ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১

মুন্সীগঞ্জে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যার্থ হয়ে হত্যা, তিনদিন পর মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৩:১৩, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫; আপডেট: ১৩:২০, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

মুন্সীগঞ্জে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যার্থ হয়ে হত্যা, তিনদিন পর মরদেহ উদ্ধার

ছ‌বি: প্রতিকী

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ গুম করে আইক্রিম ব্রিক্রেতা সাব্বির খান(২৪)। রিমান্ডে দেয়া তার তথ্যে নিখোঁজের তিন দিন পর বৃহস্পতিবার (২৭) ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পুকুর থেকে শিশু ফাতেমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা শুক্রবার সকালে আইক্রিম ব্রিক্রেতার বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। শোকে পাথর পুরো পরিবার। পুরো এলাকা জুড়ে শোকাবহ পরিবেশ।

মঙ্গলবার রাতে খালার সাথে বাড়ির পাশের রশুনিয়া নূরানীয়া মোহাম্মদীয়া মাদ্রাসার ১২তম ওয়াজ মাহফিলে যায় ফাতেমা আক্তার। পরে সেখানে থাকবে বলে বায়না ধরলে তার খালা মাদ্রাসাটির নাজেরা বিভাগের ফাতেমার বড় ভাই ইসমাইলের (৯) কাছে তাকে রেখে আসে। কিন্তু ইসমাইল ওয়াজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লে ফাতেমা খেলাচ্ছলে রাস্তার দিকে গিয়ে নিখোঁজ হয়। 

স্থানীয়রা আইসক্রিম বিক্রেতা সাব্বির খানকে সন্দেহভাজন হিসাবে আটক করে পুলিশে দেয়। পরদিন বুধবার ফাতেমার মা বিলকিস বেগম বাদী হয়ে সাব্বিরকে প্রধান অভিযুক্ত করে সিরাজদিখান থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সাব্বিরকে আদালতে উপস্থাপন করলে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

বৃহস্পতিবার রিমান্ডে থাকা কালে রাতে পুলিশের কাছে স্বীকার করে জানায়, ধর্ষণ চেষ্টায় সময় শিশুটি চিৎকার করলে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর পাশের পুকুরের কচুরিপানার নিচে লাশ গুম করা হয়। পরে তারই দেখানো স্থান থেকে থ মরদেহ উদ্ধার হয়।

এদিকে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা শুক্রবার সকালে স্থানীয় তাজপুর গ্রামের অভিযুক্ত আইসক্রিম বিক্রেতার বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। স্থানীয় ও স্বজনরা এই নির্মম ঘটনার অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

পূর্ব রশুনিযা গ্রামের কুয়েত প্রবাসী শহিদুল ইসলামের কন্যা ফাতেমা আক্তার রশুনিয়া মাহমুদিয়া নূরানীয়া মাদরাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্য ফাতেমা সবার ছোট। বাবা ছুটিতে এসে নিখোঁজের  ১৫ দিন আগে কুয়েতে গেছেন। পরিবারটিতে এখন চলছে শোকের মাতম। 

শরিফ

×