়া মুসল্লীদের কাছ থেকে রমজানের হাদিয়া উঠায়। শরীফসহ আরও কয়েকজন যুবক মসজিদ কমিটির সেক্রেটারির কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চায়। এনিয়ে জীবন ক্ষুদ্ধ হয়। এ ঘটনা থেকেই মারামারি হয়েছে। তবে, এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মো. জাকির হোসেনকে মোবাইলে কল দিলে স্বাক্ষাতে কথা বলবেন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে আখাউড়া থানার ওসি মো. ছমিউদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি মসজিদের টাকার তোলার ঘটনাকে কেন্দ্র দ্ইু পক্ষের মারামারি হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।
সজিব