ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২৯ মার্চ ২০২৫, ১৫ চৈত্র ১৪৩১

নিভেছে সুন্দরবনের আগুন, তদন্ত কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট 

প্রকাশিত: ০০:১৫, ২৫ মার্চ ২০২৫

নিভেছে সুন্দরবনের আগুন, তদন্ত কমিটি গঠন

ছবি: জনকণ্ঠ

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শাপলার বিল এলাকার আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বিক্ষিপ্ত কয়েকটি স্থানে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেলেও সেখানে পানি ছিটানো হচ্ছে।

সোমবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় ‘আগুন পুরোপুরি নিভে গেছে’ বলে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম জানিয়েছেন। তবে কী পরিমাণ জায়গার বনাঞ্চল পুড়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি বন বিভাগ।

খুলনা বিভাগীয় বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ বলেন, ফায়ার সার্ভিস, সেচ্ছাসেবক, বন বিভাগসহ পার্শ্ববর্ত্তী জনসাধারণের সমন্বিত সর্বোচ্চ চেষ্টায় সুন্দরবনের গুলিশাখালীর শাপলার বিল এলাকার আগুন ‘নিভে গেছে’। জায়গাটি খুবই দুর্গম হওয়ায় এবং পানির উৎস্য প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় আগুন নেভাতে খুব বেগ পেতে হয়েছে। তাছাড়া ভোলা নদীর নাব্যতা না থাকায় জোয়ারের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। রাতেও পর্যবেক্ষণসহ প্রয়োজনে নির্বাপন কাজ চলবে। এদিকে চাঁদপাই রেঞ্জের তেইশের ছিলা-শাপলার বিল এলাকায় আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরুপণে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দিপন চন্দ্র দাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এই নিয়ে বনের আগুনের ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে রবিবার সকালে গুলিশাখালীতে আগুন লাগে। ড্রোন উড়িয়ে স্থান নির্নয়ের পর সেখানে ছুটে যান বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। ওইদিন দিনভর আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করা হয়। এরপর রাত থেকে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করতে থাকে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট। সহযোগিতা করেন গ্রামবাসীরাও। তার আগে অপরদিকে, শনিবার (২২ মার্চ) দুপুরে বনের কলমতেজী এলাকায় লাগা আগুন সন্মিলিত চেষ্টায় রবিবার নিভে যায়। আগুনে কলমতেজী এলাকার ৩-৪ একর বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। তবে দ্বিতীয় দফায় গুলিশাখালীতে কী পরিমাণ জায়গার বনাঞ্চল পুড়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি বন বিভাগ। তদন্ত করে পরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো হবে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।

ধানসাগর স্টেশনের তেইশের ছিলা ও শাপলার বিল এলাকায় লাগা আগুন প্রায় অর্ধ কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। সোমবার দুপুরের দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ ও স্বেচ্ছাসেবকরা সম্মিলিত ভাবে অগ্নি নির্বাপনের কাজ করছেন। কেউ পানি ছেটাচ্ছেন, কেউ কাঁচা গাছের ডাল কেটে পিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন, আবার কেউ ধোঁয়া ওঠা স্থান পাড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে তখনও বিভিন্ন স্থান থেকে সুপ্ত আগুন জ্বলছিল। 

পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী নুরুল করিম বলেন, গুলিশাখালীতে লাগা আগুন সোমবার বিকেলে পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়েছে। তারপরও বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আরও পানি ছিটানো হচ্ছে, যাতে নতুন করে আগুনের সূত্রপাত না ঘটে। আর কলমতেজীতে এখন আর কোনো আগুনের অস্তিত্ব নেই। তবুও ড্রোনের মাধ্যমে ওই এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

ফায়ার সার্ভিসের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (এডি) মো. আবু বক্কর জামান বলেন, সুন্দরবনের আগুন নেভাতে খুলনা ও বাগেরহাটের ১০টি ইউনিট কাজ করছে।’

প্রসঙ্গত: পরপর দুই দিনে পৃথক দুটি এলাকায় অগ্নিকা- মিলিয়ে নিয়ে গত ২৩ বছরে সুন্দরবনে ২৮ বার লাগার ঘটনা ঘটেছে।

শহীদ

×