
ছবি : মেজবাহউদ্দিন মাননু
ঈদের পরদিন সকাল থেকে কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল নেমেছে। সৈকতের শুন্য পয়েন্টের দুই দিকে তিন কিলোমিটার জুড়ে পর্যটকে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে কুয়াকাটামুখি পর্যটকের ঢল নামে। আগতরা চৈত্রের তাপদাহ উপেক্ষা করে কুয়াকাটা সৈকতে ভিড় জমায়। হাজার হাজার পর্যটক সাগরের লোনা পানিতে গোসলে মত্ত হয়ে পড়েন।
ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালি করে তারা উপভোগ্য সময় কাটান। সৈকতের বেলাভূমে ঘুরছেন তারা। কেউ বা ঘোড়ায় চড়ছেন। কেউবা মোটরসাইকেলে ঘুরছেন দীর্ঘ সৈকতের এপ্রান্ত ওপ্রান্ত। নিশাত পারভীন নামের এক পর্যটক জানালেন, কুয়াকাটা সৈকতের বেলাভূমে হাঁটার আলাদা অনুভূতি। তবে খালি পায়ে হাটতে হবে। এ এক অন্য প্রশান্তি। পায়ের পাতায় লোনা পানির ঝাপটা। পায়ের নিচের বালু পানির টানে আস্তে আস্তে ঝিরিঝিরি করে সরে যাওয়া। এটি বোঝানো যাবে না।
ভর দুপুর থেকে পর্যটকের উপচেপড়া ভিড় রয়েছে। তারা রাখাইন পল্লী, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, সীমা বৌদ্ধ বিহার ঘুরে দেখছেন। মিস করছেন না লাল কাঁকড়ার বেলাভূমি গঙ্গামতি সৈকত ভ্রমণে। পর্যটকের উপচেপড়া ভিড় কে পুঁজি করে হোটেল মোটেল মালিকরা আগেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। তারা আগতদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার কথা জানালেন। তবে খাবার হোটেল গুলোয় অনেক বেশি দাম নেওয়ার কথা জানালেন অসংখ্য পর্যটক। একই অভিযোগ ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ও অটোবাইক চালকদের বিরুদ্ধে। এদের বিরুদ্ধে অসদাচরণেরও অভিযোগ উঠেছে। কিশোর বাইকারদের বেপরোয়া চলাচল নিয়ে পর্যটকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পর্যটকের এমন উপচেপড়া ভিড় আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত থাকবে বলে জানালেন কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি মোতালেব শরীফ।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও মহিপুর থানা পুলিশের সকল প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানালেন কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো রবিউল ইসলাম। পর্যটকের এমন উপচে পড়া ভিড়ে কুয়াকাটার বিভিন্ন পেশার ব্যবসায়ীরা বেশ স্বস্তি প্রকাশ করেন। এক কথায় কুয়াকাটা এখন পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত রয়েছে।
আঁখি