ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

যমুনার পাড়ে বিনোদনপ্রেমীদের ভিড়

বাবু ইসলাম, সিরাজগঞ্জ ॥

প্রকাশিত: ১১:৪৪, ২ এপ্রিল ২০২৫

যমুনার পাড়ে বিনোদনপ্রেমীদের ভিড়

ওই দূর বহু দূরে তবে দৃষ্টি সীমায় ঘরবাড়ি গাছ-পালা, যমুনা রেল সেতু, সড়ক সেতু। আবার কাছেই প্রমত্তা যমুনা। তবে এখন শান্ত । যমুনায় ভাসছে নৌকা। যমুনার পাড়ে শানবাঁধা নৌকা ঘাট। উপরে মনিষীদের ছবিসহ সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত, শিশুদের বিনোদনের জন্য পার্ক, টাইলস মোড়ানো শানবাঁধাবেঞ্চ, মাথার ওপর ছাতা নানা স্থাপনায় নদীকেন্দ্রিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সিরাজগঞ্জের হার্ডপয়েন্ট ।

যমুনার আগ্রাসান থেকে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষায় নির্মিত বিদেশী প্রযুক্তি নির্ভর আড়াই কি.মি. হার্ডপয়েন্ট এখন সিরাজগঞ্জবাসীর বিনোদনের প্রদান কেন্দ্রে রুপ নিয়েছে। আবার মাঝে মধ্যে হার্ড পয়েন্টে ধস নামলেও আতঙ্কিত হয়ে হাজারো মানুষ ভিড় জমান। অনেকের কাছে এ পরিস্থিতিও এক প্রকার বিনোদন।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিতে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষহার্ড পয়েন্ট ও যমুনার নির্মিত চারটি ক্রসবার বাঁধে হাজারো বিনোদনপ্রেমীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের দিন থেকেই সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধ বা হার্ড পয়েন্টে, মোল্লবাড়ী ক্রসবার বাঁধ, শৈলাবাড়ী ক্রসবার বাঁধ, খোকশাবাড়ী ক্রসবার বাঁধ ও পাইকপাড়া এলাকার ক্রসবার বাঁধগুলোতে নারী, পুরুষ, ছেলেবুড়ো সব বয়সী মানুষের ভিড় দেখা যায়।

প্রতিদিন বিকেল হলেই প্রকৃতি কন্যা যমুনার নির্মল বাতাসে গা ভাসিয়ে দিতে উদগ্রীব মানুষগুলো এখানে ছুটে আসেন। যমুনাও তার স্নিগ্ধ সমীরণ ঢেলে ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি প্রাণ জুড়িয়ে দেয় প্রকৃতি প্রেমীদের।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে যমুনার শহরের ৩ নম্বর ক্রসবার বাঁধ এলাকায় আসেন ব্যাংকার শহিদুল ইসলাম। চিত্ত বিনোদনের জন্য যমুনা পাড়ের চেয়ে সুন্দর আর কোনো জায়গা নেই জানান তিনি।

কলেজ পড়ুয়া শহরতলীর শহীদগঞ্জ মহল্লার বর্ষণ, রুদ্র ও সৈকত বলেন, বিকেল হলেই আমরা এখানে যমুনার স্নিগ্ধ বাতাসে গা জুড়াতে  ছুটে আসি। প্রতিটা ছুটির দিনেই আসি, একদিন হার্ড পয়েন্টে, কোনোদিন ৩ নম্বর ক্রসবার বাঁধ আবার কোনো দিন অন্য ক্রসবার বাঁধে ছুটে যাই। এখানে এসে যমুনার বুকে ছলাৎ ছলাৎ টেউ তুলে নৌকা চলাচলের দৃশ্য দেখে মন জুড়ে যায়।

জান্নাতুল ফেরদৌস নামে একজন স্কুল শিক্ষিকা বলেন, প্রতিটি মানুষের কাজের পাশাপাশি চিত্ত বিনোদনের প্রয়োজন আছে। আর বিনোদনের জন্য সিরাজগঞ্জের চারটি ক্রসবার বাঁধের মতো সুন্দর জায়গা আর হয় না। হার্প পয়েন্টে দাঁড়ালেই চোখে ভেসে ওঠে যমুনা রেলওয়ে ব্রীজরে উপর দিয়ে রেল গাড়ী চলাচালের নয়াভিরাম দৃশ্য। শিুদের জন্যও রয়েছে শিশুপার্কে বিনোদনের ব্যবস্থা।

সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় আগ্রাসী যমুনা অপর সৌন্দর্যে পরিণত হয়েছে। এখানে এখন হাজার হাজার মানুষ এখানে এসে নির্মল বিনোদন উপভোগ করে।

সজিব

×