
.
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ও সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরসহ বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরেই অহরহ উল্টোপথে চলছে অবৈধ নানা ধরনের যানবাহন। উল্টোপথে অটোরিক্সা, মিশুক, ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও সিএনজিসহ থ্রি হুইলার যানবাহন চলাচল নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্টোপথে এসব অবৈধ যানবাহন চলাচল করায় একদিকে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে অন্যদিনে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসসহ নানা ধরনের দ্রুতগামী যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। মহাসড়কে (হাইওয়ে) উল্টোপথে যানবাহন চলাচল করায় দিন দিন ক্ষুব্ধ হচ্ছে দূরপাল্লা যাত্রী ও চালকরা। রোধ হচ্ছে না সড়ক দুর্ঘটনায়ও। ফলে দিন দিন প্রাণহানির সংখ্যাও বাড়ছে। কিছুতেই থামছে না উল্টোপথে চলাচল। হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই এসব অবৈধ যানবাহন মহাসড়কে উল্টোপথে চলাচল করায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতনমহল প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সর্বশেষ গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অটোরিক্সার সংঘর্ষে মা-ছেলেসহ অটোরিক্সার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। জরুরি ভিত্তিতে উল্টোপথে এসব যানবাহন চলাচল বন্ধ করাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান, স্থানীয়রা। শুক্রবার দুপুরে শিমরাইল ও কাঁচপুরে সরেজিমনে গিয়েও উল্টোপথে অবৈধ যানবাহনগুলো চলতে দেখা গেছে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহসড়ক অতিক্রম করেছে। এ দুটি মহাসড়কের সাইনবোর্ড, মৌচাক, শিমরাইল, কাঁচপুর, মদনপুর, লাঙ্গলবন্দ, মোগড়াপাড়া, যাত্রামুড়া,
তারাব ও রূপসীসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। এ বাসস্ট্যান্ডগুলো অতিক্রম করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ১৮টি জেলার দূরপাল্লার যাত্রীবাসসহ নানা ধরনের যানবাহন বিভিন্ন জেলায় চলাচল করছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এ মহাসড়কের শিমরাইল থেকে কাঁচপুর, শিমরাইল থেকে সাইনবোর্ড, মৌচাক, মদনপুর থেকে কাঁচপুর, মদনপুর থেকে লাঙ্গলবন্দ, কেওঢালা, কাঁচপুর থেকে যাত্রামুড়া, তারাব, রূপসী ও মোগড়াপাড়া পর্যন্ত অবৈধভাবে প্রকাশ্যে উল্টোপথে চলছে অবৈধ যান অটোরিক্সা, মিশুক, ব্যাটারি চালিত রিক্সা ও সিএনজিসহ থ্রি হুইলার যানবাহন। উল্টোপথে এসব অবৈধ যানবাহন চলাচল করায় একদিকে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে অন্যদিকে দূরপাল্লার যাত্রীবাহীবাসসহ নানা ধরনের দ্রুতগামী যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। খবর নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অটোরিক্সার সংঘর্ষে মা কাকলি বেগম (৩৫) ও তার পাঁচ বছরের শিশু পুত্র আরিয়ান আহম্মেদ রাফি (৫) এবং অটোরিক্সার চালক আনিছুর রহমান (২৩) নিহত হন। আবার ২০২২ সালের ৯ অক্টোবর শিমরাইল থেকে কাঁচপুরে উল্টোপথে যাওয়ার সময় একটি অটোক্সিার সঙ্গে মাইক্রোসের মুখোমুখী সংঘর্ষে ৫ জন যাত্রী নিহত হন। এ ছাড়াও প্রতিনিয়ত উল্টোপথে যানবাহন চলাচল করায় দু’একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। এতে অনেকই প্রাণ হারাচ্ছেন এবং পুঙ্গত্ববরণ করছেন। তারপরও এখনো উল্টোপথেই চলছে এসব অবৈধ যানবাহন। কিছুতেই পুলিশ প্রশাসন উল্টোপথে চলাচল বন্ধ করতে পারছে না।
শিমরাইলের দোকানি রোমান মিয়া বলেন, দীর্ঘ ৫ বছর থেকে ৬ বছর ধরে শিমরাইল থেকে কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত উল্টোপথে দুই থেকে তিন শতাধিক অবৈধ অটোরিক্সা, মিশুক, ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও সিএনজিসহ থ্রি হুইলার যানবাহন চলাচল করছে। যা প্রকাশ্যেই নির্বিঘেœ চলাচল করছে। এতে যে কোনো ঘটতে পারে সড়ক দুর্ঘটনা। এ রুটের অটোচালক সামাদ মিয়া বলেন, শিমরাইল থেকে কাঁচপুর, মদনপুর পর্যন্ত উল্টোপথেই দুই থেকে তিন শতাধিক অটোরিক্সা, মিশুক, ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও সিএনজি চলাচল করছে। আমি ৫ বছর ধরে অটো চালাচ্ছি। শিমরাইল থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত বড় অটো ৬ জন ও শিশুক ৪ জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। আরেক মিশুক চালক আব্দুল খালেক বলেন, ৪ বছর ধরে কাঁচপুর থেকে শিমরাইল পর্যন্ত এ পথেই চালাচ্ছি। ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও যাত্রী নিয়ে পেটের দায়ে চালিয়ে যাচ্ছি। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ অফিসে কর্মরত একজন আনসার সদস্য বলেন, প্রতিদিনই বাধাহীনভাবে অটোরিক্সা, ব্যাটারিচালিত রিক্সা, মিশুক ও সিএনজিসহ নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। মহাসড়কে এ সকল অবৈধ যান চলাচল করাই নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তারা অবাধে চলাচল করছে। এমনকি উল্টোপথেই তারা যাত্রী নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলাচল করছে। এতে মাঝে মধ্যেই ঘটছে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বিশেষ করে রাতে বেলা উল্টোপথে চলাচল আর বিপজ্জনক হয়ে পড়ছে। কাঁচপুরের বাসিন্দা আব্দুল কাদির বলেন, মহাসড়কে অটোরিক্সা, মিশুক, ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও সিএনজিসহ থ্র্রি হুইলার গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ। কিছুতেই এ সকল অবেধ যান মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারে না। কিন্তু তারপরও হাইওয়ে পুলিশের সামনেই এগুলো চলাচল করছে। এতেও তারা ক্ষ্যান্ত হননি এখন দীর্ঘদিন ধরেই চলছে উল্টোপথেও। উল্টোপথে চলাচল খুবই বিপজ্জনক। ঘটছেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তিনি বলেন, আমাদের দেশের কোনো নিয়ম আছে বলে মনে হয় না। এ অবৈধ যানবাহন চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করা প্রয়োজন। তানা হলে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে পারে। এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী ও য়াহিদ মোরশেদ বলেন, মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচলের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমরা এগুলো বন্ধের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে এ বিষয়ে চালক ও যাত্রীসহ সমাজের সকলকে সচেতন হতে হবে।