
বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষে উৎসাহী হলেও, নতুন প্রজন্মের চাষীরা কিছু বিশেষ ফসল চাষে মনোযোগী হচ্ছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো রোজেলা চা চাষ। সাধারণত হারবাল চা হিসেবে পরিচিত রোজেলা চা স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
নাটোরের খোলাবাড়ীয়া গ্রামের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বানিজ্যিকভাবে গত পাঁচ বছর ধরে রোজেলা চা চাষ ও বাজারজাতকরণ শুরু করেছেন। বর্তামানে তিনি প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে রোজেলা চা চাষ করছেন। যা ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিচিতি পেয়েছে। সময়ের সাথে এর কদর বেড়েই চলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহিদুল ইসলাম কয়েকটি জমিতে রোজেলা চা চাষ করছেন। কোনটিতে ফল তোলা হচ্ছে আবার কোনটিতে ফল আহরণের সময় হয়নি। তার পাশেই রোজলা ফল রোদে শুকাতে দিয়েছেন এবং যত্নসহকারে ভালো মানের ফল বাছাই করছেন। রোদে শুকানোর পর পলিনেটযুক্ত স্থানে পুনরায় ম্বয়ংক্রিয় ড্রায়ার মেশিনে শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করা হচ্ছে।
আবার অনেকে রোজেলা চা চাষে অনুপ্রাণিত হয়ে শহিদুল ইসলামের চাষাবাদ পদ্ধতি, প্রক্রিয়াজাত এবং বাজারজাতকরণ করার বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন।
শহিদুল ইসলাম জানান, বেসরকারি এনজিও থেকে রোজেলা চা চাষের ধারণা নিয়ে ২০১৯ সালে পাঁচ শতক জমিতে রোজেলা চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে রোজেলা চাষ করছেন।
তিনি জানান, রোজেলা গাছ অনেকটা দেখতে পাট গাছের মতো। তবে এই গাছ ও ফলের রং লাল হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট সময়ে রোজেলা ফুল আহরণ করে রোদে শুকানোর পর বীজ থেকে পাপড়ি আলাদা করা হয় এরপর সংক্রিয় ড্রায়ার মেশিনে প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করা হয়। এতে চায়ের মান ও স্বাদ ঠিক থাকে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের আবহাওয়ার সাথে সাযুজ্য রেখে এটি চাষ করা সহজ এবং লাভজনক। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এক কেজি রোজেলা চা সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
তিনি আরও জানান, রোজেলা চা এন্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি ও মিনারেলে সমৃদ্ধ। এটি উচ্চ রক্তচাপ, কোষ্ঠকাঠিন্য, শারীরিক ক্লান্তি এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
নাটোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নীলিমা জাহান জানান, রোজেলা চাষ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় সহযোগীতা দিয়ে আসছে। এটি লাভজনক হওয়ায় উত্তরোত্তর এর চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ জানান, লাভজনক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ রোজেলা চাষে অনেকেই উদ্বৃদ্ধ হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকে উদ্যোক্তা শহিদুল ইসলামকে সহযোগীতা করা হচ্ছে।
শরিফ