ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ ২০২৫, ১৩ চৈত্র ১৪৩১

ঈদযাত্রায় স্বস্তি

উত্তরাঞ্চলের মহাসড়কে ৪ লেন যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ও নিজস্ব সংবাদদাতা গাইবান্ধা

প্রকাশিত: ০১:৩২, ২৬ মার্চ ২০২৫

উত্তরাঞ্চলের মহাসড়কে ৪ লেন যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত

উত্তরাঞ্চলের মহাসড়কে ৪ লেন যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত

সাউথ এশিয়া সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশনের (সাসেক)-২ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের চলাচলের জন্য মূল ৪ লেন উন্মুক্ত করে দিয়েছে। ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতেই খুলে দেওয়া হয়। এতে ঢাকা  থেকে রংপুর পর্যন্ত আসতে  অন্তত ২ ঘণ্টা সময় কমে এসেছে।

মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, চারলেন উন্মুক্ত হওয়ায় ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীবাহী কোচ ও ট্রাকগুলো  যানজটের ভোগান্তির শিকার হচ্ছে না। নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার সঙ্গে আনুপাতিক হারে একই রকম সময় লাগে সড়কপথে যাতায়াত করতে। এ ভোগান্তির অবসান হয়েছে।
শ্যামলী পরিবহনের চালক আফছার আলী, এসআই পরিবহনের চালক রাকিবুল ইসলাম ও সুপারভাইজার ফরহাদ আলী, হানিফ পরিবহনের চালক মোকাদ্দেস, নাবিল পরিবহনের সুপারভাইজার রায়হানসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও সুপারভাইজাররা জানান, এ মহাসড়ক তাদের কাছে যানজটের অপর নাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। ঈদযাত্রায় উত্তরাঞ্চলের মহাসড়কের চারলেন চালু করায় এ পর্যন্ত এবার 
স্বস্তিতে যাতায়াত করছেন। যাত্রী সাধারণেরও কোনো অভিযোগ শুনতে হয়নি। তারা আরও জানান মহাসড়কে এলেঙ্গা থেকে সেতুমুখী সাড়ে ১৩ কিলোমিটারে একমুখী যাওয়া এবং ঢাকামুখী পরিবহনগুলো ভূঞাপুর হয়ে মহাসড়কে যুক্ত হওয়ায় যানবাহনগুলো একমুখী সুবিধা পেয়েছে। ফলে মহাসড়কে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

এ ছাড়া লিংক রোডগুলোর মুখ প্রশস্তকরণ ও যথোপযুক্ত ব্যবহার করায় এবার মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পেরেছেন। মহাসড়কে যাতায়াতকারী বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রী শহিদুল, সাথী বেগম, সাদ্দাম হোসেন, বকুল তরফদার, কাকলী আক্তারসহ অনেকেই জানান, গত ঈদে তারা ৭-৮ ঘণ্টার যানজটে পড়েছিলেন। এবার মহাসড়কে যানজট না থাকায় সাচ্ছন্দ্যে বাড়ি যেতে পারছেন।
হাইওয়ে পুলিশ বলছে, যানজটের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির স্থান  গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ীতে। তবে সব ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকের প্রায় চার হাজার সদস্য। সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে আর্মড পুলিশ সদস্যরাও কাজ করছে। এ ছাড়া স্থায়ী এবং অস্থায়ী টিমের পাশাপাশি বিকল যানবাহন দ্রুত সরিয়ে নিতে রেকারও রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,  টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে উত্তরাঞ্চলের বগুড়া, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ি পীরগঞ্জ হয়ে রংপুরের মডার্ন মোড় পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয় লেন খুলে দেওয়ায় উত্তরের জেলাগুলোর সড়ক যোগাযোগ সহজ হয়েছে। 
সাউথ এশিয়া সাবরিজিওনাল ইকোনমিক কো- অপারেশনের (সাসেক)-২ ৮এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহসিন হাওলাদার জানান, ১৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে এমন আশা করা যাচ্ছে। 
এ সড়ক পথের কাজ স¤পূর্ণ শেষ হলে রংপুর বিভাগের ৮ জেলার সঙ্গে যাত্রী পরিবহনের সময় গড়ে আড়াই ঘণ্টা কমে আসবে।

×