
যানবাহনের চাপ থাকলেও নেই কোনো যানজট
ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ। শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও যমুনা সেতু মহাসড়কের যানবাহনের চাপ থাকলেও নেই কোনো যানজট। কোথাও কোনো ভোগান্তি ছাড়াই স্বস্তিতে ফিরছেন যাত্রীরা। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও স্বাভাবিক গতিতেই চলছে যানবাহন।
শুক্রবার সকালে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেকটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকালে যানবাহনের চাপ অন্য দিনের তুলনায় বেড়েছে। তবে মহাসড়কে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। মহাসড়কে কোনো যানজট নেই। যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন।
এদিকে মহাসড়কে গণপরিবহনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল অনেক বেশি চলাচল করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বুধবার (২৬ মার্চ) রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) রাত ১২টা পর্যন্ত যমুনা সেতু দিয়ে ৬ হাজার ১৯৫টি মোটরসাইকেল পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে তিন লাখ নয় হাজার ৭৫০ টাকা। ঈদের দিন-ক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ততই বাড়ছে। তবে স্বাভাবিক গতিতেই যানবাহন চলাচল করছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বাসেক) যমুনা সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় এ সেতু দিয়ে ৩৫ হাজার ২২৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে দুই কোটি ৬৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদযাত্রায় মহাসড়কে দ্বিগুণ হয়েছে যানবাহনের সংখ্যা। যাত্রীবাহী বাস ছাড়াও ট্রাক, পিকআপ, বিভিন্ন সড়কের লোকাল বাস, লেগুনায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। যানবাহনে করে গন্তব্যে যাচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও পুরুষরা। পাশাপাশি যাত্রী পরিবহন করছে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ এবং ট্রাফিক পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।
জানা যায়, মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে কালিহাতীর এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেন সুবিধা থাকলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত
চারলেন প্রকল্পের দুই লেনের কাজ চলমান রয়েছে। যার ফলে চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে আসতে পারলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার রাস্তায় ভোগান্তির আশঙ্কা ছিল। কিন্তু এবার সার্ভিস লেন খুলে দেওয়ায় সেই আশঙ্কা দূর হয়ে যায়।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ শরীফ জানান, মহাসড়কে স্বাভাবিকভাবেই যানবাহন চলাচল করছে। রাস্তায় যানবাহনের চাপ থাকলেও কোনো যানজট নেই। যানজট যাতে না হয় সেজন্য হাইওয়ে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা নিরলসভাবে কাজ করেছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে মহাসড়কে সাড়ে সাতশ’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বাসেক) যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির পাভেল জানান, ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশে নয়টি করে মোট ১৮টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। এ ছাড়া দুই পাশেই মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা দুটি করে বুথ রয়েছে। এতে নির্বিঘেœ মানুষ যাতায়াত করতে পারছেন।