ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পৃথক দুটি স্থানে কয়েক দফায় সংঘর্ষ, আহত ৬৫

নিজস্ব সংবাদদাতা,ফরিদপুর

প্রকাশিত: ০৯:৩৯, ২ এপ্রিল ২০২৫

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পৃথক দুটি স্থানে কয়েক দফায় সংঘর্ষ, আহত ৬৫

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পৃথক স্থানে দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৬৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ এড়াতে উভয় স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল থেকে রাত দশটা পর্যন্ত উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রাম ও তুজারপুর ইউনিয়নের সরাইবাড়ি গ্রামে দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

এর মধ্যে ভাঙ্গা উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মনসুরাবাদ গ্রামে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। উপজেলার হামিরদি ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রামে মঙ্গলবার বিকেলে শুরু হয়ে এ সংঘর্ষ সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামিরদী ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার বাবর আলী ও বর্তমান মেম্বার আলম মোল্লার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মনসুরাবাদ গ্রামে সংঘাত ও সংঘর্ষ চলে আসছিল। এসব ঘটনায় দুপক্ষের মধ্যে কয়েকটি মামলা মোকদ্দমা চলছে। ঈদের দিন রাতে আলম মোল্লার পক্ষের মাজহারুল ইসলাম নামের একজনকে বাবর আলী পক্ষের লোকজন মারধর করে।

এর জের ধরে ঈদের পরদিন মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকালে বাবর আলী ও আলম মোল্লার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ব্যাপী দুই পক্ষের প্রায় কয়েক হাজার সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু করে। এ সময় ইট ও সড়কির আঘাতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় মনসুরাবাদ বাজারে কমপক্ষে ১৫টি দোকান ভাংচুর, মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে ৪ জনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে।

এদিকে, উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের সরাইবাড়ি গ্রামে খাঁ গোষ্ঠীর সাথে তালুকদার গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। গ্রামের কবির খাঁ ও হাবি তালুকদার এই দুই গ্রুপের নেতৃত্ব দেন। ঈদের দিন রাতে কবির খাঁর এক আত্মীয় বাড়ি যাওয়ার পথে হাবি তালুকদারের লোকদের সাথে তার কথা কাটাকাটি পরে হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে ঈদের পরদিন মঙ্গলবার সকালে উভয় গ্রুপের লোকজন ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সকাল থেকে চলা সংঘর্ষ দফায় দফায় রাত ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ১৫ জন আহত হন এবং দুই পক্ষের ছয়টি বাড়ি-ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের আহত ১০ জনকে ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পৃথক স্থানে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উভয়স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আফরোজা

×