ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০১ মার্চ ২০২৫, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১

জনবল সংকটে সেবা বঞ্চিত বাঞ্ছারামপুর পৌরবাসী

১৫৫ জনের স্থানে কাজ করছে ১১ জন

কাজী খলিলুর রহমান, বাঞ্ছারামপুর

প্রকাশিত: ২২:০৮, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

১৫৫ জনের স্থানে কাজ করছে ১১ জন

ছবি: সংগৃহীত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা গঠনের এক যুগ পার হলেও জনবলের অভাবে পৌরবাসী নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়ন থেকে ২০১৩ সালে পৌরসভায় গঠন করা হলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে একদিকে যেমন কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, মানুষ অন্যদিকে পৌর এলাকার উন্নয়নের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। 

জানা যায়, পৌরসভা আইন অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির পৌরসভার সাংগঠনিক কাঠামোতে প্রকৌশলী বিভাগ, প্রশাসনিক বিভাগ ও স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পানা বিভাগের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৫৫টি পদে জনবল নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু ছেংগারচর পৌরসভা গঠনের ২৪ বছর অতিবাহিত হলেও স্থায়ী ১১ জন কর্মকর্তার, কর্মচারী দিয়ে চালানো হচ্ছে পৌরসভার কার্যক্রম। এরই মধ্য (অস্থায়ী) ১৫ জনকে দৈনিক মজুরি হিসেবে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

পৌর অফিস সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বদলী হয়ে যান প্রায় এক বছর আগে। সার্ভেয়ার ও উপসহকারী প্রকৌশলী দিয়ে কার্যক্রম চলমান। সহকারী প্রকৌশলী ও শহর পরিকল্পনাবিদ নেই দীর্ঘদিন ধরে। প্রকৌশলী ও শহর পরিকল্পনাবিদ না থাকায় পৌর এলাকার বাড়ি নির্মাতারা প্ল্যান অনুমোদন নিতে পারছেন না। কয়েকশ’ ফাইল জমে আছে। রাস্তা, ড্রেনসহ উন্নয়ন কাজগুলোর টেন্ডার করা যাচ্ছে না। 

ফলে পৌর এলাকায় সব উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। কয়েকশ’ ফাইল জমেছে বাড়ি নির্মাতাদের। অনুমোদন হচ্ছে না। করা যাচ্ছে না রাস্তা, ড্রেন, নির্মাণ কাজ। এমনকি টেন্ডারও আহ্বান করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন নাগরিকরা, তেমনি যে ১১ জন কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে তাদের কাজ করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নজরুল ইসলাম জানান, প্রায় ১ বছর আগে সহকারী প্রকৌশলী বদলী হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে পদায়ন করা হয়নি। বর্তমানে একজন উপ সহকারী প্রকৌশলী ছাড়া পৌরসভায় কোনো প্রকৌশলী নেই। ফলে বিএমডিএফ, ইউজিএফ-৩, এডিবিসহ পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে যে কাজ করার কথা সব মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। 

তিনি আরও বলেন, এ সব কাজ বন্ধ থাকায় জনমনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সরকারেরও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। কয়েকশ’ বিল্ডিং নির্মাণের ফাইল পড়ে আছে অনুমোদনের জন্য। প্রকৌশলী না থাকায় তাও করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় অনেক বিল্ডিং নির্মাতা অনুমোদন না নিয়েই কাজ শুরু করেছেন। এতে পৌরসভা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি যথাযথ তদারকি না থাকায় জনজীবনের ঝুঁকিও বাড়ছে।

পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ খাঁন জানান, বাঞ্ছারামপুর পৌরসভায় এ পর্যন্ত ১১ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এতে পৌরসভার উন্নয়নের কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। 
 

সায়মা ইসলাম

×