ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২০ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

circluar
circluar
চাঁদ দেখার তথ্য যাচাইয়ে বৈঠকে জাতীয় কমিটি

চাঁদ দেখার তথ্য যাচাইয়ে বৈঠকে জাতীয় কমিটি

পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার খবর যাচাই করতে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সম্মেলনকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। দেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা দ্রুত জানাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি ফোন নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কেও বিষয়টি অবহিত করতে বলা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি, চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি, চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইরানি তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিকল্প পদক্ষেপও বিবেচনায় রাখছে। বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, বাজারে তেলের ঘাটতি দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব কৌশলগত মজুত থেকেও সরবরাহ বাড়াতে পারে, যাতে বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন কর্তৃপক্ষের জ্ঞাতসারে ইরানি তেলবাহী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সচল রাখতে ভূমিকা রাখছে। এদিকে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সাউথ পারস গ্যাসক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান অঞ্চলজুড়ে জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানছে। এতে করে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা বেড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারের বেশি উঠে যায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বিঘ্নিত হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে। জ্বালানি বিশ্লেষক বন্দনা হারি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মানদণ্ড তেলের দাম ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তার মতে, ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিকতা কত দ্রুত ফিরে আসে তার ওপর। এদিকে যুক্তরাজ্যে পাইকারি গ্যাসের মূল্যও ব্যাপক বেড়েছে। প্রতি থার্ম গ্যাসের দাম প্রায় ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৭১ পেন্সের বেশি হয়েছে, যা ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়।

অর্ধেক শিল্প-কারখানা ঈদ বোনাস দেয়নি

অর্ধেক শিল্প-কারখানা ঈদ বোনাস দেয়নি

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এক-চতুর্থাংশ শিল্পকারখানায় গত ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এখন পর্যন্ত বকেয়া রয়েছে। এখনো শ্রমিকের ঈদ বোনাস পরিশোধ করেনি অর্ধেক শিল্পকারখানা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১০ হাজার ১০০ শিল্পকারখানা শিল্প পুলিশের তদারকির মধ্যে রয়েছে। সংস্থাটির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গতকাল সোমবার পর্যন্ত ২৫ শতাংশ, অর্থাৎ ২ হাজার ৫৪৪ কারখানা গত মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি। এ ছাড়া ৪৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ বা ৫ হাজার ৭টি কারখানা এখনো ঈদ বোনাস দেয়নি।  চলতি মাসের শুরুতে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দেশের শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ৯ মার্চ ও ঈদ বোনাস ১২ মার্চের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এমনকি সচল ও রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে শ্রমিক-কর্মচারীদের এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার। এ ছাড়া চলতি মাসে রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের বকেয়া ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

উৎসবের জুতা

উৎসবের জুতা

ঈদ মানেই নতুন পোশাক, নতুন সাজ আর আনন্দের দিন। নতুন পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতা না হলে পুরো সাজটাই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই ঈদের কেনাকাটার তালিকায় পোশাকের পাশাপাশি জুতাও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে থাকে। তবে শুধু দেখতে সুন্দর হলেই চলবে না-ঈদের জুতা হতে হবে আরামদায়ক, টেকসই এবং পোশাকের সঙ্গে মানানসই। আরামই হোক প্রথম শর্ত ঈদের দিনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া-আসা, আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়ানো কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা-সব মিলিয়ে অনেক সময় জুতা পায়ে থাকে। তাই ঈদের জুতা কেনার সময় আরামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নরম সোল, হালকা ওজন এবং ভালো ফিটিংয়ের জুতা হলে দীর্ঘ সময় পরেও পায়ে অস্বস্তি হবে না। পোশাকের সঙ্গে মিল ঈদের পোশাকের রং ও ডিজাইনের সঙ্গে জুতার মিল থাকা জরুরি। ছেলেদের পাঞ্জাবি-পায়জামার সঙ্গে লোফার, নাগরা বা স্যান্ডেল ভালো মানায়। অন্যদিকে মেয়েদের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ বা ফিউশন পোশাকের সঙ্গে হিল, কিটেন হিল বা স্টাইলিশ স্যান্ডেল বেশ মানানসই। বর্তমানে মিনিমাল ডিজাইনের জুতা বেশ জনপ্রিয়, যা প্রায় সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যায়। আবহাওয়ার কথাও ভাবুন ঈদ অনেক সময় গরমের সময় পড়ে। তাই এমন জুতা নির্বাচন করা ভালো যাতে পা ঘেমে না যায়। খোলা ডিজাইনের স্যান্ডেল বা বাতাস চলাচল করতে পারে এমন উপকরণের জুতা হলে আরাম বেশি পাওয়া যায়। মানসম্মত উপকরণ জুতা কেনার সময় শুধু ডিজাইন নয়, উপকরণের দিকেও নজর দিতে হবে। ভালো মানের চামড়া বা টেকসই কৃত্রিম উপকরণের জুতা হলে তা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। সোল শক্ত হলেও যেন খুব শক্ত না হয়, আবার খুব নরমও না হয়-এমন ভারসাম্যপূর্ণ জুতা বেছে নেওয়াই ভালো। ট্রেন্ডি জুতা এখনকার ফ্যাশনে অতিরিক্ত ভারী বা জটিল ডিজাইনের জুতার চেয়ে হালকা, পরিষ্কার ডিজাইনের জুতা বেশি জনপ্রিয়। নিউট্রাল রং যেমন-কালো, বাদামি, বেইজ বা সোনালি-সহজেই বিভিন্ন পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। তাই অনেকেই এখন এমন জুতা বেছে নিচ্ছেন যা ঈদের পরেও নিয়মিত ব্যবহার করা যায়। সঠিক সাইজ নিশ্চিত করুন অনেকে তাড়াহুড়ো করে জুতা কিনে পরে বুঝতে পারেন সাইজ ঠিক হয়নি। তাই কেনার সময় অবশ্যই জুতা পায়ে পরে দেখে নেওয়া উচিত। খুব টাইট বা খুব ঢিলা জুতা দুইটাই সমস্যার কারণ হতে পারে। সব মিলিয়ে ঈদের জুতা হওয়া উচিত স্টাইলিশ, আরামদায়ক ও ব্যবহার উপযোগী। কারণ ঈদের আনন্দ যেন অস্বস্তিকর জুতার কারণে ম্লান না হয়ে যায়। সঠিক জুতা বেছে নিতে পারলে ঈদের সাজও হবে পরিপূর্ণ, আর দিনটাও কাটবে স্বাচ্ছন্দ্যে ও আনন্দে। ফ্যাশন প্রতিবেদক

শিশুর স্বাচ্ছন্দ্য

শিশুর স্বাচ্ছন্দ্য

ঈদের উৎসব প্রতিটি শিশুর কাছে অনেক রঙিন। রোজার শুরু থেকেই তাদের ঈদ নিয়ে থাকে নানা জল্পনা-কল্পনা। বন্ধুদের মধ্যে হয় উৎসবমুখর কথোপকথন। কে কয়টা ড্রেস কিনল, কীভাবে সাজবে এমন অনেক কিছু। সকাল, দুপুর ও রাতের পোশাকের সঙ্গে সাজ ও গহনা এক্সেসরিজের বিষয়ে বর্তমানে বড়দের থেকে ছোটরা  বেশি স্মার্ট ও সচেতন। আর তাদের বায়না পূরণ করতে বাবা-মায়েরা ছুটছে বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটে। প্রকৃতির বদলের খেলায় বাড়ছে তাপদাহ। তাই পরিবর্তন আসেেছ পোশাকেও। বিশেষ করে এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ভাবতে হয় বাড়ির শিশুদের নিয়ে। কেননা গরমে শিশুর পোশাক কেমন হবে, কী ধরনের পোশাক শিশুদের জন্য আরামদায়ক হবে। এসব ভাবনা চলে আসে প্রকৃতির রূপ বদলের সঙ্গে সঙ্গে। এ কারণে আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোও এ সময়ে শিশুদের জন্য তৈরি করে ফ্যাশনেবল সব আরামদায়ক পোশাক। বাজার ঘুরে দেখা গেল, বিভিন্ন রং ও নকশায় অলঙ্কৃত করা হয়েছে শিশুদের পোশাক। প্রায় সব মার্কেট আর ফ্যাশন হাউসে এখন মিলবে শিশুদের জন্য সুতির পোশাক। ভয়েল, সুইস ভয়েল, আদ্দি, ভিসকস, মিক্সড ভয়েল, বেক্সি ভয়েলসহ নানারকম সুতি কাপড়ে তৈরি হচ্ছে কোমলমতিদের পোশাক। এ ছাড়া কটনের সঙ্গে ফেব্রিক দিয়েও তৈরি হচ্ছে পোশাক। বাজারে আছে সুতি, লিনেন ও গেঞ্জি কাপড়ের বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক। আরামদায়ক উপকরণ হিসেবে ডিজাইনাররা বেছে নিয়েছেন সুতি, গ্যাবার্ডিন, লিনেন ও নরম জিন্স এর মতো নরম কাপড়। শিশুরা যেহেতু বেশি ছোটাছুটি করে তাই ঘাম হয় বেশি। এ কারণে গরমকালে শিশুদের পোশাক নির্বাচনে সুতির কাপড় বেছে নিতে হবে। বিভিন্ন ধরনের ভয়েল, পাতলা তাঁত কাপড়ও আরামদায়ক। গরমে যেসব কাপড় তাপ শোষণ করে কম এমন হালকা রঙের পোশাক যেমন আকাশি, হালকা সবুজ, গোলাপি, সাদা, ধূসর, বাদামি ইত্যাদির ওপর রঙিন ছাপা বা প্রিন্টের পোশাক বেছে নিতে পারেন। এতে শিশুদের দেখতে বেশ ভালো লাগে। তবে তারা যেহেতু খেলাধুলা বা ছোটাছুটি করে বেশি, তাই রঙিন পোশাক পরাতে চাইলে ব্লক বা বাটিকের পাতলা সুতি পোশাক বেছে নিতে পারেন। এছাড়াও শিশুদের জন্য ছোট বা মাঝারি প্রিন্টের পোশাক বেশি মানানসই। ফুল, পাতা, পাখি, জ্যামিতিক নকশা বা বল প্রিন্টের পোশাকও পরাতে পারেন। এতে শিশুদের প্রাণবন্ত ও উচ্ছল লাগে। তবে শিশুদের জন্য যে ধরনের পোশাকই নির্বাচন করা হোক না কেন, তা যেন খুব বেশি আটসাঁট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাতাস চলাচল করতে পারে এমন ঢিলেঢালা পোশাক শিশুদের জন্য বেশি উপযোগী। ছেলে ও মেয়ে শিশুদের পোশাকে খুব একটা পার্থক্য দেখা যায় না বললেই চলে। ছেলেদের জন্য আছে ঢিলেঢালা গেঞ্জি, টি-শার্ট, ফতুয়া, নিমা, হাফ-প্যান্ট ও থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, ট্রাউজার, ফুল-প্যান্ট। মেয়েদের জন্য এসব ছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে নানারকম ডিজাইনের ফ্রক, লেহেঙ্গা, সালোয়ার-কামিজ, স্কার্ট, টপস, প্লাজো, শার্ট, টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট ইত্যাদি। এক ডিজাইনার বলেছেন, ‘আমরা সবসময়ই বাংলাদেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে কাপড় বেছে নেই। গরমে শিশুদের পোশাকটা যেন স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়। সোনামণিদের পোশাকে প্যার্টানের দিক থেকে রয়েছে লিল্যাকজিন সিস্টেম যেমন প্রয়োজনে পোশাকটি ছোট-বড় করা যাবে এবং ঢিলেঢালা হলে টাইট করে নিতে পারবেন।’ কোথায় পাবেন লা রিভ, টুয়েলভ, আড়ং, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্বরঙ, কে ক্র্যাফট, অঞ্জন’স, মেনজ ক্লাব, সীমান্ত স্কয়ার, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটে পাবেন শিশুর আরামদায়ক পোশাক। দাম পড়বে ৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে। একটু কম দামের জন্য বেছে নিতে পারেন রাজধানীর নিউমার্কেট, নুরজাহান মার্কেট, বঙ্গবাজার, মৌচাক মার্কেট, তালতলা মার্কেট। গ্যাবার্ডিন ও জিনসের প্যান্টগুলোর দাম পড়বে ৩০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে।