মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
৮৮০৫৭
বুধবার, ১০ মার্চ ২০১০, ২৬ ফাল্গুন ১৪১৬
স্বাস্থ্য খাতে সাফল্যের প্রশংসা করলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মহাপরিচালক
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত
সফররত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডবিস্নউএইচও) মহাপরিচালক ড. মার্গারেট চেন দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং মানব উন্নয়ন কর্মসূচীতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের অঙ্গীকারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছেন। খবর বাসসর।
ড. মার্গারেট মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাৰাতকালে বলেন, 'আপনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন কাৰিত লক্ষ্য অর্জনের সঠিক পথে রয়েছে।' স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, নারী উন্নয়ন নীতি ও কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচী বাস্তবায়নে কার্যকর পদৰেপ গ্রহণ করার জন্যও স্বাস্থ্য সংস্থার ডিজি শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁর সরকার এর আগেরবার ক্ষমতায় থাকাকালে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সারা দেশে ১৮ হাজার কমিউনিটি হেলথ কেয়ার কিনিক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার এ ধরনের একটি মানবিক কর্মসূচী বাতিল করে দেয়।
শেখ হাসিনা ড. মার্গারেটকে বলেন, বিএনপি সরকার জনস্বার্থে যে সব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তার কোনটাই তাঁর সরকার বন্ধ করবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়াও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ট্রাস্ট বিনামূল্যে সারাদেশে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে এবং ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় সাত লাখ লোককে চিকিৎসা দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রম্নহুল হক, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অধ্যাপক মোদাচ্ছের আলী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব) ডা. মজিবুর রহমান ফকির, এম্বাসেডর এট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোলস্না ওয়াহিদুজ্জামান ও প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এবার টেস্ট দলেও জায়গা হলো না আশরাফুলের
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ওয়ানডের পর টেস্ট দলেও নেই মোহাম্মদ আশরাফুল। নির্বাচকরা বিশেষ করে প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলম দলে রাখার চিনত্মা করলেও শেষ পর্যন্ত ফর্মহীনতাই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফর্মহীন আশরাফুলকে আর বিবেচনায় আনেননি নির্বাচকরা। এ্যাশকে ছাড়াই ১৪ জনের দল সাজানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঘোষণা হয়েছে টেস্ট স্কোয়াড। তাতে আশরাফুল না থাকলেও আরেক ফর্মহীন ব্যাটসম্যান জুনায়েদ সিদ্দিকী ঠিকই আছেন। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন অলরাউন্ডার নাঈম ইসলামও। নাঈমকে ধরে দলে ব্যাটসম্যানের সংখ্যা নয় (বাকিরা হলেন তামিম, ইমরম্নল, আফতাব, জুনায়েদ, রকিবুল, শাকিব, মুশফিক, রিয়াদ)। আর স্পিনার যথারীতি পাঁচজন রাজ্জাক, শাকিব, ছোট এনামুল, রিয়াদ ও নাঈম। আর পেসার তিনজন শফিউল, রম্নবেল এবং রাজিব। ফর্ম নেই একদমই। জাতীয় দলের হয়ে রান পাচ্ছেন না। চটজলদি কম রানে আউট হয়ে যাচ্ছেন। তার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেও একই অবস্থা। জাতীয় লীগে ঢাকার হয়ে এক ম্যাচে উভয় ইনিংসে শূন্য রানে ফিরে গেছেন। তার পর ইংল্যান্ডের সঙ্গে 'এ' দলের হয়ে খেলতে নেমেও ব্যর্থ। প্রথম ইনিংসে ১, পরের বার ৩০। এ রকম খারাপ অবস্থায়ও আশরাফুল সুযোগ পাবেন, তা অতিবড় ভক্তও ভাবেননি। কিন্তু নির্বাচকদের নেয়ার চিনত্মা ছিল। সেটা খেলানোর জন্য নয়। দলের সঙ্গে রেখে হারানো মনোবল ও আত্মবিশ্বাস ফেরাতে। আমি ওয়ানডে-টেস্ট কোন দলেই নেই। এই ভেবে আত্মবিশ্বাস কমতে কমতে একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকতে পারে। দলে থাকলে তা হবে না। অনত্মত মনের জোর কমবে না। বরং মূল বহরের সঙ্গে প্র্যাকটিস করার এবং ড্রেসিংরম্নমে থাকার সুযোগ হবে। এককথায় মন চাঙ্গা থাকবে। এসব ভেবে আগের দিন আশরাফুলকে রেখে দেয়ার পরোৰ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলম। শেষ পর্যনত্ম তা আর বাসত্মব রূপ পায়নি। আশরাফুলকে বাদই দেয়া হয়েছে। বাদ দেয়ার কারণ চিহ্নিত করে প্রধান নির্বাচক বলেন, সাময়িক ফর্মহীনতা আশরাফুলকে চাপে ফেলেছে। তার ব্যাট মোটেই কথা বলছে না। তাই আমরা তাকে বাইরে রাখার সিদ্ধানত্ম নিয়েছি। তাই বলে আশরাফুলকে বাদ দেয়া হয়েছে, এ কথা উলেস্নখ করেননি রফিক। তার ব্যাখ্যা, আশরাফুলের মেধা-যোগ্যতা ও সামর্থ্য নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। তার নিজেকে নতুন করে প্রমাণেরও কিছু নেই। সোজা কথা, ফর্ম ভাল যাচ্ছে না। ব্যাট কথা বলছে না। রানও পাচ্ছেন না। এটা অবশ্যই সাময়িক। ফর্মে ফিরলে আবার ডাকা হবে। এ ছাড়া ফেরার মতো পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগও আছে। সামনে পিসিএল আছে। তার পর জাতীয় লীগের টি২০ পর্বও আছে। দুটি আসরই আশরাফুলের হারানো ছন্দ ফিরে পেতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ দুই ছোট্ট পরিসরের খেলায় এ্যাশ নিজেকে আবার ফিরে পেতেও পারে।
ক্রিকেটে বলা হয়, 'কাস ইজ পারমানেন্ট, ফর্ম ইজ টেম্পোরারি।' আশরাফুল কাস পারফরমার। সাময়িক ফর্ম খারাপ যাচ্ছে। সেটা কেটে যাবে। মেঘে ঢাকা আকাশে যেমন সূর্য ওঠে, প্রচ- ঝড়-বাদলের পর যেমন সন্ধ্যাকাশ চাঁদের সি্নগ্ধ আলোয় স্মিত হাসে_ তেমনি আশরাফুলও হয়ত জ্বলে উঠবেন। তার ব্যাট আবার কথা বলবে। চার-ছক্কা আর রানের ফুলঝুরি ফুটবে। অপেৰা সেই দিনের।
বাংলাদেশ টেস্ট স্কোয়াড শাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম (সহঅধিনায়ক), তামিম ইকবাল, ইমরম্নল কায়েস, জুনায়েদ সিদ্দিকী, আফতাব আহমেদ, মাহমুদউলস্নাহ রিয়াদ, রকিবুল হাসান, নাঈম ইসলাম, রম্নবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, এনামুল জুনিয়র, শাহাদাত হোসেন রাজিব।
ঢাকা মোহামেডান_বিয়ানীবাজার ম্যাচে তুলকালাম
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ সিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিটিসেল বাংলাদেশ লীগের খেলায় ঘটেছে তুলকালাম কা-। লাঞ্চিত হন জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা। দর্শকদের রোষানলে পড়েন ঢাকা মোহামেডানের খেলোয়াড়রা। এ খেলায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয় ঢাকা মোহামেডান ও বিয়ানীবাজার স্পোর্টিং কাব। মঙ্গলবার ১-১ গোলে ড্র হয় খেলাটি। খেলা শেষে বিয়ানীবাজারের গোল বাতিলের দাবিতে রেফারির ওপর চড়াও হন মোহামেডানের খেলোয়াড়রা। রেফারিকে রা করতে এসে লাঞ্ছিত হন জেলা ক্রীড়া সংস্থার এক কর্মকর্তা। এ নিয়ে দর্শকরা উত্তেজিত হয়ে গ্যালারি থেকে মাঠে নেমে আসেন। এ সময় মোহামেডানের খেলোয়াড়রা দৌড়ে ড্রেসিংরম্নমে প্রবেশ করেন। বিকেল ৫টায় সিলেট স্টেডিয়ামে শুরম্ন হয় সিটিসেল বাংলাদেশ লীগের ঢাকা মোহামেডান ও বিয়ানীবাজার স্পোর্টিং কাবের খেলা। খেলার প্রথমার্ধে উভয় দল একাধিক সুযোগ পেলেও গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয়। তবে প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে নাইজিরিয়ান খেলোয়াড় বকুলার করা গোলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ঢাকা মোহামেডান। দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে উঠে স্বাগতিক বিয়ানীবাজার স্পোর্টিং কাব। তারা একের পর এক আক্রমণ চালায় মোহামেডানের রণভাগে। কিন্তু বেশ কয়েকটি সুযোগ সৃষ্টি হলেও গোল আদায় করে নিতে ব্যর্থ হয় বিয়ানীবাজার স্পোর্টিং কাব। খেলার ৯০ মিনিটের সময় নাইজিরিয়ান খেলোয়াড় বেনজামিন কুপার স্বাগতিক বিয়ানীবাজারের প েগোল করে সমতা আনেন। কিন্তু এ গোলের ব্যাপারে আপত্তি জানান মোহামেডানের খেলোয়াড়রা। খেলা শেষে মোহামেডানের খেলোয়াড়রা ঘিরে ধরেন রেফারি তৈয়ব হাসানকে। বিয়ানীবাজারের গোলটি অফসাইড থেকে করা অভিযোগ করে তা বাতিলের দাবি জানান। এ সময় জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা ফেরদৌস চৌধুরী রম্নহেল রেফারিকে রা করতে গেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন মোহামেডানের এক খেলোয়াড়। এ ঘটনায় গ্যালারিতে বসা কয়েক হাজার দর্শক নেমে আসেন মাঠে। তারা মোহামেডানের খেলোয়াড়দের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা চালান। এ সময় ঢাকা মোহামেডানের খেলোয়াড়রা দৌড়ে ড্রেসিংরম্নমে প্রবেশ করে আত্মরা করেন।
ছয় মন্ত্রীকে তলব প্রধানমন্ত্রীর, বিষয়- দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ
মিজান চৌধুরী ॥ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ছয় মন্ত্রীকে জরুরী তলব করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রীদের ডেকে মূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে বৈঠক করেন। খাদ্য ও মূল্য পরিস্থিতি জেনে তিনি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। আগামীতে আন্তর্জাতিক বাজারে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।
সূত্রমতে ওই বৈঠকে কেন জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে জানতে চাওয়া হয়। তবে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান। প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির কারণে বলা হয়, আনত্মর্জাতিক বাজারে দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য বেড়েছে। এ কারণে অভ্যনত্মরীণ বাজারে কিছু পণ্যের মূল্য বেড়েছে। এছাড়া জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে তিনটি পত্রিকাকেও দায়ী করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিরোধী একাধিক রাজনৈতিক দলের মদদে ওইসব পত্রিকা অতিরঞ্জিত করে রিপোর্ট প্রকাশ করায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ওইসব পত্রিকার মাধ্যমে প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। এছাড়া রাতের বেলায় টকশোগুলোতে বক্তব্যের কারণেও বাজারে খারাপ প্রভাব পড়ছে। টকশোগুলোতে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্যের কারণের বাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওই বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, মৎস্য ও শিল্পমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের খাদ্য পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি এবং আগামীতে আনত্মর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। সংশিস্নষ্ট মন্ত্রীরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের ভূূমিকা বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যাবলী তুলে ধরা হয়। আনত্মর্জাতিক বাজারে আগামীতে জিনিসপত্রের দাম বাড়লে দেশে যাতে বড় ধরনের প্রভাব না পড়ে সে ব্যাপারে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ব্যাপারে বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারম্নক খান জনকণ্ঠকে বলেন, ডালের মূল্য বেড়েছে ভারত থেকে আমদানি বন্ধ থাকায়। তবে এ্যাংকরসহ অন্যান্য ডালের মূল্য কম আছে। চিনির দাম রোজার আগে বেড়েছে। এ ব্যাপারে সরকার অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যা অন্য কোন সরকার করতে পারেনি। টিসিবির পণ্য কেনার ৰেত্রে ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে। টিসিবির মাধ্যমে পামতেল আমদানি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এক শ' মেট্রিক টন মসুর ডাল দেশে প্রবেশ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। তবে বলা হয়েছে আগামীতে আনত্মর্জাতিক বাজারে মূল্য বাড়ছে। ওই মূল্য বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। এ জন্য আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।
সূত্রমতে, সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে একটি চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে আনতে বলা হয়। এদিকে বর্তমান আলুর অতিউৎপাদন নিয়েও আলোচনা হয়। বর্তমান চালের মূল্য বেড়ে স্থিতিশীল রয়েছে। চালের মূল্য বৃদ্ধিও কারণে বিভিন্ন কর্মসূচীর ব্যাপারে বিসত্মারিত কৃষি মন্ত্রণালয়ের পৰ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়।
আনত্মঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠক ॥ এদিকে মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাণিজ্য সচিব গোলাম হোসেন আলুর কোল্ডস্টোরেজ মালিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে আলু রফতানি নাকচ করে দেয়া হয়। কোল্ডস্টোরেজ মালিকরা আলু রফতানির জন্য নগদ সহায়তা ২০ শতাংশ দাবি করা হয়।
সাতীরায় চাঁদার দাবিতে গোপন দলের চরমপত্র ॥ এলাকায় আতঙ্ক
স্টাফ রিপোর্টার, সাতীরা ॥ রাজনৈতিক নেতা ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি আইনজীবী ও চাকরিজীবীসহ জেলার তালা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তির কাছে চরমপত্র দেয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী দল পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এমএল জনযুদ্ধের নামে এই চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে 'পার্টি নির্ধারিত চাঁদার টাকাসহ প্রস্তুত থাকবে। কাউকে জানাবে না। চালাকি করলে লাশ পড়ে থাকবে।' এই ধরনের চিঠি পাওয়ার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে এ ধরনের কিছু চিঠি পুলিশ উদ্ধার করেছে।
জনযুদ্ধের আঞ্চলিক নেতা জীবনের নামে পাঠানো এ সকল চিঠিতে বলা হয়েছে, খুলনা, যশোর, নড়াইল, সাতীরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু সদস্য এখন জেল খাটছে। তাদের মুক্ত করতে এখন প্রয়োজন অনেক টাকা। তাই আপনার কাছে পার্টি এই টাকা নির্ধারণ করেছে। আপনি টাকা নিয়ে প্রস্তুত থাকবেন। কাউকে জানানোর চেষ্টা করলে ফল ভাল হবে না। আপনার লাশ পড়ে থাকবে। যেমনটি পড়েছিল খুলনার মঞ্জুরম্নল ইসলামের লাশ। জনযুদ্ধের নামে পাঠানো এ ধরনের চিঠি পাওয়ার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে । গত বৃহস্পতিবার এ ধরনের ২৮টি চিঠি আসে তালার মাগুরা পোস্ট অফিসে। এই চিঠি পাওয়ার পর তালা থানা পুলিশের প থেকে মাগুরা বাজারে একটি সভা করা হলেও এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। এলাকাবাসী এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চ মহলের হসত্মপে কামনা করেছে।
প্রামাণ্যতথ্য উপস্থাপন করুন ॥ খালেদাকে আশরাফের চ্যালেঞ্জ
তেরো মাসে ২০% নারী নির্যাতনের শিকার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ "গত ১৩ মাসে এই সরকারের আমলে সারাদেশে ২০ ভাগ নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন"-বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যকে চরম মিথ্যাচার এবং অসত্য বলে আখ্যায়িত করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বিরোধীদলীয় নেত্রীর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, 'কথিত ২০ শতাংশ নির্যাতিত নারীর নাম-পরিচয় এবং নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ করুন। তাঁর (খালেদা জিয়া) বক্তব্যে প্রমাণের দায়-দায়িত্ব তাঁকেই নিতে হবে। অতীতের অপরাধের জন্য দেশবাসী বিশেষত নারী সমাজের কাছে মা চাওয়ার জন্য খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'আশা করব তিনি মিথ্যার বেসাতি এবং নোংরামি বন্ধ করে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। তাঁর গায়ের ওপর যে পাকিস্তানী পেতাত্মা চেপে বসে আছে তা ঝেড়ে ফেলে দেশের পরিবর্তিত বাস্তবতা মেনে নিয়ে রাজনীতির সুস্থ ধারায় ফিরে আসবেন। যুদ্ধাপরাধী জামায়াতকে জোট থেকে বাদ দেবেন। অন্যথায় জাতি কোন দিনই আপনাদের মা করবে না।"
তিনি বলেন, অচিরেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। খালেদা জিয়া এদের রা করতে পারবেন না। আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে মুক্তিযুদ্ধের সময় কে, কোথায় কতজন নারীকে হত্যা করেছে, কতজন নারীকে ধর্ষণ করেছে এবং মনোরঞ্জনের জন্য কতজন নারীকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে, তা বেরিয়ে আসবে। এ জন্যই খালেদা জিয়া নার্ভাস হয়ে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, 'খালেদা জিয়ার বক্তব্য একেবারেই ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও রাজনৈতিক বিদ্ব্বেষপূর্ণ নির্জলা মিথ্যাচার। চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি বেগম জিয়ার কথিত ২০ শতাংশ নির্যাতিত নারীর নাম, পরিচয়, ঠিকানা, নির্যাতনের স্থান এবং নির্যাতনের ধরনের প্রামাণ্য তথ্য তিনি দেশবাসীর সামনে হাজির করম্নন। তালিকা দিন। তিনি বলেন, '১৫ কোটি মানুষের দেশে ২০ ভাগ নারীকে নির্যাতনের শিকার হতে হলে ১ কোটি ৬০ লাখ নারীকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। গত ১৩ মাসে এত বিপুল সংখ্যক নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন_তা পরিসংখ্যানগতভাবেই অবাসত্মব ও হাস্যকর। আমরা তাদের (বিএনপি) কাছে নারী নির্যাতনকরীদের তালিকা থাকলে তা দিতে বলব। তাহলে, আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব।'
সৈয়দ আশরাফ বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সংঘটিত সংখ্যাতীত অন্যায়-অত্যাচারের দুঃসহ স্মৃতি থেকে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার হীনমানসে খালেদা জিয়া এই কদর্য মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতার মতো একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির মুখে এহেন কুৎসিত মিথ্যাচার মানায় না। এতে বিদেশের কাছে দেশের ভাবমূর্তিও ুণ্ন হয়।
এই প্রসঙ্গে গত জোট সরকারের পাঁচ বছরে সংঘটিত নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, '২০০১-২০০৫ সালের মধ্যে পাকিসত্মানী পেতাত্মা বিএনপি এবং পুরনো রাজাকার-আলবদরের দল যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীর সম্মিলিত অভিযানে দেড় লাধিক নারী তাদের সম্ভ্রম হারিয়েছে। তাই বিএনপি-জামায়াত ধর্ষক ও খুনীদের নেত্রী, নারী সমাজের কলঙ্ক খালেদা জিয়ার মুখে আর যাই হোক- নারী নির্যাতন বা নারীর অধিকারের কথা শোভা পায় না।'
এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, জোট সরকারের পাঁচ বছরে সংঘটিত নারী নির্যাতনসহ সকল অত্যাচার-নির্যাতন বিষয়ে তদনত্ম কমিশন গঠিত হয়েছে। অচিরেই দোষী ব্যক্তিদের আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করে বিচার শুরম্ন হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি ২১ ফেব্রম্নয়ারি ঢাকা বিশ্ববদ্যিালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কয়েক কর্মীর হাতে ছাত্রী লাঞ্ছনার ঘটনাকে 'আইনশৃঙ্খলাজনিত ঘটনা' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বলেন, ওই ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী ইতোমধ্যেই পদপে নিয়েছে। সরকার যে কোন স্থানে যারাই নারী নির্যাতন করম্নক না কেন, কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গে সৈয়দ আশরাফ আলবেনিয়া, যুগোসস্নাভিয়া, লাইবেরিয়া, কম্বোডিয়াসহ নুরেমবার্গ ট্রায়ালের উদাহরণ টেনে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের প্রতীকী বিচার হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশে এক লাখের ওপর রাজাকার ছিল। এ ছাড়াও পাকিসত্মানের দোসর ছিল প্রায় চার-পাঁচ লাখ। এত লোকের বিচার করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সাধারণ মা ঘোষণার পরও ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধী জেলখানায় বন্দী ও তাদের বিচার হচ্ছিল। এদের মধ্যে এখনও যাঁরা বেঁচে আছেন ও সুস্থ আছেন তাঁদের বিচার হবে। যেসব ব্যক্তি, সংগঠন ও দল যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের চিহ্নিত করে বিচার করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপুমনি, আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আফজাল হোসেন, মৃণাল কানত্মি দাশ, অসীম কুমার উকিল, ফরিদুন্নাহার লাইলী, সাগুফতা ইয়াসমীন এ্যামিলি, মেহের আফরোজ চুমকি, আশরাফুন্নেছা মোশারফ, এথিন রাখাইন, অপু উকিল, শাহীন মনোয়ারা হক, সাধনা হালদার, তহুরা আলী, সানজিদা খানম প্রমুখ।
প্রিমিয়ামের হার বৃদ্ধি ॥ বীমা কোম্পানির কড়া সমালোচনায় ওবামা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রিমিয়ামের হার বৃদ্ধি এবং গুরুতরভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের বীমা সুবিধা দিতে অস্বীকার করায় তার দেশের স্বাস্থ্য বীমা কোম্পানিগুলোর কড়া সমালোচনা করেছেন। খবর আল-জাজিরা অনলাইনের।
বারাক ওবামা তার স্বাস্থ্যসেবা বিশ্বের প্রতি সমর্থন দিতে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতি আহ্বান জানান। তিনি অধিকতর সংখ্যক অসুস্থ ও দুস্থ মানুষকে বীমার আওতা থেকে বাদ দেয়ার দায়ে কোন কোন কোম্পনিকে অভিযুক্ত করেন। তিনি সোমবার ফিলা ভেদাফিয়ায় এক সমাবেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন।
তিনি বলেন, অন্যদিন গেন্ডম্যান স্যাচস আয়োজিত এক সম্মেলনে এক বীমার দালাল ওয়ালস্ট্রিট বিনিয়োগকারীদের বলেন, স্বাস্থ্যবীমা কোম্পানিগুলো জানে যে, তারা প্রিমিয়ামের হার বাড়িয়ে যেতে থাকলে গ্রাহক হারাবে।
ওবামা বলেন, কিন্তু বীমা শিল্পে সামান্যই প্রতিযোগিতা থাকায় লোকজন প্রিমিয়ামের হার বৃদ্ধির কারণে স্বাস্থ্যবীমা ছেড়ে দিলেও কোম্পানিগুলো সন্তুষ্টই থাকে। কারণ তারা তখনও তাদের হাতে থাকা গ্রাহকদের প্রিমিয়ামের হার বাড়িয়ে আরও অর্থ আয় করবে।
তিনি বলেন, তারা ততদিন প্রিমিয়ামের হার বাড়িয়ে যাবে যতদিন তারা সেটি করে পার পেয়ে যেতে পারবে।
ওবামার ডেমোক্রেটিক সমর্থকরা স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার বিধিবদ্ধ করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয়ের ওপর চাপ জোরদার করছে। প্রসত্মাবিত বিল ব্যয় হ্রাস করা, বীমা কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং আদৌ স্বাস্থ্যবীমা নেই এমন লাখ লাখ আমেরিকানকে বীমার আওতায় এনে বীমা শিল্পের পুনর্বিন্যাস করবে। বীমা শিল্পে বর্তমান বিনিয়োগের পরিমাণ আড়াই ট্রিলিয়ন ডলার। আল-জাজিরার প্যাটি কালছেন বলেন, রিপাবলিকানরা বিলটি নিয়ে ডেমোক্রেটদের মধ্যে ফাটল ধরাতে সৰম হয়েছেন।
তিনি বলেন, গর্ভপাতের জন্য সরকারের অর্থ যোগানোর ইসু্যটি ঠিক এখন ডেমোক্রেটদের জন্য অন্যতম ইসু্য হয়ে দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, একটি খুবই গৌণ এক বিধান। কিন্তু রিপাবলিকানরা একে সমালোচনা লৰ্যস্থল হিসেবে বেছে নিতে সমর্থ হয়েছে। আর প্রতিনিধি পরিষদে এমন কয়েকজন ডেমোক্রেট রয়েছেন, যারা বলেছেন, যদি আমাদের গর্ভপাত সম্পর্কে সিনেটের খসড়া গ্রহণ করতে হয়, তবে আমরা এর পৰে ভোট দিতে যাচ্ছি না।'
তিনি বলেন, আর এৰেত্রে প্রতিটি আলাদা ভোটেরই মূল্য রয়েছে। প্রসত্মাবিত স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের দুটি খসড়া বিল কংগ্রেসে পাস হয়েছে। কিন্তু দুটি বিলকে সমন্বিত করে এক চূড়ানত্ম বিল ওবামার স্বাৰরের জন্য পাঠনোর চেষ্টা জানুয়ারিতে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
এরপর ম্যাসাচু্যসেটসের নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা সিনেটে তাদের গুরম্নত্বপূর্ণ ৬০তম আসনটি হারায়। রিপাবলিকানরা বিল পাসের পথে যে পদ্ধতিগত বাধার সৃষ্টি করতে পারতেন, তা ৬০ ভোটে এড়ানো যেত। কিন্তু ডেমোক্রেটরা এক বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বনের পরিকল্পনা করছেন। এটি তাদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিল পাসের সুযোগ দেবে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগটি অবৈধ ॥ মিগ মামলা খারিজ
আদালতের পর্যবেক্ষণ
০ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়
০ ‍অর্থ আত্মসাত বা রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণার কোন উপাদান এ মামলায় নেই
০ যে ধারায় মামলা তার আইনগত ভিত্তি নেই
০ অনুপস্থিতিতে চার্জ গঠন ছিল মারাত্মক আইনগত ভ্রান্তি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরম্নদ্ধে দায়েরকৃত মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলা অবৈধ ও বেআইনী ঘোষণা করে খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও বিচারপতি বোরহান উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেয়। এর আগে ৪ মার্চ একই বেঞ্চ বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার সংক্রান্ত ৩টি মামলাও খারিজ করে দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরম্নদ্ধে ১৫টি মামলার মধ্যে আটটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এখনও সাতটি মামলা শুনানির অপেৰায় রয়েছে।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় দায়েরকৃত মিগ-২৯ মামলার রায়ে বলা হয়েছে, তৎকালীন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে এ মামলা করা হয়। অর্থ আত্মসাত বা রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা কোন অপরাধের উপাদান এ মামলায় নেই। যে ধারায় এ মামলা করা হয়েছে, তার উপাদান বিদ্যমান না থাকায় এ মামলার আইনগত ভিত্তি নেই। তাই এ মামলা খারিজ হলো।
মামলাটি করা হয়েছিল বিলুপ্ত দুর্নীতি দমন ব্যুরো ২০০১ সালের ১১ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায়। ১৯৯৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া থেকে ৮টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কেনে। নীতিমালা লঙ্ঘন করে কেনা বাবদ রাষ্ট্রের প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে আনা হয়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হলে, তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শেখ হাসিনা রিট দায়ের করেন।
বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের দ্বৈত বেঞ্চে রায় ঘোষণা করে বলা হয়, অসৎ উদ্দেশ্যে এ ধরনের মামলা কখনও করা উচিত নয়। রায়ে উলেস্নখ করা হয়, ২টি আঙ্গিক থেকে মামলাটি খারিজ করা হয়েছে। প্রথমত, আইন ভঙ্গ করে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁর বিরম্নদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। দ্বিতীয়ত, মুখ্যত যে কাহিনীর অবতারণা করা হয়েছে এজাহার এবং চার্জশীটে তা কোন ফৌজদারী আইনের আওতায় পড়ে না। অর্থাৎ ঐ কাহিনী সত্য হলেও কোন মামলা যা সেই মামলার ভিত্তিতে সাজা হতে পারে না। এটা একটি দৃঢ় প্রতিষ্ঠানিক বিধান যে, অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে কোন চার্জ গঠন হতে পারে না। যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক না হয়।
এ ব্যাপারে আমাদের এবং কমন ল ভুক্ত দেশসমূহের উচ্চতর আদালতের ভূরি ভূরি সিদ্ধান্ত রয়েছে। এই মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক ছিলেন না। এটা স্বীকৃত ব্যাপার। স্বীকৃত যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি চিকিৎসার কারণে চার্জ গঠনের শুনানির সময়ে বিদেশে অবস্থান করছিলেন। এটা দালিলিক যে, তাঁর চিকিৎসার সংজ্ঞাও অনুপস্থিতির জন্য নিম্ন আদালতে চার্জ গঠনের দিন পরিবর্তনের দরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু নিম্ন আদালত ঐ দরখাস্ত গ্রাহ্য না করে দরখাস্তকারীর অনুপস্থিতিতেই তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। আমরা মনে করি সময়ের দরখাস্ত নাকচ করে দরখাস্তকারীর অনুপস্থিতিতে এক দরখাস্তকারীর বক্তব্য শ্রবণ না করে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন ছিল মারাত্মক আইনগত ভ্রানন্তি। যার কারণে গঠিত চার্জ কোন অবস্থায়ই আইনগত স্বীকৃতি দেয়া যেতে পারে না।
বিচারকরায়ে উল্লেখ করেন, নিম্ন আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের উচিত ছিল সময়ের আবেদন মঞ্জুর করা। কেননা আদালতের অনুমতি এবং জ্ঞান সাপেৰেই দরখাস্তকারী চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছিলেন।
দ্বিতীয়ত, এজাহার এবং চার্জশীটে যে ঘটনা ব্যক্ত করা হয়েছে, তা আদৌ ফৌজদারী আইনসমূহের উলিস্নখিত ধারা অর্থাৎ ফৌজদারী দ-বিধির ৫০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতিবিরোধী আইনের ৫(২) ধারার আওতায় পড়ে কিনা? ফৌজদারী দ-বিধির ৫০৯ এবং ৫০৪ ধারা বিশেস্নষণ করলে এটা পরিষ্কার ফুটে ওঠে যে, কোন ব্যক্তি তখনই উক্ত ৫০৯ ধারার অভিযোগে অভিযুক্ত হতে পারেন। যদি দেখা যায় যে, তিনি তার নিজের জন্য বা অন্য কারোর জন্য বিশ্বাসভঙ্গমূলক এবং অসৎভাবে উক্ত সম্পত্তি আত্মসাত করেন বা তার নিজের ব্যবহারে অথবা নিজের ব্যবহারের জন্য রূপানত্মর করেন অথবা বিক্রি করেন।
রায়ে আরও বলা হয়, ১৯৪৭ সালের দুনর্ীতি দমন আইনের ৫(১) ধারা অনুযায়ী একজন ব্যক্তির বিরম্নদ্ধে তখনই মামলা করা যায়, যদি তার বিরম্নদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ থাকে যে, তিনি সম্পত্তি অথবা আর্থিক সুবিধা নিজে তসরম্নফ গ্রহণ করেছেন। অথবা গ্রহণের চেষ্টা করেছেন অথবা অন্য কাউকে সেই সুবিধা প্রদান করেছেন। রায় পাঠ করে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও বিচারপতি বোরহান উদ্দিনের বেঞ্চ বলেছে, আমাদের এই মামলায় যে এজাহার বা চার্জশীট করা হয়েছে, তার কোথায়ও এমন কোন কথা নেই যে, দরখাসত্মকারী এই উপরোলিস্নখিত কোন ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাঁর সম্পর্কে এজাহার এবং অভিযোগ মতে মূলত যে কথা বলা হয়েছে, তা হলো, দেশের প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও তিনি মিগ-২৯ বিমানসমূহ ক্রয় করেছেন। আমাদের কোন ফৌজদারী আইনে এমন কোন বিধান নেই। নেত্রী সম্পর্কে যে কথা বলা হয়েছে তার ভিত্তিতে তার বিরম্নদ্ধে ফৌজদারী মামলা চলতে পারে।
রায়ে বলা হয় এ সম্পর্কে আদালতে উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মতামত চাওয়া হলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যে এজাহারে এবং অভিযোগপত্রে যে কথা বলা হয়েছে, তার ভিত্তিতে কোন ফৌজদারী মামলা দায়ের করা বা প্রচলিত রাখা যেতে পারে না। উলেস্নখ করেছেন ফৌজদারী দ-বিধির অথবা অন্য কোন ফৌজদারী আইনের আওতায় কোন কাহিনী আনয়ন করা যায় না, গেলে কোন ব্যক্তিকে ফৌজদারী অপরাধে অভিযুক্ত করা যেতে পারে না। সেই অর্থে বর্তমান ফৌজদারী মামলা চলতে পারে না। তিনি আরও বলেন যে, সিদ্ধানত্ম গ্রহণের ব্যাপারে কোন ভুল যদি সত্যি সত্যি পরিলৰিত হয় তার বিচারের দায়িত্ব পার্লামেন্ট এবং জনসাধারণের, তার ভিত্তিতে কোন মামলা করা যেতে পারে না।
রায়ে আরও বলা হয়, আবেদনকারীর সিনিয়র আইনজীবী রফিক উল হক, আব্দুল মতিন খসরম্ন, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, নুুরম্নল ইসলাম সুজন, ফজলে নূর তাপস একই মতামত পেশ করেছেন। তদুপরি আদালতে উপস্থিতি আরেক বিজ্ঞ আইনজীবী আব্দুর রব চৌধুরী বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ের সিদ্ধানত্ম নেয়ার ৰমতা জনপ্রতিনিধিত্বকারী সরকারের ওপর। তারা যদি এসব সিদ্ধানত্ম প্রয়োগ করতে না পারে, এই ভয়ে থাকেন যে, কোন সিদ্ধানত্ম হলে তার বিরম্নদ্ধে মামলা হতে পারে। তা হলে রাষ্ট্রযন্ত্র বিকল হতে বাধ্য। রায়ে বলা হয়, আমরা বিজ্ঞ আইনজীবীদের উলিস্নখিত মতামতের সঙ্গে একমত। যেহেতু এজাহারে বা অভিযোগপত্রে কোথায়ও উলেস্নখ নেই যে, আবেদনকারী নিজের জন্য বা অপরকারোর জন্য কোন সম্পদ বা অর্থ আত্মসাত করেছেন, বা আত্মসাতের সুযোগ ঘটিয়ে দিয়েছেন। সেহেতু তার বিরম্নদ্ধে কোন ফৌজদারী মামলা চলতে পারে না। প্রশ্ন থেকে যায় অভিযোগ গঠন পত্রটি বাতিল ঘোষণা করা হলে তার ফল কি হবে। এ ব্যাপারে আদালতে উপস্থিত আরেক সিনিয়র এ্যাডভোকেট আনিসুল হকের মতামত চাওয়া হলে, তিনি বলেন, চার্জ গঠন দলিলটি খারিজ করা হলে আদালতের সামনে মামলা চালিয়ে যাবার আর কোন উপস্থিত থাকবে না। সে কারণে এই দলিলটি খারিজ করা হলে পুরো মামলাটি খারিজ করতে হবে। অন্যথায় এটা একটি অবাসত্মব পরিণতিতে নিৰিপ্ত হবে। রায়ে বলা হয় ১৯৫৪ সালের এআইআর-এ মুদ্রিত সম্রাট বনাম নাজির আহমেদের কথা উল্লেখ করতে পারি। উক্ত মামলায় প্রিভি কাউন্সিল এই মর্মে রায় প্রদান করে যে অভিযোগপত্রে এমন ঘটনা উলেস্নখ না থাকে যা ফৌজদারী আইনের কোন বিধানে আনা যায়, তাহলে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কোন ফৌজদারী মামলা করা হলে তা অচিরেই খারিজ করে দেয়া একান্ত বাঞ্ছনীয়। এ ছাড়া ৩৮ ডিএলআরএ বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীও একই মনত্মব্য প্রকাশ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ বনাম রাষ্ট্র মামলাসহ অন্যান্য বহু মামলায় ভারতীয় সুপ্রীমকোর্ট একই ধরনের মন্তব্য ব্যক্ত করেছে। এমতাবস্থায় এই মৃত মামলাটি যার মৃত অবস্থায় জন্ম, জীবনহীন অবস্থায় যার জন্ম, তা খারিজ করে দেয়া একানত্ম বাঞ্ছনীয় হয়ে পড়েছে। নয়ত শুধু আবেদনকারী লাঞ্ছিত হবেন না, আমাদের পুরো আইন ব্যবস্থাও অপব্যবহারের শিকার হবে।
রায়ে আরও বলা হয়, এজাহার এবং অভিযোগপত্র থেকে এটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার যে, মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল, রাজনৈতিক অভিসন্ধির কারণে। দরখাস্তকারী শুধু বাংলাদেশের নয়। সারা পৃথিবীতে একজন অতি পরিচিত ব্যক্তি যিনি সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত। এই মামলাটি চরিত্র হননের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সুতরাং কালক্ষেপণ না করে এই মামলা খারিজ করে দেয়া হলো। এ বিষয়ে ভারতেরে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি কৃষ্ণা আয়ারের উক্তি উলেস্নখযোগ্য। তিনি নবাব খান আব্বাস খান বনাম গুজরাট রাষ্ট্র মামলায় বলেছিলেন, যদি সংবিধানের প্রদত্ত মানবাধিকার ভঙ্গ করে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অসার ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হয় তা হলে সেই মামলা অচিরেই খারিজ না করলে সংবিধানের শাসন পদ্ধতি মারাত্মকভাবে বিঘি্নত হতে বাধ্য। উপরোক্ত কারণসমূহের আলোকে আমরা এই মামলা খারিজের নির্দেশ প্রদান করছি। একই কারণে এই রুলটিও এ্যাবসুলেট করা হলো।
ভারতে ধরা পড়ল আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড জালিয়াত চক্রের ৫ সদস্য
প্রতারণার কৌশল ফাঁস করল পুলিশের কাছে
ভারতে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি চক্র ধরা পড়েছে। রবিবার তাদের ৫ জন জালিয়াতকে আটক করার পর এ তথ্য প্রকাশ পায়।
গ্রেফতারের পরে পুলিশ জানতে পারল, আমেরিকা থেকে নাইজিরিয়া, মুম্বাই থেকে কলকাতা, সর্বত্রই রমরমা ব্যবসা ফেদেছিল তারা। পুলিশ জানায়, আটকরা হচ্ছে পিটার ওরেনুবি ওলুওয়াগবেঙ্গা (৩৭), লিয়ান্না ওরেনুবি (৪২), বেনসন ওয়াদেতান এ্যাডামস (২৫), মণীশ অগ্রবাল (২৪) ও অঙ্কিত শাহ (২০)। এদের মধ্যে পিটার, লিয়ান্না ও বেনসন আদতে নাইজিরিয়ার বাসিন্দা। লিয়ান্না সম্পর্কে পিটারের স্ত্রী। মণীশ ও অঙ্কিত কলকাতার বাসিন্দা। পিটার ও লিয়ান্নাকে ধরা হয়েছে কলকাতা বিমানবন্দর মানবন্দরে আনতে গিয়েছিল লিয়ান্না। বেনসনকে ধরা হয় পিকনিক গার্ডেন এলাকা থেকে। মণীশ ও অঙ্কিত ধরা পড়েছে আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোডে তাদের বাড়ি থেকে। পুলিশের দাবি, আটকরা জেরায় জানিয়েছে, পিটারই এই চক্রের মূল ব্যক্তি।
পুলিশ জানায়, মূলত আমেরিকান নাগরিকদের ক্রেডিট কার্ডের খুঁটিনাটি হ্যাক করে ই-মেইল মারফত সেগুলো পাঠানো হতো নাইজিরিয়ায়। পিটার সেসব তথ্য পাঠিয়ে দিত কলকাতায় বেনসনের কাছে। বেনসনের কাজ ছিল কলকাতায় এই চক্রে এজেন্ট নিয়োগ করা। মণীশ ও অঙ্কিত তেমনই দুই এজেন্ট। এ শহরে বা দেশের অন্যত্র ওই দুই যুবক ছাড়াও অন্য কাউকে বেনসন নিয়োগ করে ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এবার ওই সব কার্ডের ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ ইনফরমেশনগুলো রিডার রাইটার যন্ত্রের সাহায্যে এ দেশের বিভিন্ন বেসরকারী ব্যাংকের জাল ক্রেডিট কার্ডের ওপরে রিরাইট করা হত কলকাতায় বেনসনের বাড়িতে। লিয়ান্নার বাড়ি থেকে ওই যন্ত্রটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে মিলেছে বিভিন্ন জাল ক্রেডিট কার্ড। ওই ব্যাংকগুলোর লোগো ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সবই জাল। এবার বিভিন্ন শপিং মল বা বড় দোকানে মোটা টাকার কেনাকাটা করত মণীশ ও অঙ্কিতের মতো এজেন্টরা। টাকা মেটানোর সময় ইলেক্ট্রনিক ডাটা ক্যাপচারিং মেশিন এ সোয়াইপ করা হতো জাল ক্রেডিট কার্ড। গত কয়েক মাসে এ ধরনের ঘটনা বেশ কয়েক বার হওয়ায় শেষ পর্যনত্ম একটি বেসরকারী ব্যাংক অভিযোগ কর পুলিশে। সোমবার গোয়েন্দাপ্রধান দময়নত্মী সেন বলেন, '২৩ ফেব্রম্নয়ারি ওই বেসরকারী ব্যাংক অভিযোগ দায়ের করে।'
জঙ্গী সংগঠনের হয়ে মাঠে নেমেছে মহিলা সদস্যরা
এরা কৌশলে পুলিশের মুভমেন্ট সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ জেলায় জঙ্গী সংগঠনকে চাঙ্গা করতে শক্তিশালী মহিলা সিন্ডিকেট মাঠে নেমেছে। এরই মধ্যে তারা অনেকটা সফলতা অর্জন করেছে। জানা গেছে, সরকার মতা গ্রহণের পর একটি মৌলবাদী দলের শীর্ষনেতাদের আশীর্বাদ নিয়ে দল সুসংগঠিত করার জন্য মাঠে নেমেছে একটি শক্তিশালী চক্র। এ চক্রের অধিকাংশ সদস্যই মহিলা। সংবাদ আদান-প্রদান, অস্ত্র পরিবহনের কাজে মহিলারাই নিরাপদ ভেবে জঙ্গীরা মহিলাদের ব্যবহার করছে। অভাবী পরিবারের অধিকাংশ নারী সদস্যই এ দলে ভিড়েছে জানা গেছে। সংসারের অভাব ও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগাড় করতেই ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও নারীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠনে ভিড়েছে। সূত্র আরও জানায়, ওই সকল নারী সদস্য সকাল হলেই শহরে প্রবেশ করে। এদের অধিকাংশকে জেল গেটে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। জেলা কারাগারে বন্দী জঙ্গীদের কাছে খবরাখবর আদান-প্রদান করে। কেউ কেউ আবার পুলিশ বিভাগের সদস্যদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে কৌশলে পুলিশের মুভমেন্ট সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে থাকে। শহরের কোন পয়েন্টেই সন্দেহভাজন মহিলাদের চেক বা তলস্নাশি না করার কারণেই তারা থেকে যাচ্ছে নিরাপদে। এ ছাড়া দিনাজপুরের আদালতপাড়ায়ও এদের ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। উচ্চবিত্ত স্টাইলে সাজসজ্জা থাকায় সাধারণত কেউ এদের সন্দেহ করতে পারে না।
অপর এক সূত্র জানিয়েছে, বিগত দুই সপ্তাহে দিনাজপুরে ভারত থেকে দু'টি চালান প্রবেশ করেছে। চালান দু'টির একটি খানপুর অন্যটি হিলি সীমানত্ম দিয়ে প্রবেশ করানো হয়েছে। চালান দু'টি প্রবেশ করানোর জন্য মধ্যস্বত্বভোগীদের দেয়া হয়েছে এক লাখ টাকা। মধ্যস্বত্বভোগীদের দায়িত্ব ছিল খানপুর বিডিআর ক্যাম্প ও পুলহাট পুলিশ ফাঁড়ি এবং হিলির হাড়িপুকুর বিডিআর বিশেষ ক্যাম্প পার করে দেয়া। এই চালান প্রবেশকালে হিলি এলাকায় একটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয় যাতে 'সংবাদপত্র' লেখা ছিল। এদিকে খানপুর সীমানত্ম পার করার দায়িত্বে ছিল দু'জন মহিলা। সূত্রের বর্ণনামতে হিলির একশ্রেণীর বিপথগামী যুবক নিজেদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে সংবাদপত্র বা সাংবাদিক লিখে পুলিশ প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে নির্বিঘ্নে অপরাধীদের সহায়তা করে যাচ্ছে। তারা সরাসরি অস্ত্র, মাদক আমদানি ও বিকিকিনির সঙ্গেও জড়িত। এ ছাড়া অপর একটি চক্র এ্যাম্বুলেন্সের সাহায্যে মাদক ও অস্ত্র আমদানি করছে। অন্যদিকে দিনাজপুর থেকে দূরপালস্নার গাড়িতে করে জঙ্গীদের অস্ত্র ও ইসলামী জিহাদের বই এবং সিডি দেশের বিভিন্ন রম্নটে পেঁৗছে দেয়া হচ্ছে। পলিথিনের মধ্যে প্যাকিং করে ককসিটের বক্সে বরফ দিয়ে বক্সের উপরে মাছ লিখে বিগত দু'মাসে কয়েক দফা এসব চালান দিনাজপুর শহরের থানা মোড় ও বিরামপুর এলাকা থেকে দূরপালস্নার গাড়িতে করে পাঠানো হয় বলে সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ থেকে বিপুল কৃষি শ্রমিক নিতে আগ্রহী মালি
কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ বিশ্বমন্দার পর জনশক্তি রফতানি খাতে ধস ঠেকাতে আফ্রিকায় বিকল্প বাজারের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম দফায় বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ কৃষি শ্রমিক নিতে আগ্রহী আফ্রিকার দেশ মালি। জনশক্তিসহ দ্বিপাৰিক বাণিজ্যে সহযোগিতার ৰেত্র চিহ্নিত করতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তার ওয়ানির নেতত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল আগামী ১১ মার্চ বাংলাদেশ সফরে আসছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে মালির প্রেসিডেন্ট আলফা ওমর কোনারির বাংলাদেশ সফরের সময় দু'দেশের মধ্যে জনশক্তি রফতানি সংক্রান্ত্র একটি চুক্তি স্বাৰরিত হয়েছিল। চুক্তিতে বাংলাদেশ থেকে মালি প্রায় ২৫ হাজার কৃষি শ্রমিক আমদানির কথা জানিয়েছিল। পরবতর্ীতে বাংলাদেশ শ্রমিক রফতানি করতে উদ্যোগ না নেয়ার চুক্তির বাসত্মবায়ন হয়নি। সম্প্রতি মালির পৰ থেকে চুক্তিটি বাসত্মবায়নের আগ্রহের কথা বাংলাদেশকে জানানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আসছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, কৃষি শ্রমিক আমদানির পাশাপাশি মালি বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ আমদানিরও প্রসত্মাব দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেশটির ওষুধ খাতের একটি প্রতিনিধি দলও বাংলাদেশে আসছেন। তারা কয়েকটি ওষুধ কারখানা পরিদর্শনের পাশাপাশি ওষুধ খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকে মালিতে সীমিত আকারে ওষুধ রফতানি শুরম্ন হয়েছে। দেশটি এখন বেশি পরিমাণে ওষুধ রফতানি করতে আগ্রহী। সূত্র জানায়, এর বাইরে মালি কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ, ৰুদ্রঋণ বিতরণ ও ব্যবস্থাপনা এবং পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বাংলাদেশের সহযোগিতা নিতে আগ্রহী। এছাড়া ১৯৯৫ সালে দু'দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় সংক্রানত্ম বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাৰরিত হয়েছিল। এবার চুক্তিটির বাসত্মবায়ন নিয়েও দু'দেশের মধ্যে আলোচনা হবে। মালির পৰ থেকে ফল ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে দু'দেশের যৌথ বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, মালি জাতিসংঘ শানত্মিরৰী বাহিনীতে অংশগ্রহণে তাদের দেশের সৈন্যদের দৰতা বাড়াতে বাংলাদেশের সহযোগিতা নিতে আগ্রহী। সফরকালে সামরিক খাতে সহায়তা বাড়াতে দেশটি বাংলাদেশের সহায়তা চাইতে পারে। বর্তমানে মালির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাৰিক বাণিজ্যের পরিমাণ খুবই কম। বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে সীমিত পরিমাণ পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ওষুধ রফতানি করা হয়ে থাকে। মালির সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমর্্পকও তেমন জোরালো নয়। মালিতে বাংলাদেশের একজন অনারারি কনসাল জেনারেল থাকলেও ইরানে মালির দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ দেশটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গত প্রায় ১৫ বছরে দু'দেশের মধ্যে সরকারী উচ্চ পর্যায়ে কোন সফর অনুষ্ঠিত হয়নি। বাংলাদেশ সফরকালে মালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তার ওয়ানি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমণি, বাণিজ্যমন্ত্রী ফারম্নক খান, শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সূত্র জানায়, মালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে বাংলাদেশের পৰ থেকে যথেষ্ট গুরম্নত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। মহাজোট সরকার ৰমতা গ্রহণের পর আফ্রিকার কোন দেশ থেকে এটি বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রথম বড় সফর। বিশ্বমন্দার কারণে মধ্যাপ্রাচ্যসহ জনশক্তি আমদানিকারক অন্য দেশগুলোতে যখন বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে, তখন আফ্রিকার দেশগুলোতে জনশক্তি রফতানির নয়া সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
শিল্পবান্ধব বাজেট প্রণয়নের তাগিদ ব্যবসায়ী নেতাদের
শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রাক বাজেট আলোচনা
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপকল্প-২০২১ সফল বাস্তবায়নের জন্য শিল্পবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। এ ল্যে দেশীয় শিল্প বিকাশের অনুকূল শুল্ক ও কর কাঠামো গড়ে তুলে নিজস্ব উৎপাদিত পণ্যের বাজার বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশ্বায়নের প্রতিযোগিতায় নিজস্ব পণ্যের বাজার ধরে রাখতে কেবলমাত্র নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতার ওপর নির্ভর না করে পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন, উৎপাদন খরচ হ্রাস এবং উৎপাদনে মেধা, সৃজনশীলতা ও দতার ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মঙ্গলবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন ক ে'ট্যারিফ-ননট্যারিফ কাঠামো : শিল্প খাতের প্রত্যাশা' শীর্ষক প্রাক-বাজেট আলোচনায় ব্যবসায়ী নেতারা এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসানির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে এসে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সরকার সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমান পরিবর্তনের জন্য শক্তিশালী বেসরকারী খাত গড়ে তুলতে চায়। এ ল্যে সরকার রেগুলেটরের পরিবর্তে ফ্যাসিলিটেটরের ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি উপস্থিত শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও সুশীলসমাজের প্রতিনিধিদের অবহিত করেন। শিল্পবান্ধব বাজেট প্রণয়নের জন্য সরকার বাজেটের আগেই সংশিস্নষ্ট সকলের মতামত গ্রহণ করবে বলে তিনি উলেস্নখ করেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, সমৃদ্ধ শিল্প খাতের জন্য দেশীয় শিল্পপণ্যের বহুমুখীকরণের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশসমূহে নিজেদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। তাঁরা বলেন, শিল্প কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদু্যত সরবরাহের নিশ্চয়তা দেয়া হলে এগুলোর দাম বাড়লেও ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের কোন আপত্তি নেই। তাঁরা দেশীয় শিল্পের স্বার্থে নির্বাচিত কাঁচামালের আমদানি শুল্ক কাঠামো নূ্যনতম পাঁচ বছর অপরিবর্তিত রাখার পরামর্শ দেন। অর্থবছরের মধ্য মেয়াদে কোন শিল্পপণ্যের শুল্ক বাড়াতে হলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য তাঁরা সরকারের কাছে দাবি জানান।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবিএম খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে কর্মশালায় শিল্প সচিব দেওয়ান জাকির হোসাইন, এমসিসিআই সভাপতি আনিস-উদ-দৌলা, এফবিসিসিআইর সাবেক উপদেষ্টা মনজুুর আহমেদ, ডিসিসিআইর সভাপতি আবুল কাশেম খান, এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন এবং এমচেমের প্রেসিডেন্ট আফতাব উল ইসলাম, সিরামিক এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাশেদ মওদুদ খান, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বক্তব্য রাখেন।
উলেস্নখ্য, এ কর্মশালায় দেশের সকল শীর্ষস্থানীয় শিল্প ও বণিক সংগঠন, দেশবরেণ্য শিল্প উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, সুশীলসমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী এবং সরকারী কর্মকর্তারা অংশ নেন।