
শেষবেলায়ও অনেকটা ফাঁকা বইমেলা প্রাঙ্গণ
একেবারেই শেষ সময়। আগামীকাল শুক্রবার সাঙ্গ হচ্ছে মেলা। এক মাসের আয়োজন নানা ঘটনা-দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে গেছে বটে। আশা করা হয়েছিল শেষ কদিন বই বিক্রি বাড়বে। কিন্তু শুরু থেকে চলা মন্দা অব্যাহত রয়েছে এখনো। ২৬তম দিনে বিক্রি সামান্য বাড়লেও, প্রকাশকরা হতাশ। তারা বলছেন, গত বছরের বইমেলার সঙ্গে তুলনা করলে অর্ধেকে নেমে এসেছে বিক্রি।
আজ বৃহস্পতিবার এবং আগামীকাল শুক্রবার বিক্রি যদি বাড়েও তাতে উচ্ছ্বসিত হওয়ার কিছু থাকবে না। মজার ব্যাপার হচ্ছে, কেন বিক্রি কম, কোথায় সমস্যা ছিল এসব বিষয়ে প্রকাশকরা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজী হচ্ছেন না। বুধবার বিকেলে স্বনামধন্য কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এক কোণে দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন। তখনো ফাঁকা চারপাশ। মানুষজন তেমন আসেনি।
এক প্রকাশক সেদিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, অন্যান্য বছর এই সময়টাতে বই কেনার জন্য হুড়োহুড়ি লেগে যায়। কেউ নিজের জন্য বই কেনেন। কেউ বই কিনতে আসেন পাঠাগার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। অথচ এবার চেনা ছবিগুলো দেখা যাচ্ছে না। আরেক প্রকাশক যোগ করে বললেন, দুইদিন পর মেলা শেষ। অথচ আমাদের স্টলে ব্যস্ততা নেই। গল্প করে অলস সময় কাটাতে পারছি আমরা। এখান থেকেও পরিস্থিতি কিছুটা অনুমান করা যায়।
পরে বেশকিছু স্টল ও প্যাভিলিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বইয়ের বিক্রির পরিমাণ আসলেই অনেক কম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রকাশক বলছিলেন, সারাদেশেই এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। এর প্রভাব মেলায় হয়তো পড়েছে। যাদেরকে আমরা বইয়ের মানুষ বিবেচনা করি তারা মনে হয়েছে কম এসেছেন।
জনপ্রিয় অনেক লেখকও অনুপস্থিত ছিলেন। মানুষের মনে স্বস্তি না থাকায় এমনটি ঘটে থাকতে পারে বলে জানান তিনি। বলেন, তা ছাড়া নিরাপত্তার বিষয়টিও ভাবিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল চিন্তাশীল মানুষদের আশ্বস্ত করার কেউ ছিল না। উল্টো শুরুতেই একধরনের বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছিল মেলা থেকে। প্রাণের মেলায় মানুষ এসব দেখে অভ্যস্ত নন। বই বিক্রি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিক্রি মোটেও ভালো নয়।
বোঝার জন্য বলি, গত বছরের মেলায় আমরা যে পরিমাণ বই বিক্রি করেছি তার অর্ধেক বিক্রি করেছি এবার। আমাদের কিছু পপুলার লেখক আছেন, নামকরা লেখক আছেন। তারপরও অর্ধেক। অন্য অনেকের বিক্রি অর্ধেকেরও নিচে চলে যাবে বলে তার অনুমান। অমর একুশে বইমেলায় শিশু-কিশোরদের যে কোনো বই ভালো বিক্রি হয়। বাবা-মায়েরা সন্তানদের নিয়ে মেলায় আসেন।
তাদের হাতে বই তুলে দেওয়ার একটা সচেতন চেষ্টা দেখা যায়। কিন্তু এবার শিশু চত্বরেও বিক্রি কম। মানসম্পন্ন বইয়ের জন্য পুরস্কার জেতা একটি স্টলে খবর নিতে গেলে বিক্রয়কর্মী মুনতাহা তাবাসসুম বলেন, স্টলে আমরা ছয়জন কাজ করি প্রতিদিন। অন্যান্য বছর ছয়জনকেই ব্যস্ত থাকতে হয়। এবার অভিজ্ঞতা ভিন্ন। বেশিরভাগ সময় ছুটির আমেজে কাটাচ্ছি। শুক্রবার শনিবার কিছুটা বিক্রি হয়। পরে ভাটা। বিক্রি বেশি হলে প্রকাশকের কাছ থেকে বোনাস কিছু আশা করা যায় জানিয়ে তিনি বলেন, এবার সে আশায় গুড়েবালি!
অবশ্য লেখকরা বই বিক্রি বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন। কারও মতে, বইমেলায় বিক্রিটা মুখ্য নয়। কারও মতে, আমার বই ভালোই যাচ্ছে। তবে প্রকাশকরা সেভাবে স্বীকার করতে চান না! অবশ্য বাংলা একাডেমির নিজস্ব বিক্রি কেমন তা জানা যায়নি। একাডেমির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ সংক্রান্ত তথ্য মেলার শেষ দিন দিতে পারবে বলে জানিয়েছে।
অভিজিৎ রায় স্মরণ ॥ ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি মেলা থেকে ফেরার সময় উগ্রবাদীদের নির্মম হামলায় নিহত হন মুক্তমনা লেখক ব্লগার অভিজিৎ রায়। বুধবার নানা আয়োজনে সেই দিবস স্মরণ করা হয়। এ উপলক্ষে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে পৃথক কর্মসূচি পালন করে উদীচী।