ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০১ মার্চ ২০২৫, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১

জামালপুরে পরকীয়ার জেরে কাউন্সিলর মোশারফকে গণধোলাই

নিজস্ব সংবাদদাতা, জামালপুর 

প্রকাশিত: ১৭:৩১, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩

জামালপুরে পরকীয়ার জেরে কাউন্সিলর মোশারফকে গণধোলাই

কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন।

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে হাতেনাতে ধরা পড়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মোশারফ হোসেন। 

গতকাল রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত ১০ টায় সরিষাবাড়ী পৌর এলাকার চর বাঙালি দক্ষিণপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। আজ সোমবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল করে তাকে কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী পৌরসভার কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন রবিবার রাত ১০টার দিকে পৌরসভার চরবাঙালি দক্ষিণপাড়ায় একটি বাড়িতে যান। পরকীয়া সম্পর্কের রেষ ধরে ওই বাড়ির দুই সন্তানের মা এক নারীকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন মোশারফ হোসেন। কিন্তু ওই বাড়িতে মোশারফের উপস্থিতি টের পেয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে গণধোলাই দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে এলাকাবাসী। রাতেই সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। একই সময়ে পৌরসভার মেয়র মনির উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউন্সিলরকে মৌখিকভাবে সাময়িক বরখাস্তের ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। একই সঙ্গে মেয়র তার জিম্মায় পুলিশের কাছ থেকে কাউন্সিলর মোশারফ হোসেনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন ইতোপূর্বেও একাধিক নারী ঘটিত ঘটনায় ধরা খেয়ে গণধোলাই খান। এদিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সোমবার সকালে কাউন্সিলর মোশারফ হোসেনকে বরখাস্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। স্থানীয় চন্দনপুর এলাকা থেকে মিছিল শুরু হয়ে পঞ্চপীর মোড় হয়ে পৌরসভার মেয়র মনির উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়। মিছিলে দুই শতাধিক নারী-পুরষ অংশ নেন। 

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুশফিকুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, ‘খবর পেয়ে রবিবার রাতেই থানা থেকে পুলিশ ফোর্স গিয়ে জনতার রোষাণল থেকে কাউন্সিলর মোশারফ হোসেনকে উদ্ধার করে। পৌরসভার মেয়র মনির উদ্দিন রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজ দায়িত্বে মোশারফ হোসেনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কেউ থানায় অভিযোগ না করায় মামলা নেওয়া হয়নি। তবে অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র মনির উদ্দিন জনকণ্ঠকে বলেন, ‘কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন জনতা কর্তৃক আটক হওয়ার সংবাদ পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত শুনেছি। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে কাউন্সিলর মোশারফ হোসেনকে মৌখিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করেছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা পৌর পরিষদে বসে তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবো।’ 

 

এম হাসান

সম্পর্কিত বিষয়:

×