মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২১ জুলাই ২০১৪, ৬ শ্রাবণ ১৪২১
যুদ্ধাপরাধী বিচার ॥ ইঞ্জিনিয়ার জব্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ ১৪ আগস্ট
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পলাতক জাতীয় পর্টির নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হবে কি হবে না সে বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল আদেশ প্রদান করবেন ১৪ আগস্ট। অন্যদিকে একই মামলায় জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২১তম সাক্ষী মোঃ শহিদুল্লাহ ওরফে শহিদ ও জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সবশেষ সাক্ষী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগমের জেরা অব্যাহত রয়েছে। আসামি পক্ষের আইনজীবীগণ আজ আবার তাদের জেরা করবেন। রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১ ও ২ এ আদেশগুলো প্রদান করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে পলাতক জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা পিরোজপুরের ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের বিষয়ে ১৪ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১ রবিবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। জব্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর (সাবেক জেলা জজ) ঋষিকেশ সাহা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম ও প্রসিকিউটর শেখ মোসফেক কবির। অভিযোগ গঠনের বিপক্ষে শুনানি করেন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মোহাম্মদ আবুল হাসান। ৮ জুলাই জব্বারের অনুপস্থিতিতে তার বিচার কার্যক্রম চালাতে মোহাম্মদ আবুল হাসানকে রাষ্ট্রীয় খরচে আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল। ১২ মে ইঞ্জিনিয়ার জব্বারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনীত ৫টি অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আব্দুল জব্বারকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ফলে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কাজ চলার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ১১ মে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জাহিদ ইমাম জব্বারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেন। আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে ৫টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে প্রশিকিউশন পক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হত্যা, গণহত্যা, ধর্মান্তরিতকরণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ৫টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৩৬ জনকে হত্যা ও গণহত্যা, ২০০ জনকে ধর্মান্তরিতরণ এবং ৫৫৭টি লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার অপরাধের ঘটনাস্থল মঠবাড়িয়ার ফুলঝড়ি, ললি ও আঙ্গুলকাটা। ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে সাক্ষী করা হয়েছে ৪৬ জনকে। তাদের মধ্যে ৪০ জন ঘটনার এবং ৬ জন জব্দ তালিকার সাক্ষী। সূত্র জানায়, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের শশুর ছিলেন স্থানীয় মুসলিম লীগ নেতা। আর জব্বার ছিলেন থানা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি ১৯৫৬ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন। বর্তমানে তার বয়স হবে আনুমানিক ৮০ বছর। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে ৯৯ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনসহ ১ হাজার ৯০০ পৃষ্ঠার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেন তদন্ত সংস্থা। এরশাদের জাতীয় পার্টির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বার ১৯৭১ সালে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তার শশুর ছিলেন মুসলিম লীগের নেতা। শশুরের হাত ধরেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকা ও মানবতাবিরোধী নানা অপরাধ সংঘটিত করেন তিনি। এলাকায় বসেই তিনি রাজাকার বাহিনী সংগঠিত করার নেতৃত্ব দেন। তার নির্দেশেই মঠবাড়িয়ায় মেধাবী ছাত্র ও হিন্দুদের হত্যাসহ সব ধরনের লুটপাটের ঘটনা ঘটে। জব্বারের বিরুদ্ধে যে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে, ইঞ্জিনিয়ার জব্বার ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ফুলঝড়িতে দুইজন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেন। এ ছাড়া নাথপাড়া ও কুলুপাড়ার শতাধিক বাড়িতে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ফুলঝুড়িতে একজনকে হত্যা এবং ৩৬০টি বাড়ি-ঘর লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করেন। নলিতে ১১ জনকে গণহত্যা ছাড়াও ৬০টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করেন। ফুলঝড়িতে প্রায় দুই শ’ নিরস্ত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের লোককে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করেন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বার। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুল জব্বার আঙ্গুলকাটা এবং মঠবাড়িয়া থেকে ৩৭ জনকে আটক, মালামাল লুণ্ঠন, অপহরণ, নির্যাতন, ১৫ জনকে গুরুতর জখম এবং ২২ জনকে গণহত্যা করেন। আব্দুস সুবহান ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২১তম সাক্ষী মোঃ শহিদুল্লাহ ওরফে শহিদের জেরা অব্যাহত রয়েছে।