
ছবি: ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় দশম শ্রেণী পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে হৃদয় হোসেন (২৫) নামের এক বখাটে যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালজানা গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে হৃদয়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া যুবক ওই গ্রামের আজিজ খাঁর ছেলে।
আদালতে দাখিলকৃত মামলা সূত্রে জানা যায়, স্কুলে যাওয়া আসার সময় আসামী হৃদয় রাস্তাঘাটে ভিকটিমকে প্রায়ই উত্যক্ত করতো। এতে কোন সাড়া না পাওয়ায় গত ১৩ মার্চ রাতে ওই স্কুলছাত্রী প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে ঘরের বাহিরে গেলে আসামী হৃদয় স্কুলছাত্রীর মুখমন্ডলে চেতনানাশক মেডিসিন দিয়ে তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে ধর্ষন করে।
তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কয়েক দিন পর স্কুলছাত্রীকে তার পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেয়।
তার বড় ভাই মামলার বাদী বলেন, হৃদয় আমার বোনকে ফেরত দেওয়ার পর প্রথমে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কয়েকদিন ভর্তি থাকার পর বোনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে জাতীয় মানসিক হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
বিষয়টি শিবালয় থানা পুলিশে জানানো হলে তারা কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেন। পরে কোর্টে মামলা করা হয় বলে জানান তিনি।
ভিকটিমের মা জানান, ৫ মেয়ে আর এক ছেলেকে নিয়ে তার সংসার। ওদের বাবা মারা যাওয়ায় অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করতে হয়। ওই মেয়েটা সবার ছোট।
এরি মধ্যে এই ঘটনা ঘটে গেলো। ঢাকা নিয়ে মেয়েকে চিকিৎসা করার মতো কোন টাকাও নেই। মেয়ের এই অবস্থার জন্য দায়ী ব্যক্তির সর্ব্বোচ শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এই বিষয়ে ভুক্তভোগীপক্ষের আইনজীবী খন্দকার সুজন হোসেন বলেন, স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের বিষয়ে ২৩ই মার্চ নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে মিস পিটিশন মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে শিবালয় থানা পুলিশকে অভিযোগটি এফ.আই.আর করার নির্দেশ দিলে পুলিশ মামলার প্রধান আসামী হৃদয়কে গ্রেফতার করে।
এতে করে ভিকটিম ন্যায় বিচার পাওয়ার পথ সুগম হয় এবং সেই সঙ্গে ভিকটিমের পক্ষে বিনা খরচে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ওই আইনজীবী।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, আদালতের নিদের্শে এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ভিকটিমকে ধর্ষণের বিষয়টি শিকার করেছে। এ ঘটনায় যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিলা ইসলাম