
ছবিঃ সংগৃহীত
মোবাইল ব্যবহার করতে নিষেধ করায় নামাজরত অবস্থায় বাবাকে ছুরিকাঘাত করে মেরে ফেলল ছেলে। কতোটা নৃশংস এ কাজ। দেশে বর্তমানে হাজারো নৃশংসতার জঘন্য দৃষ্টান্তের একটি এটি। এভাবে সন্তানের কাছে বাবা, বাবা-মায়ের কাছে সন্তানও এখন অনিরাপদ হয়ে গেছে। ভাই-ভাই, ভাই-বোন কলহ তো নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর বিবাদ তো হারহামেশা ঘটছে। পারিবারিক বন্ধন এখন ঠুনকো হয়ে গেছে। আর বংশের বন্ধন তো গেছে ছিন্নভিন্ন হয়ে। মানব সভ্যতার আদি সংগঠন হচ্ছে পরিবার। পরিবার থেকেই গড়ে উঠে সমাজ। সুন্দর ও সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠায় আদর্শিক পরিবার অপরিহার্য। পারিবারিক বন্ধন ছিল আমাদের গর্ব। কিন্তু গত এক যুগের ধারাবাহিক সামাজিক অস্থিরতায় মানুষের সকল বন্ধন যেন ছিন্ন হয়ে গেছে। সহিংসতা পৌছেছে শেষ প্রান্তে। সব যেন অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।
বাড়ি-ঘর, পরিবার, মহল্লা, গ্রাম, সমাজ ভিত্তিক বন্ধন, সামাজিকতা সব যেন বন্ধনহীন হয়ে গেছে। অসুস্থ সংস্কৃতির অস্থির ধারা বহমান গোটা দেশে। তারপরও সমাজে কিছু কিছু কর্মকান্ড প্রশংসা কুড়ায়। শেখায় অনেক কিছু। সেখায় করণীয় দিকগুলো। যোগায় প্রেরণা। যা হয়ে ওঠে একে অপরের জন্য অনুকরণীয়। আর এমন এক অনুষ্ঠান ছিল আলিফ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বংশ কিংবা গোষ্ঠীর বন্ধন ধরে রাখার এক মিলনমেলা। সাত পুরুষের অস্তিত্ব ধরে রাখতে শেকড়ের সন্ধানে কলাপাড়ার ঐতিহ্যবাহী সিকদার পরিবারের মিলনমেলায় দেখা গেল বন্ধন কতো জরুরি প্রয়োজন।
বাবার বাবা, তার বাবা, এভাবে সাত পুরুষকে প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে ঐক্যের বন্ধনে দৃঢ়তার সঙ্গে আকড়ে রাখার যেন এক নিরন্তর চেষ্টা। অসহিষ্ণু মানসিকতার মানুষের কাছে, পরিবারের কাছে, গ্রামভিত্তিক সমাজের কাছে একটি উদাহরণ সিকদারদের প্রতিষ্ঠিত আলিফ ফাউন্ডেশন। দৃঢ় এই পারিবারিক বন্ধন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোর পথ দেখাবে। সফলতার সঙ্গে কলাপাড়া পৌরশহরের বড় সিকদার বাড়িতে ঈদ পরবর্তী মিলনমেলায় কয়েক হাজার সিকদারদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে পারিবারিক বন্ধনের দৃঢ়তার জানান দেওয়া হয়েছে। পরিবারটির শত শত নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর সব বয়সীদের ছিল প্রাণ খোলা উপস্থিতি। অনুষ্ঠানে অন্তত দুই শ’ বছর ধরে আজ অবধি সিকদার বংশের প্রদীপ জ্বালানো পরকালীন-ইহকালীন মানুষগুলোর কৃতকর্ম তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শান্তি কামনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিকদার পরিবারের কৃতিমান মানুষ হাজী হুমায়ুন সিকদার। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আলিফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি গণমাধ্যম কর্মী এসএম মোশারফ হোসেন সিকদার। অন্যান্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিকদার পরিবারের স্বজন বরিশালের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আহসান হাবিব মিলন, ইঞ্জিনিয়ার মো. নাসির উদ্দিন, শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক আব্দুল করিম মোল্লা, চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লেফটেন্যান্ট (অব.) এসএম মকবুল হোসেন, কলাপাড়া বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি নুরুল হক মুন্সী, বিএনপি নেতা গাজী মো. ফারুক, সিকদার পরিবারের সদস্য হাসানুজ্জামান সিকদার, সিকদার আব্দুর রব মাস্টার, জাকির হোসেন সিকদার, আবু জাফর সিকদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এসএম জাকির হোসেন সিকদার ও প্রভাষক মুহাম্মদ রেজাউল করিম কেনান।
সিকদার পরিবারের বন্ধনকে আকড়ে রাখার সেতু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন আলিফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি এসএম মোশারফ হোসেন মিন্টু সিকদার জানান, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সাত পুরুষকে সকল প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এই বংশের প্রবীণ থেকে কিশোরদের চেনানো হয়েছে সাত পুরুষের কর্মকান্ড। পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ তো দূরের কথা বংশগত বিরোধে কখনো জড়ানো যাবে না, এমন ম্যাসেজ দেওয়া হয়েছে। শুধু সিকদারদের বন্ধন নয়, এই বন্ধনের মধ্য দিয়ে কলাপাড়ার সমাজ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান তারা। তাদের গড়ে তোলা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কলাপাড়ার সমাজ ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নকে আরো এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ়তা ব্যক্ত করলেন জনাব মোশারফ হোসেন। সিকদারদের মিলনমেলার এই অনুষ্ঠান ছিল বর্তমান অস্থির সমাজ ব্যবস্থার জন্য এক অনুকরণীয় দিক। সবার কাছে বিষয়টি প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মারিয়া