ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২

circluar
circluar
টাকশাল শহর থেকে ইতিহাসের স্মৃতি হারানো জনপদ ভূষণা

টাকশাল শহর থেকে ইতিহাসের স্মৃতি হারানো জনপদ ভূষণা

বাংলার ইতিহাসে এমন কিছু জনপদ রয়েছে যেগুলো এক সময় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক গুরুত্বে উজ্জ্বল ছিল। অথচ সময়ের প্রবাহে আজ প্রায় বিস্মৃত। তেমনই একটি ঐতিহাসিক জনপদের নাম ভূষণা। সুলতানী আমলে এটি ছিল বাংলার সতেরোটি টাকশাল শহরের অন্যতম। অর্থাৎ এখানে মুদ্রা তৈরি হতো, যা সেই সময়ের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বের একটি বড় নিদর্শন। বর্তমানে অঞ্চলটি মাগুরা শহরের অল্প কয়েক কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত হলেও এক সময় এটি বৃহত্তর যশোর জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং ইতিহাসের নানা বাঁকে এর অবস্থান ও পরিচয়ে পরিবর্তন এসেছে। মুঘল আমলে বাংলার রাজস্ব প্রশাসন পুনর্গঠনের সময় নবাব মুর্শিদকুলী খান ভূষণাকে একটি চাকলায় পরিণত করেন। চাকলা ছিল মূলত একটি বৃহৎ রাজস্ব এলাকা। ভূষণা চাকলার আওতায় বর্তমান ফরিদপুর জেলার বিস্তীর্ণ অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ফরিদপুর জেলার বাকি অংশ সে সময় জাহাঙ্গীরনগর (ঢাকা), মুর্শিদাবাদ, যশোর এবং ঘোড়াঘাট চাকলার অন্তর্গত ছিল। ফলে আঠারো শতকে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও পরিবর্তনের কারণে ভূষণার সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিয়ে অনেক সময় বিভ্রান্তি দেখা দেয়। ভূষণার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার রাজনৈতিক সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বারো ভূঁইয়াদের প্রতিরোধ আন্দোলন। বাংলার পূর্বাঞ্চলে মুঘল আগ্রাসন প্রতিহতকারী এই শক্তিশালী স্থানীয় প্রধানদের অন্যতম ছিলেন রাজা মুকুন্দ রায়। তার প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল ভূষণা। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই এটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মুকুন্দ রায়ের মৃত্যুর পর তার পুত্র সত্রাজিৎ রায় রাজকীয় মুঘল বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। কিন্তু সতেরো শতকের প্রথম দিকে তিনি মুঘলদের কাছে পরাজিত হন। পরবর্তীতে সত্রাজিতের পুত্র সীতারাম বাস্তবতা উপলব্ধি করে মুঘল আধিপত্য মেনে নেন। এর ফলে তিনি ভূষণা এবং ফতেহাবাদ অঞ্চলের জমিদারি পুনরুদ্ধার করেন এবং ধীরে ধীরে বিপুল ক্ষমতা ও সম্পদের অধিকারী হয়ে ওঠেন। সীতারাম ভূষণা থেকে প্রায় সতেরো কিলোমিটার দূরে বাগজানী নামক স্থানে তার রাজধানী স্থাপন করেন। রাজধানীকে সুরক্ষিত রাখতে তিনি দীর্ঘ মাটির বাঁধ ও পরিখা নির্মাণ করেন। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে রাজধানীটি ছিল এক ধরনের দুর্গনগর। তবে ভূষণার ফৌজদারের সঙ্গে তার সম্পর্ক ক্রমশ তিক্ত হয়ে ওঠে। তার অবজ্ঞাসূচক মনোভাব এবং দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ফলে শেষ পর্যন্ত মুর্শিদকুলী খানের আমলে ১৭১৪ সালে তাকে দমন করা হয়। তার বিশাল জমিদারি বাজেয়াপ্ত করে রাজশাহীর জমিদার রামজীবনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ভূষণা দুর্গ ছিল এই জনপদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বর্তমানে দুর্গটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় ফরিদপুর জেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কালিবাড়ি গ্রামে অবস্থিত। ফরিদপুর শহর থেকে প্রায় পঁচিশ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে মধুমতি ও বরসিয়া নদীর মিলনস্থলের কাছে এর অবস্থান। মুঘল সম্রাট আকবরের বিখ্যাত গ্রন্থ আকবরনামায় ভূষণাকে একটি সুদৃঢ় দুর্গ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় সামরিক কৌশলগত দিক থেকেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভূষণার ইতিহাস আরও প্রাচীন। জানা যায়, এই অঞ্চলের প্রথম শাসনকর্তা ছিলেন ধেনুকর্ণ নামে এক শাসক। তিনি যশোরের উত্তরাংশ অধিকার করে ‘বঙ্গভূষণ’ উপাধি ধারণ করেছিলেন। ধারণা করা হয়, তার এই উপাধি থেকেই অঞ্চলটির নাম হয় ‘ভূষণা’। পরে সুলতান নুসরত শাহের সময় ভূষণা বাংলার সতেরোটি টাকশাল শহরের একটি হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে।  কৌশলগত অবস্থানের কারণে ষোড়শ শতকের শেষ দুই দশকে ভূষণা হয়ে ওঠে মুঘল বাহিনী ও বারো ভূঁইয়াদের মধ্যে সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র। সম্রাট আকবরের আমলে এটি ফতেহাবাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরে মুর্শিদকুলী খান বাংলার রাজস্ব প্রশাসন পুনর্বিন্যাস করলে ভূষণা তেরোটি চাকলার একটি হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই ভূষণা চাকলার আওতায় অসংখ্য গ্রাম ও জনপদ অন্তর্ভুক্ত ছিল। কোষাখালী, হোগলা, হাবাসপুর, কুমারখালী, বেরামপুর, সাদাপুর, গুলিশপুর, বেলগাছি, কলকাপুর, জাহাজডিঙ্গা, কমলদীঘি, সেনপাড়া, বালিয়াকান্দি, কৃষ্ণপুর, ফরিদপুর, কানাইপুর, হীরাপুর, শহরভূষণা, গোপালপুর, মালিকনগর, তালমা, বাবুখালী, জয়নগর, রাজাপুর, মহম্মদপুর, কামারগাঁ, কালীনগর, মীরগঞ্জ, মুকসুদপুর, মহারাজপুর, দীঘলনগর, রঙ্গিগঙ্গ, কয়রা, শালখীয়া, খাজুরা, শ্রীরামপুর, আড়পাড়া, ডুকালী, দাউদপুর, কলনা, সামরুল, কালীয়া, গোপালগঞ্জ, গোবরা, টাঙ্গিপাড়া, ঘোড়াডাঙ্গা, শিবরামপুর, চাঁদপুরসহ আরও বহু জনপদ এই চাকলার অন্তর্গত ছিল। এমনকি খড়রিয়ার বিলসমষ্টির একটি অংশও এর আওতায় পড়ত। সমগ্র প্রশাসন, অর্থনীতি ও সামরিক শক্তির কেন্দ্র হিসেবে যে ভূষণা সমৃদ্ধ ছিল আজ তার অধিকাংশই ইতিহাসের স্তরে চাপা পড়ে আছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত দুর্গ, ছড়িয়ে থাকা স্থাননাম এবং পুরানো দলিলপত্রই এখন সেই গৌরবময় অতীতের সাক্ষ্য বহন করে। তবুও ইতিহাসের পাতা উল্টালে বোঝা যায় ভূষণা বাংলার রাজনৈতিক সংগ্রাম, প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক শক্তির উত্থান-পতনের এক জীবন্ত স্মারক।

নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯ বগি লাইনচ্যুত চলাচল বন্ধ

নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯ বগি লাইনচ্যুত চলাচল বন্ধ

ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া নীলফামারী অভিমুখী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি বগুড়ার আদমদীঘিতে লাইনচ্যুত হয় বুধবার দুপুরে। বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার শান্তাহার জংশনের অদূরে বাগবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন কমপক্ষে ৫০ জন। ওই ঘটনার পর উত্তরবঙ্গের ৫ জেলা- নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। আহত ব্যক্তিদের নওগাঁ জেলা হাসপাতাল ও আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।   সান্তাহার রেলস্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন বলেন, রেললাইনে আগে থেকেই ত্রুটি ছিল। আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস বেলা আড়াইটার দিকে সান্তাহার প্ল্যাটফর্মের অদূরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ট্টেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। পালিয়েছেন ট্রেনের স্টাফরা ॥ নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি আদমদীঘি ও সান্তাহারের মাঝামাঝি এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। ওই স্থানে রেললাইনের মেরামত কাজ চলছিল। লাল পতাকা টানানো ছিল। তবে চালক খেয়াল না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ট্রেনের চালক ও স্টাফরা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনায় ট্রেনের ছাদে থাকা ও ভেতরে থাকা শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালসহ নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ করছে। দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেন দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করেছে।   সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, এখানে রেললাইনের কাজ চলছিল এবং সামনে লাল পতাকা দেওয়া ছিল। কিন্তু চালক দ্রুতগতিতে আসায় দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। মৃত্যুর কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। ট্রেনের ছাদে অনেক মানুষ থাকায় ছাদ থেকে পড়ে অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রেনের কোনো স্টাফকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।  তদন্তে চার সদস্যের কমিটি ॥ ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী বুধবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, রেলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তার নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে? কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন যন্ত্র প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান সংকেত প্রকৌশলী।

ঈদ আয়োজনে সরব টিভি চ্যানেল

ঈদ আয়োজনে সরব টিভি চ্যানেল

নাচ-গানে বিটিভির আনন্দমেলা ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান আনন্দমেলা এবারও নির্মিত হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজনে। অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে ঈদের দিন রাত ১০টায় বিটিভির পর্দায়। এবারের আনন্দমেলা উপস্থাপনা করবেন জনপ্রিয় দুই তারকা মাসুমা রহমান নাবিলা ও ইরফান সাজ্জাদ। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ থাকছে তারকাদের নৃত্য পরিবেশনা। এখানে নাচবেন পূজা চেরি, মেহজাবীন চৌধুরী, রিচি সোলায়মান, চাঁদনী এবং আনিকা কবির শখ। আশির দশক থেকে বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সিনেমার গান ও ফোক গানে তাদের পরিবেশনা সাজানো হয়েছে বিশেষ কোরিওগ্রাফিতে। সংগীত পরিবেশনায় থাকছেন জনপ্রিয় শিল্পী কনকচাঁপা, মনির খান, রবি চৌধুরী, ন্যান্সি, নাসির ও চিরকুট ব্যান্ড। এছাড়া অনুষ্ঠানে থাকবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় আকর্ষণীয় অ্যাক্রোবেটিক শো। দর্শকদের হাসাতে থাকবেন কৌতুকশিল্পী আবু হেনা রনি। পাশাপাশি থাকবে যন্ত্রসংগীতে ‘রমজানের ঐ রোজার শেষে’, বিশেষ জিঙ্গেল এবং নাটিকা।  অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন আফরোজা সুলতানা, হাসান রিয়াদ ও ইয়াসমিন আক্তার। ঈদের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে নাচ, গান, কমেডি ও নানা আয়োজনে সাজানো এই বিশেষ ‘আনন্দমেলা’ দর্শকদের জন্য হয়ে উঠবে বাড়তি বিনোদনের উৎসÑ এমনটাই আশা আয়োজকদের।

শতাধিক ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলা, হতাহত ২৩০

শতাধিক ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলা, হতাহত ২৩০

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ড. আলি লারিজানির মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে তেল আবিব শহরে ১০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে হতাহত হয়েছে দুই শতাধিক ইসরাইলি। বুধবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে চলমান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৬১তম ধাপে এসব হামলা চালানো হয়। খবর প্রেস টিভির। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এসএনএসসি) সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ড. লারিজানির শাহাদাতের প্রতিশোধ নিতে বহু-ওয়ারহেড বিশিষ্ট খোররমশাহর-৪ ও কাদর ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি এমাদ ও খেইবার শেকান প্রজেক্টাইল ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।’ আইআরজিসি দাবি করে, এই তীব্র ও দ্রুতগতির হামলায় খোররমশাহর-৪ ও কাদর ক্ষেপণাস্ত্র দখলকৃত ভূখ-ের কেন্দ্রস্থলে ১০০টির বেশি সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনায় কোনো বাধা ছাড়ায় আঘাত হেনেছে। এই সাফল্যের পেছনে জায়নবাদী শাসনের বহুমাত্রিক ও অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভেঙে পড়ার ফল বলে উল্লেখ করেছে আইআরজিসি। আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, এ পর্যন্ত ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর হামলায় ২৩০ জনের বেশি ইসরাইলি নিহত বা আহত হয়েছে। তেল আবিব ছাড়াও দখলকৃত নগর আল-কুদস, হাইফা বন্দরনগরী, প্রযুক্তিকেন্দ্র বেয়ার শেবা এবং নেগেভ মরুভূমিসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে হামলা। এছাড়া, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও এই প্রতিশোধমূলক হামলার আওতায় এসেছে বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। লারিজানির জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল ॥ ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি, আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি এবং শ্রীলঙ্কার উপকূলে নিহত দেশটির নৌ-সেনাদের জানাজা বুধবার তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, তাদের জানাজায় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পাশাপাশি হাজারো মানুষ অংশ নেন। খবর আল জাজিরার। এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর শহরাঞ্চলে ইরানের হামলার জন্য দায়ী মূলত যুক্তরাষ্ট্র। এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে শহরের হোটেলগুলোতে অবস্থান নেয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বুধবার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, ‘আমরা কেবল শত্রুপক্ষের আনুষ্ঠানিক সামরিক ঘাঁটিতেই সীমাবদ্ধ থাকিনি। যেখানে যেখানে মার্কিন বাহিনী ও তাদের স্থাপনা ছিল, সেগুলোই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এর কিছু স্থান শহরাঞ্চলের কাছাকাছি হতে পারে, তবে এটি আমাদের দোষ নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের দোষ। তারা তাদের বাহিনী ঘাঁটি থেকে সরিয়ে শহরের হোটেলে নিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণই এই পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নয়, বরং যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসানই চায় তেহরান- এবং তা সব ফ্রন্টে। হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যেন স্পষ্ট বিধিমালার আওতায় এই নৌপথে শান্তিপূর্ণ চলাচল স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে জন্য নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি ও বাসিজ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলামরেজা সোলেইমানিকে হত্যার পরও তেহরানের নেতৃত্ব ভেঙে পড়বে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।  আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল রাষ্ট্র নয়। বরং এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত শক্তিশালী রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সাক্ষাৎকারে আরাগচি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এখনো বুঝতে পারেনি যে ইরানের সরকার বা ব্যবস্থা কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে থমকে যায় না। আমাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী। অবশ্যই প্রতিটি ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কারো শাহাদাত এই কাঠামোকে অচল করতে পারবে না। ইরানের হামলায় ইসরাইলে নিহত ২ ॥ ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলে নিহত হয়েছেন ২ জন এবং আহত হয়েছেন ১৯২ জন। ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার দুপুরের পর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এ তথ্য। নিহত দু’জনের নাম ইয়ারোন মোশে এবং ইলানা মোশে। তারা স্বামী-স্ত্রী এবং উভয়ের বয়স ৭০ বছরের কাছাকাছি। বুধবার সকাল ৮ টার দিকে ইসরাইলের রামাত গান শহরে ক্লাস্টার বোমা ছোড়ে ইসরাইল, তাতেই খুন হন তারা। এছাড়া বাকি যে ১৯২ জন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৪ জনের আঘাত মাঝারি এবং বাকিদের আঘাত অল্প বলে জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে। ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রীকে হত্যার দাবি ॥ ইসরাইলের হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতাদের প্রাণহানির তালিকায় যুক্ত হলো আরও একজনের নাম। এবার দেশটির গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিবকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইল। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। এদিকে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আজ বুধবার ভোরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম এ খবর জানিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এক টেলিগ্রাম বার্তায় জানায়, হামায় স্থাপনাটিতে আগুন ধরে গেছে এবং উদ্ধারকারী ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বর্তমানে ঘটনাস্থলে রয়েছেন। উল্লেখ্য, ইরানের সাউথ পার্স বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র। যেখানে ইরান ও কাতার উভয় দেশের গ্যাস উত্তোলন-বিষয়ক স্থাপনা রয়েছে। এদিকে ইসরাইলের সংবাদমাধ্যমগুলো স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ইসরাইলি যুদ্ধবিমান দক্ষিণ ইরানের বুশেহর প্রদেশে দেশটির গ্যাস অবকাঠামোতে এই হামলা চালিয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না ফ্রান্স

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না ফ্রান্স

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযান নিয়ে আবারও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেছেন, তার দেশ হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে সাহায্য করতে প্রস্তুত ফ্রান্স-তবে সেটা চলমান ইরান যুদ্ধ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি মিশনের অংশ হিসেবে হতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোকে পারস্য উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানানোর প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা এই সংঘাতে জড়িত নই। তাই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া বা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সামরিক অভিযানে ফ্রান্স অংশ নেবে না।’ প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে এক নিরাপত্তা বৈঠকের আগে ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, কোনো উদ্যোগ নিলে তা অবশ্যই ইরানের সঙ্গে আলোচনা ও উত্তেজনা কমানোর মাধ্যমে করতে হবে এবং সেটি চলমান বোমা হামলা বা সামরিক অভিযানের বাইরে আলাদা রাখতে হবে। গত দুই সপ্তাহেরও বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যুদ্ধ শুরু করার পর হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। চলতি সপ্তাহে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরুর সময় থেকে প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি।

ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি ট্রাম্পের, পেছাল চীন সফর

ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি ট্রাম্পের, পেছাল চীন সফর

ইরান যুদ্ধের সমর্থনে পাশে না দাঁড়ানোয় পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোর ওপর চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিত্রদের ওপর অসন্তুষ্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সামরিক জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। এমনকি এ সিদ্ধান্তের জন্য তার কংগ্রেসের কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি। মঙ্গলবার ওভাল অফিসে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ন্যাটোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করার এই প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন। খবর আলজাজিরা অনলাইনের।  ন্যাটো মূলত একটি রক্ষণাত্মক বা আত্মরক্ষামূলক সামরিক জোট। ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা। কিন্তু ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটোকে সমর্থন দিয়ে আসছে, তাই এখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ন্যাটোর উচিত ছিল সেই ঋণের প্রতিদান দেওয়া। ট্রাম্প বলেন, ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অবশ্যই আমাদের ভাবা উচিত। এই সিদ্ধান্তের জন্য আমার কংগ্রেসের প্রয়োজন নেই। তিনি ন্যাটোর প্রত্যাখ্যানকে ‘হতাশাজনক’ এবং ‘অংশীদারিত্বের জন্য ক্ষতিকর’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার মাথায় সুনির্দিষ্ট কিছু নেই, তবে ন্যাটোর ভূমিকায় আমি মোটেও রোমাঞ্চিত নই।’ তিনি আরও বলেন, এটি ন্যাটোর জন্য একটি বড় পরীক্ষা ছিল। আমাদের তাদের প্রয়োজন নেই, কিন্তু তাদের এখানে (ইরান যুদ্ধে) থাকা উচিত ছিল। ন্যাটো একটি অত্যন্ত বোকামিপূর্ণ ভুল করছে। সদ্য পদত্যাগ করা শীর্ষ সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকর্তা জো কেন্টের কড়া সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। কেন্ট দাবি করেছিলেন যে যুদ্ধের আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, কেন্ট ব্যক্তিগতভাবে ‘ভালো মানুষ’ হলেও ‘নিরাপত্তার বিষয়ে অত্যন্ত দুর্বল’। ট্রাম্পের মতে, কেন্টের পদত্যাগ একটি ‘ভালো দিক’। তিনি বলেন, যারা মনে করে ইরানের ওপর হামলা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, আমাদের প্রশাসনে তেমন লোক দরকার নেই। হোয়াইট হাউসে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের দুজন শীর্ষস্থানীয় নেতা মার্কিন হামলায় নিহত হয়েছেন। নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন ইরানের ‘আসল শীর্ষ নেতা’ এবং অন্যজন সাম্প্রতিক সপ্তাহে ৩২ হাজার ইরানি বিক্ষোভকারীকে হত্যার জন্য দায়ী। ট্রাম্প বলেন, তাদের নেতারা শেষ। এটি একটি অশুভ গোষ্ঠী। এর আগে ইসরাইল দাবি করেছিল যে, তাদের সোমবার রাতভর হামলায় ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের বাসিজ বাহিনীর প্রধান জেনারেল গোলাম রেজা সোলাইমানি নিহত হয়েছেন। তবে ইরান এখনও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। ইরান যুদ্ধের জেরে ট্রাম্পের বহুল প্রতীক্ষিত চীন সফরও পিছিয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেইজিং ও অন্যান্য বিশ্বশক্তিকে সামরিক শক্তি ব্যবহারের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সেই পরিকল্পনা সফল না হওয়ায় সফরটি এই মাসের শেষে হওয়ার বদলে আগামী পাঁচ বা ছয় সপ্তাহ পর অনুষ্ঠিত হবে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এই সাক্ষাৎকে দুই পরাশক্তির মধ্যে ভঙ্গুর বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিলো। কিন্তু ইরান যুদ্ধের শেষ পরিণতি খুঁজতে গিয়ে এটি এখন জটিল রূপ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর জন্য চীনসহ অন্য দেশগুলোকে চাপ দিলেও পরে ট্রাম্প কিছুটা সুর পাল্টে বলেন, মিত্ররা মুখ ফিরিয়ে নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের আসলে ‘কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই’।

বিশ্বের মুসলমানদের যে সকর্ত বার্তা দিয়ে গেছেন লারিজানি

বিশ্বের মুসলমানদের যে সকর্ত বার্তা দিয়ে গেছেন লারিজানি

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরান পিছু হটবে না। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর সিএনএন অনলাইনের।  সাম্প্রতিক এক বার্তায় লারিজানি বলেন, ‘কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ মুসলিম দেশ আমাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিশ্বাসঘাতক আগ্রাসনের সময় ইরানকে সমর্থন দেয়নি।’  তিনি মুসলিমদের ধর্মীয় দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, ‘কেউ যদি ‘হে মুসলিমরা’ বলে আহ্বান জানায় আর কেউ সাড়া না দেয়, তবে সে কি মুসলিম?’ তিনি আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশে ইরানের হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, চলমান সংঘাতে নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, ‘আপনারা কোন পক্ষের?’ তবে লারিজানি বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায় না। তিনি বলেন, ‘মুসলিম বিশ্বের ঐক্য যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা সব রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সক্ষম।’ এর আগে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি দখলদার ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইরান।  বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান এবং ইসলামি বিপ্লবের আদর্শকে সমুন্নত রাখার আমৃত্যু সংগ্রাম শেষে, অবশেষে আলি লারিজানি তার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করলেন। সত্যের ডাকে সাড়া দিয়ে, দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে তিনি লাভ করলেন শাহাদাতের পরম গৌরব।

অর্ধেক শিল্প-কারখানা ঈদ বোনাস দেয়নি

অর্ধেক শিল্প-কারখানা ঈদ বোনাস দেয়নি

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এক-চতুর্থাংশ শিল্পকারখানায় গত ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এখন পর্যন্ত বকেয়া রয়েছে। এখনো শ্রমিকের ঈদ বোনাস পরিশোধ করেনি অর্ধেক শিল্পকারখানা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১০ হাজার ১০০ শিল্পকারখানা শিল্প পুলিশের তদারকির মধ্যে রয়েছে। সংস্থাটির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গতকাল সোমবার পর্যন্ত ২৫ শতাংশ, অর্থাৎ ২ হাজার ৫৪৪ কারখানা গত মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেনি। এ ছাড়া ৪৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ বা ৫ হাজার ৭টি কারখানা এখনো ঈদ বোনাস দেয়নি।  চলতি মাসের শুরুতে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দেশের শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ৯ মার্চ ও ঈদ বোনাস ১২ মার্চের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এমনকি সচল ও রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে শ্রমিক-কর্মচারীদের এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার। এ ছাড়া চলতি মাসে রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের বকেয়া ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

উৎসবের জুতা

উৎসবের জুতা

ঈদ মানেই নতুন পোশাক, নতুন সাজ আর আনন্দের দিন। নতুন পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতা না হলে পুরো সাজটাই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাই ঈদের কেনাকাটার তালিকায় পোশাকের পাশাপাশি জুতাও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে থাকে। তবে শুধু দেখতে সুন্দর হলেই চলবে না-ঈদের জুতা হতে হবে আরামদায়ক, টেকসই এবং পোশাকের সঙ্গে মানানসই। আরামই হোক প্রথম শর্ত ঈদের দিনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া-আসা, আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়ানো কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা-সব মিলিয়ে অনেক সময় জুতা পায়ে থাকে। তাই ঈদের জুতা কেনার সময় আরামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। নরম সোল, হালকা ওজন এবং ভালো ফিটিংয়ের জুতা হলে দীর্ঘ সময় পরেও পায়ে অস্বস্তি হবে না। পোশাকের সঙ্গে মিল ঈদের পোশাকের রং ও ডিজাইনের সঙ্গে জুতার মিল থাকা জরুরি। ছেলেদের পাঞ্জাবি-পায়জামার সঙ্গে লোফার, নাগরা বা স্যান্ডেল ভালো মানায়। অন্যদিকে মেয়েদের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ বা ফিউশন পোশাকের সঙ্গে হিল, কিটেন হিল বা স্টাইলিশ স্যান্ডেল বেশ মানানসই। বর্তমানে মিনিমাল ডিজাইনের জুতা বেশ জনপ্রিয়, যা প্রায় সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যায়। আবহাওয়ার কথাও ভাবুন ঈদ অনেক সময় গরমের সময় পড়ে। তাই এমন জুতা নির্বাচন করা ভালো যাতে পা ঘেমে না যায়। খোলা ডিজাইনের স্যান্ডেল বা বাতাস চলাচল করতে পারে এমন উপকরণের জুতা হলে আরাম বেশি পাওয়া যায়। মানসম্মত উপকরণ জুতা কেনার সময় শুধু ডিজাইন নয়, উপকরণের দিকেও নজর দিতে হবে। ভালো মানের চামড়া বা টেকসই কৃত্রিম উপকরণের জুতা হলে তা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। সোল শক্ত হলেও যেন খুব শক্ত না হয়, আবার খুব নরমও না হয়-এমন ভারসাম্যপূর্ণ জুতা বেছে নেওয়াই ভালো। ট্রেন্ডি জুতা এখনকার ফ্যাশনে অতিরিক্ত ভারী বা জটিল ডিজাইনের জুতার চেয়ে হালকা, পরিষ্কার ডিজাইনের জুতা বেশি জনপ্রিয়। নিউট্রাল রং যেমন-কালো, বাদামি, বেইজ বা সোনালি-সহজেই বিভিন্ন পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। তাই অনেকেই এখন এমন জুতা বেছে নিচ্ছেন যা ঈদের পরেও নিয়মিত ব্যবহার করা যায়। সঠিক সাইজ নিশ্চিত করুন অনেকে তাড়াহুড়ো করে জুতা কিনে পরে বুঝতে পারেন সাইজ ঠিক হয়নি। তাই কেনার সময় অবশ্যই জুতা পায়ে পরে দেখে নেওয়া উচিত। খুব টাইট বা খুব ঢিলা জুতা দুইটাই সমস্যার কারণ হতে পারে। সব মিলিয়ে ঈদের জুতা হওয়া উচিত স্টাইলিশ, আরামদায়ক ও ব্যবহার উপযোগী। কারণ ঈদের আনন্দ যেন অস্বস্তিকর জুতার কারণে ম্লান না হয়ে যায়। সঠিক জুতা বেছে নিতে পারলে ঈদের সাজও হবে পরিপূর্ণ, আর দিনটাও কাটবে স্বাচ্ছন্দ্যে ও আনন্দে। ফ্যাশন প্রতিবেদক

শিশুর স্বাচ্ছন্দ্য

শিশুর স্বাচ্ছন্দ্য

ঈদের উৎসব প্রতিটি শিশুর কাছে অনেক রঙিন। রোজার শুরু থেকেই তাদের ঈদ নিয়ে থাকে নানা জল্পনা-কল্পনা। বন্ধুদের মধ্যে হয় উৎসবমুখর কথোপকথন। কে কয়টা ড্রেস কিনল, কীভাবে সাজবে এমন অনেক কিছু। সকাল, দুপুর ও রাতের পোশাকের সঙ্গে সাজ ও গহনা এক্সেসরিজের বিষয়ে বর্তমানে বড়দের থেকে ছোটরা  বেশি স্মার্ট ও সচেতন। আর তাদের বায়না পূরণ করতে বাবা-মায়েরা ছুটছে বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটে। প্রকৃতির বদলের খেলায় বাড়ছে তাপদাহ। তাই পরিবর্তন আসেেছ পোশাকেও। বিশেষ করে এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ভাবতে হয় বাড়ির শিশুদের নিয়ে। কেননা গরমে শিশুর পোশাক কেমন হবে, কী ধরনের পোশাক শিশুদের জন্য আরামদায়ক হবে। এসব ভাবনা চলে আসে প্রকৃতির রূপ বদলের সঙ্গে সঙ্গে। এ কারণে আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোও এ সময়ে শিশুদের জন্য তৈরি করে ফ্যাশনেবল সব আরামদায়ক পোশাক। বাজার ঘুরে দেখা গেল, বিভিন্ন রং ও নকশায় অলঙ্কৃত করা হয়েছে শিশুদের পোশাক। প্রায় সব মার্কেট আর ফ্যাশন হাউসে এখন মিলবে শিশুদের জন্য সুতির পোশাক। ভয়েল, সুইস ভয়েল, আদ্দি, ভিসকস, মিক্সড ভয়েল, বেক্সি ভয়েলসহ নানারকম সুতি কাপড়ে তৈরি হচ্ছে কোমলমতিদের পোশাক। এ ছাড়া কটনের সঙ্গে ফেব্রিক দিয়েও তৈরি হচ্ছে পোশাক। বাজারে আছে সুতি, লিনেন ও গেঞ্জি কাপড়ের বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক। আরামদায়ক উপকরণ হিসেবে ডিজাইনাররা বেছে নিয়েছেন সুতি, গ্যাবার্ডিন, লিনেন ও নরম জিন্স এর মতো নরম কাপড়। শিশুরা যেহেতু বেশি ছোটাছুটি করে তাই ঘাম হয় বেশি। এ কারণে গরমকালে শিশুদের পোশাক নির্বাচনে সুতির কাপড় বেছে নিতে হবে। বিভিন্ন ধরনের ভয়েল, পাতলা তাঁত কাপড়ও আরামদায়ক। গরমে যেসব কাপড় তাপ শোষণ করে কম এমন হালকা রঙের পোশাক যেমন আকাশি, হালকা সবুজ, গোলাপি, সাদা, ধূসর, বাদামি ইত্যাদির ওপর রঙিন ছাপা বা প্রিন্টের পোশাক বেছে নিতে পারেন। এতে শিশুদের দেখতে বেশ ভালো লাগে। তবে তারা যেহেতু খেলাধুলা বা ছোটাছুটি করে বেশি, তাই রঙিন পোশাক পরাতে চাইলে ব্লক বা বাটিকের পাতলা সুতি পোশাক বেছে নিতে পারেন। এছাড়াও শিশুদের জন্য ছোট বা মাঝারি প্রিন্টের পোশাক বেশি মানানসই। ফুল, পাতা, পাখি, জ্যামিতিক নকশা বা বল প্রিন্টের পোশাকও পরাতে পারেন। এতে শিশুদের প্রাণবন্ত ও উচ্ছল লাগে। তবে শিশুদের জন্য যে ধরনের পোশাকই নির্বাচন করা হোক না কেন, তা যেন খুব বেশি আটসাঁট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাতাস চলাচল করতে পারে এমন ঢিলেঢালা পোশাক শিশুদের জন্য বেশি উপযোগী। ছেলে ও মেয়ে শিশুদের পোশাকে খুব একটা পার্থক্য দেখা যায় না বললেই চলে। ছেলেদের জন্য আছে ঢিলেঢালা গেঞ্জি, টি-শার্ট, ফতুয়া, নিমা, হাফ-প্যান্ট ও থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, ট্রাউজার, ফুল-প্যান্ট। মেয়েদের জন্য এসব ছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে নানারকম ডিজাইনের ফ্রক, লেহেঙ্গা, সালোয়ার-কামিজ, স্কার্ট, টপস, প্লাজো, শার্ট, টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট ইত্যাদি। এক ডিজাইনার বলেছেন, ‘আমরা সবসময়ই বাংলাদেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে কাপড় বেছে নেই। গরমে শিশুদের পোশাকটা যেন স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়। সোনামণিদের পোশাকে প্যার্টানের দিক থেকে রয়েছে লিল্যাকজিন সিস্টেম যেমন প্রয়োজনে পোশাকটি ছোট-বড় করা যাবে এবং ঢিলেঢালা হলে টাইট করে নিতে পারবেন।’ কোথায় পাবেন লা রিভ, টুয়েলভ, আড়ং, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্বরঙ, কে ক্র্যাফট, অঞ্জন’স, মেনজ ক্লাব, সীমান্ত স্কয়ার, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটে পাবেন শিশুর আরামদায়ক পোশাক। দাম পড়বে ৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে। একটু কম দামের জন্য বেছে নিতে পারেন রাজধানীর নিউমার্কেট, নুরজাহান মার্কেট, বঙ্গবাজার, মৌচাক মার্কেট, তালতলা মার্কেট। গ্যাবার্ডিন ও জিনসের প্যান্টগুলোর দাম পড়বে ৩০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে।

বেচা- কেনা জমজমাট হলেও বাড়তি দামে নাখুশ  ক্রেতারা

বেচা- কেনা জমজমাট হলেও বাড়তি দামে নাখুশ ক্রেতারা

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে শেষ সময়ে পুরোপুরি জমে উঠেছে ময়মনসিংহের ঈদ বাজার। সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই ভিড় বাড়ছে ময়মনসিংহের বিপনি-বিতানগুলোতে। এবারের ঈদে দেশীয় পোশাকের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানী পোশাকের চাহিদা তুঙ্গে। দাম নিয়ে ক্রেতা- বিক্রাতাদের দর কষাকষি চললেও ক্রেতারা কিনে নিচ্ছেন পছন্দের পোশাক। তবে শাড়ীর বাজার মন্দা থাকায় কিছুটা অখুশি ব্যবসায়ীরা। এদিকে শপিংমল ও বিপনি-বিতানসহ বিভিন্ন পয়েন্ট চিহৃিত করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন ফুটপাত, মার্কেট শপিংমল ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে নগরীর তাজমহল, স্টেশন রোড, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, চরপাড়াসহ বিভিন্ন শপিংমল ও বিপনি-বিতানগুলো সেজেছে নতুন সাজে। বাহারি নামে ও ডিজাইনে শাড়ী, থ্রি-পিছ, টপস, শার্ট, প্যান্ট, টিশার্ট শোভা পাচ্ছে শোরুমগুলোতে। গাঙ্গিনারপাড় এলাকার ফুটপাতেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। দাম কষাকষি করে পছন্দের পোষাক কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর পোষাকের দাম বেশি বলে অভিযোগ তাদের। ক্রেতারা জানান, প্রত্যেকটি শপিংমল, বিপনি-বিতানসহ ফুটপাতে পছন্দের পোশাক কিনছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে গত বছরের তুলনায় এবার দাম বেশি নিচ্ছেন বিক্রেতারা। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা। তারা কিছুটা কম দামে কিন্তে এক শোরুম থেকে আরেক শোরুমে ছুটে যাচ্ছেন । অনেকে কম দামে পছন্দের পোশাক পেতে ফুটপাতকে বেছে নিচ্ছেন। শহরের বাড়িপ্লাজা শপিংমল থেকে পরিবারের জন্য পছন্দের পোশাক কিনতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরছিলেন আবু বকর । কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, যেসব থ্রী পিছ গত বছর দাম চেয়েছিল ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা । সেই থ্রী পিছ এখন ১৫শ টাকায় কিনতে হচ্ছে। মেয়ের জন্য এক থ্রী পিছ কিনেছি। এখন পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য পোশাক কিনতে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে যাচ্ছি। তবে বিক্রেতারা বেশি দামে বিক্রি করায় পকেটে টাকার হিসেবে মেলাতে হিমসিম খাচ্ছি। গাঙ্গিনারপাড় এলাকায় ফুটপাত থেকে বাচ্চার টিশার্ট ও প্যান্ট কিনছিলেন সানিয়া আক্তার । তিনি বলেন, এক দরের শোরুমগুলোতে দাম লিখে রাখা হয়েছে। অন্য শোরুমেও দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। এঅবস্থায় নিজের বাজেটের মধ্যে পোশাক কিনতে ফুটপাতে এসেছি। বিক্রেতারা জানান, ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। তবে মানুষের হাতে টাকা না থাকায়, দামি কাপড় কিনতে সাহস পাচ্ছেন না। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে বেশি বিক্রি হচ্ছে সারারা, গারারা, সিল্ক, শিফন, সুতির সালোয়ার-কামিজ, কুর্তিসহ বাহারি ডিজাইনের কাপড়। শিশুদের পোশাক, নারীদের শাড়ি, লেহেঙ্গার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ঈদের কেনাকাটা। দাম একটু বেশি থাকলেও ভালো বিক্রি হওয়ায় খুশি দোকানীরা। আজাদ শপিংমলের ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে বেচাকেনা জমজমাট হয়ে উঠেছে। গতবছরের চেয়ে এবার পোশাকের পাইকারি দাম একটু বেশি। তাই ক্রেতাদের কাছে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বিক্রি কমছে না। শেষ সময়ে বেচাকেনা আরও জমজমাট হবে বলে প্রত্যাশা করছি। ফুটপাতের ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল জনকন্ঠকে বলেন, শপিংমল ও বিপনি-বিতানগুলোতে দাম বেশি থাকার কারনে অনেকেই কিনাকাটা করতে পারছেন না। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতারা ফুটপাতে ভিড় করছেন। তারা কম দামে পছন্দের পোশাক কিনতে পারছেন। এতে আমাদেরও ব্যবসাও ভালোই হচ্ছে । জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে কোনোকিছু বিক্রি করা যাবে না। দেশে তৈরি পোশাক ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি বা অন্য কোনো দেশের বলেও বিক্রি করা যাবে না। ক্রেতা ঠকিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা পকেট ভারি করতে চেষ্টা করলে অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ-আল্-মামুন বলেন, বিভিন্ন শপিংমলের সামনে পোশাক ও সাদা পোশাকে পুলিশের টহল রয়েছে। চুরি- ছিনতাই রোদে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ঈদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।