
সেলাই মেশিনের অবিরত ঝরঝর শব্দ। কর্মব্যস্ত নারী-পুরুষ একের পর এক সেলাই করে চলেছেন নতুন পোশাক। এই ঈদকে সামনে রেখে ধনী- গরীব সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাদের নতুন পোশাকের সন্ধানে। আর তাদের চাহিদা জোগান দিতে গিয়ে আরো বেশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন দর্জিরা। ফ্যাশন সচেতন নারী-পুরুষ ভিড় জমাচ্ছেন নামিদামি টেইলার্সগুলোতে। আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের পোষাক তৈরীতে মেতে উঠেছেন তারা। কাজের চাপে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন দর্জিরা। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার দর্জি দোকানের কারিগররা। একটি প্রবাদ আছে, “গডস্ ক্রিয়েটস্ এ ম্যান, বাট টেইলর ক্রিয়েটস্ এ জেন্টলম্যান।” অর্থাৎ ঈশ্বর মানুষ তৈরি করেছেন কিন্তু ভদ্র মানুষ তৈরি করেন দর্জি।সরেজমিনে দেখা গেছে, জোরারগঞ্জের শুভ টেইলার্স, বৈশাখী টেইলার্স, শতরূপা টেইলার্স, বারইয়ারহাটের ফেমাস টেইলার্স, সেঞ্চুরী টেইলার্স, সবুজ টেইলার্স, মীরসরাইয়ের নিতুল টেইলার্স, প্রিয়াঙ্কা টেইলার্স, মিঠাছরার আলফা, সানমুন, মজুমদার টেইলার্স, বড়দারোগারহাটের এলিগেন্স টেইলার্সসহ বিভিন্ন টেইলার্সের কারিগররা ক্রেতাদের রুচি অনুযায়ী পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
নারী ও পুরুষ দর্জিরা একত্রে সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্টসহ নানা পোশাক তৈরি করছেন। পাড়ামহল্লার ছোট দর্জি দোকানগুলোতেও ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো।
জোরারগঞ্জ বাজারের শুভ টেইলার্সের ১৫ জন কারিগর প্রতিদিন গড়ে ১০-১২টি পোশাক সেলাই করছেন। কারিগর মিলন নাথ, ঊষা, রিপন, অভি, রুবেল ও জীবন নাথ জানান, প্রচুর কাজের চাপে দিনে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি সময় ধরে কাজ করতে হচ্ছে। কাপড়ের দাম বেড়েছে, কিন্তু মজুরি খুব বেশি বাড়েনি। এদিকে অতিরিক্ত কাজের চাপে তারা বিশ্রাম নিতে পারছেন না। ঈদ আনন্দের সঙ্গে তাদের ব্যস্ততাও বেড়েছে বহুগুণ।
রহমানিয়া মিনি গার্মেন্টসের সত্ত্বাধীকারী মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “প্রতিদিন প্রচুর অর্ডার পাচ্ছি। যারা ভিন্ন ডিজাইনের ও ফিটিং পোশাক পছন্দ করেন, তারাই মূলত আমাদের কাছে আসেন। রমজানের শুরু থেকেই অর্ডার নেয়া শুরু হয়েছে, যা চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত।
মোঃ মহিউদ্দিন, জসীম উদ্দিন ও আখতারুজ্জামান সুমন জানান, তারা ছোটবেলা থেকেই দর্জির কাছে শার্ট-প্যান্ট তৈরি করান। এবারও তিন থেকে চার সেট পোশাক বানিয়েছেন। তবে দর্জিরা এবার মজুরি কিছুটা বেশি নিচ্ছেন বলে জানান তারা।
ফারিয়া নামের এক নারী ক্রেতা বলেন, “রেডিমেড পোশাকের দোকানে একই ডিজাইনের অনেক পোশাক পাওয়া যায়, যার ফলে স্বাতন্ত্র্য থাকে না। তাই আমি প্রতি ঈদেই নিজের পছন্দমতো কাপড় কিনে দর্জির কাছে বানিয়ে নিই।”
এ বছর জর্জেট, কাতান সিল্ক, ভেলভেট, নেট, তসর, টিস্যু, জরি, চুমকি, কুন্দনের কাজ করা পোশাকের চাহিদা বেশি। পাশাপাশি সুতি কাপড়ের পোশাকের বাজারও ভালো রয়েছে বলে জানান টেইলার্স মালিকরা।
রাজু