এ উপজেলায় কিশোর-কিশোরী ক্লাবের অধীন সংগীত, আবৃত্তি ও কারাতে বিভাগে প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত নাস্তার টাকা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ছফিউল্লাহ নিজের পকেট ভারি করতে সরকারি বরাদ্দকৃত টাকা খরচ না করে নয়ছয় করছেন।
জানা গেছে, ২০২২ সালের শুরুর দিকে ফটিকছড়ি উপজেলায় যোগদানের পর থেকে এই প্রকল্পের টাকা আত্মসাতে মেতে উঠেছেন তিনি। বিষয়টি খুদে প্রশিক্ষার্থীরা না জানলেও দায়িত্বরত শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ট্রেইনার ও জেন্ডার প্রমোটারের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের নাস্তায় কী খাওয়ানো হবে, সেই বিষয়ে আমাদের কোনো ভূমিকা থাকে না। উপজেলা অফিস থেকে যে বরাদ্দ পাই তা দিয়ে চালিয়ে যাই।
উপজেলা মহিলাবিষয়ক অফিস সূত্রে জানা যায়, স্কুল-মাদ্রাসাগামী ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের সংগীত, কারাতে ও আবৃত্তির বিষয়ে দক্ষতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার ২০১৮ সালে দেশব্যাপী প্রকল্পটি শুরু করে। সে আলোকে ফটিকছড়িতেও এটি চলমান রয়েছে।
পুরো উপজেলার মধ্যে একমাত্র খিরাম ইউনিয়ন ছাড়া বাকি দুটি পৌরসভা ও ১৭ ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানের প্রাথমিক বিদ্যালয়কে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ৩০ জন নিবন্ধিত শিক্ষার্থী সপ্তাহে দুইদিন শুক্র ও শনিবার এ প্রকল্পের মাধ্যমে এক ঘণ্টার প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকে। ক্লাস শেষে প্রতি শিক্ষার্থীকে ডিম, কলার মতো পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ নাস্তা পরিবেশন করার কথা থাকলেও অধিকাংশ কেন্দ্রে তা মানা হয় না।
অন্যদিকে, উপজেলার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেখভালের জন্য রয়েছেন ৪ জন জেন্ডার প্রমোটার। ক্লাসপ্রতি তাদের জন্য রয়েছে আলাদা ভাতার ব্যবস্থা।
এ ছাড়া, যে ইউনিয়নে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অবস্থান সেখানকার মহিলা ইউপি সদস্য প্রকল্পের স্থানীয় সমন্বয়করী হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ স্কুলের আয়া কিংবা দপ্তরি এ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
গত ২৫, ২৬ অক্টোবর (শুক্র ও শনিবার) উপজেলার অধিকাংশ এলাকা সরেজমিন দেখা যায়, একেক কেন্দ্রের চিত্র একেক রকম। উপজেলা সদরের সঙ্গে লাগোয়া পাইন্দং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থী কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সুয়াবিল প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রশিক্ষার্থীদের নাস্তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে একটি ছোট জুস ও একটি বিস্কুট, যার মূল্য ১৫ টাকার বেশি নয়।
অন্যদিকে, নাজিরহাট পৌরসভার এবিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায়, ততক্ষণে প্রশিক্ষণ শেষ হয়ে গেছে। তবে প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, প্রতিবার তাদের বিস্কুট, চানাচুর, চিপস খেতে দেয়।
একই চিত্র মিলল লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। সেখানে একদিনে ৩০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে খরচ করা হয়েছে মাত্র ১৪৫ টাকা।
অন্যদিকে, উত্তর ফটিকছড়ির কয়েকটি কেন্দ্রে ট্রেইনার সংকট দেখিয়ে প্রকল্প বন্ধ রাখার কথা প্রচার করা হলেও স্থানীয়দের দাবি- বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নিতে এমন কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন কর্মকর্তারা।
উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ছফিউল্লাহ বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বছর শেষে জেলা থেকে অডিট টিম আসে। তখন তাদের বকশিস বাবদ কিছু টাকা লাগে। তাই প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে ২০ টাকা খরচ করে বাকি টাকা রেখে দিই।
তবে তিনি কোন কর্মকর্তাকে বকশিস দেন তা জানাতে রাজি হননি। জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিষয়টি মাত্র জানলাম। এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।