মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
৪৪০৬৩
বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০১০, ১৫ মাঘ ১৪১৬
পাঁচ খুনীর ফাঁসি
জাতি কলঙ্কমুক্ত
রাত ১২টা ১ মিনিটের পর পর্যায়ক্রমে মেজর (অব) বজলুল হুদা, লে. কর্নেল (বরখাসত্ম) সৈয়দ ফারম্নক রহমান, লে. কর্নেল (অব) মহিউদ্দিন আহম্মেদ (আর্টিলারি), লে. কর্নেল (অব) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও লে. কর্নেল (অব) একেএম মহিউদ্দিন আহম্মেদের (ল্যান্সার) ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে
শংকর কুমার দে/গাফফার খান চৌধুরী কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলার ৫ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকরা করা হয়েছে। রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে পর্যায়ক্রমে শুরম্ন হয় ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া। প্রথমে মেজর (অব) বজলুল হুদাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। এরপর আর্টিলারি মহিউদ্দিনকে দ্বিতীয় দফায় ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। এরপর লে. কর্নেল (বরখাসত্ম) সৈয়দ ফারম্নক রহমান, লে. কর্নেল (অব) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও লে. কর্নেল (অব) একেএম মহিউদ্দিন আহম্মেদের (ল্যান্সার) ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এরআগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৫টি কফিন ঢোকে।
ফাঁসির রায় কার্যকর করার বিষয়টি রাখা হয় কঠোর গোপনীয়। রাত বারোটার পর ঘুম থেকে জাগিয়ে খুনীদের জানানো হয় ফাঁসির রায় কার্যকর করার সংবাদ। ডাক্তার দিয়ে পরীৰা করনো হয় আসামির শারীরিক অবস্থা। আসামিদের তাদের শেষ ইচ্ছা কি তা ব্যক্ত করার সুযোগ দেয়া হয়। কোন্্ ধরনের খাবার খেতে ইচ্ছা করে তা জানতে চাওয়া হয়। আসামিদের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী দেয়া হয় তাদের পছন্দের খাবার। গোসলের জন্য প্রস্তুত হতে বলা হয়। মৌলভী ডেকে এনে তাদের তওবা করানো হয়।
এশার নামাজের সুযোগ দেয়া হয় ৫ খুনীর। তারপর খুনীদের ভাল খাবার খেতে দেয়া হয়। এরপর তাদের আরামে ঘুমানোর কথা বলা হয়। খুনীদের ঘুমের কথা বলা হলেও খানিক পরেই ফাঁসি কার্যকর করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ফাঁসি কার্যকর করার আগে খুনীদের পরানো হয় পোশাক। এরপর ধীরে ধীরে তাদের ডেকে নেয়া হয় ফাঁসির মঞ্চের দিকে। মঞ্চে যাওয়ার পর হাত বেঁধে ফেলা হয়। ধীর পদে আনা হয় ফাঁসির মঞ্চের সামনে। বেঁধে ফেলা হয় পা। মুখে পরিয়ে দেয়া হয় যমটুপি। ফাঁসির মঞ্চের দাঁড় করানো হয় আসামিদের। ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ, ডাক্তার, জেল কতর্ৃপৰসহ সংশিস্নষ্টরা উপস্থিত থেকে পর্যবেৰণ করেন। জলস্নাদকে প্রস্তুত হওয়ার সংকেত দেয়া হয়। গলায় পরিয়ে দেয়া হয় ফাঁসি কার্যকর করার ম্যানিলা রোপ। ফাঁসি কার্যকর করতে ৩ গজ ম্যানিলা রোপ ব্যবহৃত হয়। এক উর্ধতন কারা কর্মকর্তা হাত থেকে ফেলে দেন লাল রম্নমাল। এটা ফাঁসি কার্যকর করার ইঙ্গিত। ইঙ্গিত পেয়েই জলস্নাদ ফাঁসির মঞ্চের লিভারে টান দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফাঁসির সেলের কিপ সরে যায়। ম্যানিলা রোপ আটকে যায় গলায়, লেগে যায় ফাঁস।
ম্যানিলা রোপ গলায় আটকানোর সঙ্গে সঙ্গে ফাঁসির মঞ্চের কব্জা দিয়ে সংযুক্ত করা চারটি পাটাতন সরে যায়। পাটাতনের ওপর থাকা পেস্ননশেডটিও সরে যায়। ফাঁসিতে ঝুলে আসামিরা পড়ে যায় মঞ্চের ১০ ফুট গভীর পাকা চৌবাচ্চায়। দ-িতদের স্পাইনাল কর্ড ছিঁড়ে যায়। আধা ঘন্টা ধরে ফাঁসিতে ঝোলা অবস্থায় থাকে লাশ। তারপর লাশগুলোর ওপরে তুলে দু'হাত, দু'পা, ও ঘাড়ের রগ কেটে দেয়া হয়। এরপর সিভিল সার্জন পরীৰা নিরীৰা শেষে দ-িতদের মৃতু্য নিশ্চিত ঘোষণা দেন। এভাবেই ফাঁসির রায় কার্যকর হয়। ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর আত্মীয়স্বজনদের কাছে মৃতদেহ হসত্মানত্মর করা হয়। আত্মীয়স্বজনদের লাশ দাফনের জন্য কঠোর নিরাপত্তা দেয়া হয়।
বিকাশ দত্ত জানান, বুধবার বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়ের বিরম্নদ্ধে দায়ের করা রিভিউ আবেদন আপীল বিভাগ খারিজ করে দেয়। বুধবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি তাফাজ্জল ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপীল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ পাঁচ আসামির রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দেয়।
প্রধান বিচারপতি মোঃ তাফাজ্জাল ইসলাম তাঁর আদেশে বলেন, পাঁচ আসামির রিভিউ পিটিশনে যে সমসত্ম যুক্তি উত্থাপন করেছে সে বিষয়গুলো ইতোপূর্বে আপীল বিভাগের রায়ে খ-ন করা হয়েছে। এখন নতুন করে ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন নেই। সে কারণে তাদের রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দেয়া হলো। মোঃ তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বে অন্য বিচারকদের মধ্যে ছিলেন বিচারপতি বিজন কুমার দাস, বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেন ও বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। রিভিউর আদেশ দেয়াকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
আপীল বিভাগের আদেশ দেয়ার পর সরকারী ও আসামি পৰের আইনজীবীরা প্রেসব্রিফিং করেন। পাশাপাশি আপীল বিভাগের আদেশ কিভাবে কার্যকর করা হবে তা নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বসে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফিং প্রদান করা হয়। এদিকে কারাকতর্ৃপৰ পাঁচ খুনীর মৃতু্যদ- কার্যকর করতে প্রস্তুত। জালস্নাদ, ম্যানিলা রোপ থেকে শুরম্ন করে যাবতীয় বিষয় ঠিক করে রাখা হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠক : আইন মন্ত্রণালয়ে দুপুরে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক বসে। বৈঠকে আপীল বিভাগের আদেশ পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরম্নল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সরকার পৰের প্রধান কেঁৗসুলি এ্যাডভোকেট আনিসুল হক, আইজি (প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশরাফুল ইসলাম, জেল সুপার (ঢাকা) তৌহিদুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র সচিব আব্দুস সোবহান শিকদার, আইন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব আনোয়ারম্নল হক। দুপুর দেড়টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্য়নত্ম এই বৈঠক চলে।
আইন মন্ত্রী : আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আজকের বৈঠক শেষে জেল কোড অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছি। জেল কোড অনুযায়ী মৃৃতু্য পরোয়ানা যে দিন কারাগারে পৌঁছাবে সে দিন থেকে ২১ দিনের আগে নয়, বা ২৮ দিনের পরে নয়, এর মধ্যেই দ- কার্যকর করতে হবে। হিসেব অনুযায়ী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে যে কোন দিন যে কোন মৃুহূর্তে মৃতু্যদ- কার্যকর করা হবে। জেলার এসেছিলেন, সেই মোতাবেক বলা হয়েছে। জেল কোড অনুযায়ী ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই পাঁচ খুনীর মৃৃতু্যদ- কার্ডকর করা হবে। একজন আসামি রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণ ভিৰার আবেদন করেনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেছেন, খুনীদের ফাঁসি দেয়ার জন্য কারাকতর্ৃপৰ প্রস্তুত। যাতে কোথাও বিশৃঙ্খলা না ঘটে সে জন্য ঢাকাসহ সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। যে সমসত্ম খুনী বিদেশে পলাতক রয়েছে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে ইন্টারপোলের সাহায্য নেয়া হচ্ছে। কারাগারে এখনও এক খুনী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিৰার আবেদন করেনি, সে কি আদৌ করবে না_ এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে আবেদন করবে কিনা জানি না।
আনিসুল হক : রাষ্ট্রপৰের প্রধান কেঁৗসুলি আনিসুল হক বলেছেন, জেল কোডের যে বিধান আছে তা অনুসরণ করা হবে। তার কোন ব্যত্যয় হবে না। জেল কোডের ৯৯১ ধারার বিধান মোতাবেক বিচারিক আদালত থেকে 'লাল খামে' পাঁচ আসামির নামে মৃতৃ্য পরোয়ানা যখনই কারাগারে গেছে সেই সময় থেকেই ৰণ গণনা শুরম্ন হয়েছে। ৩ জানুয়ারি মৃতু্য পরোয়ানা গেছে, সেই মোতাবেক ৩ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ২১ দিনের আগে নায়, ২৮ দিনের মধ্যে করতে হবে। রিভিউ পিটিশন করলে সব প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। যে দিন আসামি পৰ পিটিশন দাখিল করেছে, সেই দিন থেকে গণনা হবে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দিন গণনার সঙ্গে রিভিউয়ের কোন সম্পর্ক নেই। আনিসুল হক বলেন, এটা ন্যায় বিচার পাবার সংগ্রাম। এটা প্রতিহিংসার সংগ্রাম নয়। ন্যায় বিচার পেয়েছি সে জন্য সন্তুষ্ট। বিচার বিভাগ প্রমাণ করেছে, এত বড় বিচার সুষ্ঠুভাবে হতে পারে।
মাহবুবে আলম : এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, পৃথিবীর জঘন্যতম হত্যাকা-ের চূড়ানত্ম রায় ঘোষিত হলো। যে পাঁচ আসামি রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছিল আপীল বিভাগ তা খারিজ করে দিয়েছে। এখন আইন প্রক্রিয়ার পরবতর্ী কার্যক্রম গ্রহণ করবে জেল কর্তৃপৰ। বিচারিক আদালত, হাইকোর্ট, এবং আপীল বিভাগের স্বচ্ছতায় বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এখন কোন আসামি প্রাণভিৰা চাইলে সে বিষয়টি জেল কর্তৃপৰ দেখবেন। তিনি বলেন, জেল কর্তর্পৰ কখন রায় কার্যকর করবে, তা তাদের এখতিয়ার।
খান সাইফুর রহমান : লে. কর্নেল (বরখাসত্ম) সৈয়দ ফারম্নক রহমান ও লে. কর্নেল (অব) মুহিউদ্দিন আহম্মেদ (আর্টিলারির) আইনজীবী খান সাইফুর রহমান। আপীল বিভাগের আদেশের পর তিনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, এই ধরণীতে মানুষের অসহায়ত্বের স্বসত্মিই ধর্ম। লে. কর্নেল (বরখাসত্ম) সৈয়দ ফারম্নক রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিৰা চাইবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি জানি না।
আব্দুর রেজ্জাক খান : লে. কর্নেল (অব) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খানের আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান। তিনি প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সুপ্রীমকোর্টের রায় অবশ্যই মেনে নিতে হবে। হত্যাকা- নির্মম ও নিষ্ঠুর এবং নিন্দনীয়। তাই মামলা সম্পূর্ণ ঘটনা আগের এবং পরের প্রেৰিত বিবেচনা করে দেশের প্রশাসন, জুডিশিয়ারি, আর্ম ফোর্সেস প্রত্যেককে এ মামলা একটা মেসেস দিয়েছে। রাজনীতিবিরা এই রায়টা পৰপাতহীনভাবে যদি বিশেস্নষণ করেন, যাতে এ জাতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি বাংলার মাটিতে আর না হয়। তিনি বলেন, আমার মক্কেলের হাত রক্তে রঞ্জিত নয়। তাকে দ-িত করা হয়েছে ষড়যন্ত্রের অংশীদার হিসেবে।
ব্যারিস্টার মামুন : লে. কর্নেল (অব) একেএম মহিউদ্দীন আহম্মেদ (ল্যান্সার) এবং মেজর (অব) বজলুল হুদার পৰের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুলস্নাহ আল মামুন বলেন, আমরা আপীল বিভাগের আদেশে আশাহত হয়েছি। আমাদের গ্রাউন্ডগুলো আদালত গ্রহণ করেনি।
শম রেজাউল কমির : সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি জেনারেল শম রেজাউল করিম তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ঘোষিত যে আদেশ হয়েছে তাতে আসামিদের মৃৃতু্যদ- কার্যকর করতে আর কোন প্রতিবন্ধকতা নেই।
ঢাকায় হাই রেড জারি
স্টাফ রিপোর্টার সারাদেশে রেড এ্যালার্ট ও রাজধানী ঢাকায় হাই রেড এ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও তার আশপাশের এলাকায় নেয়া হয়েছে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা। কারাগারের আশপাশের প্রতিটি ভবনের ছাদে বসানো হয়েছে ভিডিও ক্যামেরা। ছাদে ছাদে আধুনিক অস্ত্র নিয়ে পাহারা দিচ্ছে শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আশপাশের রাসত্মায় বসানো হয়েছে অতিরিক্ত চেকপোস্ট। সপরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা উপলৰে এই ধরনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার রাজধানী ঢাকার ৪০ থানা এলাকায় হাই রেড এ্যালার্ট জারির নির্দেশ দেন। পুলিশ, গোয়েন্দা ও র্যাবসহ সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের আশপাশের এলাকা সহ রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক তলস্নাশি, চেকপোস্ট স্থাপন, মোবাইল টিমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল দিচ্ছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তলস্নাশি করা হচ্ছে। স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের আত্মীয়স্বজন ও তাদের বাসভবনের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার পর যাতে আনন্দ, উলস্নাস, প্রতিবাদ, অপ্রীতিকর ঘটনা, নাশকতা, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ঘটতে না পারে সেই জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় উচ্চ আদালতে শুনানির সময়ে খুনীদের আত্মীয়স্বজন ও জঙ্গীরা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর জন্য চেষ্টা করেছে। এসব ঘটনাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে খুনীদের নিজ জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয় বলে জানা গেছে।
পুলিশের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা উপলৰে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, নাশকতা বা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ঘটানোর কোন তথ্য নেই। তারপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক রাখা হয়েছে। পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও র্যাবকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর নিরাপত্তা বৃদ্ধির চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে।
যত ভাল কাজই করি বিরোধীদলীয় নেত্রী বিরোধিতা করবেনই
সংসদে প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী
সংসদ রিপোর্টার বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ যে ৰতিগ্রসত্ম হচ্ছে, সে সম্পর্কে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া সচেতন আছেন কিনা সে ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, "আমি যত ভাল কাজই করি, বিরোধীদলীয় নেত্রী তার বিরোধিতা করবেনই। তিনি (খালেদা জিয়া) শুধু বিরোধিতার স্বার্থে বিরোধিতা করছেন। কারোর বিরম্নদ্ধে আমার কোন কিছু বলার নেই, ৰোভ বা বিদ্বেষ নেই। আমি ন্যায়-সত্য, দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে ও স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছি। দেশ ও জনগণ যাতে ৰতিগ্রসত্ম না হয়, দেশ ও বিশ্বের সকল ৰতিগ্রসত্ম মানুষের জন্য আমি কাজ করেই যাব।"
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরপর্বে সরকারী দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। 'কোপেনহেগেন সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ভিৰা চেয়েছেন'_ বিরোধীদলীয় নেত্রীর এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ যে ৰতিগ্রসত্ম হচ্ছে সে সম্পর্কে বিরোধীদলীয় নেত্রী সচেতন কিনা সেটাই প্রশ্ন। ৰতিগ্রসত্ম মানুষগুলোকে বাঁচাতে ফান্ড চেয়েছি, সেটাকে ভিৰাবৃত্তি বলা হলে আমার বলার কিছু নেই। যার যে ধরনের স্বভাব, চিনত্মাভাবনা, সে ধরনেরই কথা বলবে।
সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বন ও পাহাড় ধ্বংসকারীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য যে নষ্ট করার চেষ্টা করবে, সে যে দলেরই হোক তাকে ছেড়ে দেয়া হবে না। যেই জড়িত থাকবে তার বিরম্নদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধে অচিরেই 'বালু উত্তোলন নীতিমালা' প্রণয়নের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, স্রোতস্বিনী নদীতে কাঠা বা বাঁশ দিয়ে ঘেরাও বন্ধ এবং এসব নদী লিজ দেয়া বন্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে। জড়িতদের বিরম্নদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত ৩০ মিনিটের প্রশ্নোত্তরপর্বের অধিকাংশজুড়েই ছিল বিশ্ব জলবায়ু ও বৈশ্বিক উষ্ণতায় বাংলাদেশের ৰতির বিষয়টি। তবে শুরম্নতেই প্রশ্নের উত্তর দিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী গ্রেনেড হামলায় নিহত সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার পঞ্চম মৃতু্যবার্ষিকী উপলৰে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি (কিবরিয়া) আমাদের শুধু অর্থমন্ত্রীই ছিলেন না, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, রাজনৈতিক সেলের প্রধান ছিলেন। তাঁকে অত্যনত্ম নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ হত্যাকা-ের জন্য বিএনপি-জামায়াত জোটকে দায়ী করে বলেন, এ হত্যা মামলার তদনত্মেই বেরিয়ে আসছে কারা জড়িত ছিল। বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাসীরাই যে ড. কিবরিয়াকে হত্যা করেছে তা বেরিয়ে আসছে। ইনশালস্নাহ এ হত্যাকা-েরও বিচার হবে, হত্যাকারীদের শাসত্মি পেতেই হবে।
সরকারী দলের সংসদ সদস্য আলহাজ এ্যাডভোকেট রহমত আলীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রসীমার পানি এক মিটার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের দৰিণাঞ্চলসহ অনেক এলাকা একেবারেই তলিয়ে যাবে। এতে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘরবাড়ি হারাবে, প্রায় ৪০ মিলিয়ন মানুষ ৰতিগ্রসত্ম হবে। তাই দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। সেজন্য আগাম সতর্কতা হিসেবে চলতি বাজেটে এ খাতে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রেখেছি। নদীগুলোর ধারণৰমতা বৃদ্ধি করতে ব্যাপক নদী ড্রেজিং করার চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, বিশ্ব জলবায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশ ৰতিগ্রসত্ম হচ্ছে। অথচ বৈশ্বিক উষ্ণতার জন্য উন্নত দেশগুলো দায়ী, বাংলাদেশ সামান্যও দায়ী নয়। কোপেনহেগেন সম্মেলনে এ বিষয়টি আমরা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছি। মূল প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সম্মেলনে বাংলাদেশের বড় সাফল্য ছিল, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ৰতিগ্রসত্ম দেশ হিসেবে বিশ্ববাসীর স্বীকৃতি পাওয়া। বিশ্ব জলবায়ুর কারণে ৰতিগ্রসত্ম দেশগুলোকে সহায়তা করতে ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যনত্ম ৩০ মিলিয়ন ডলারের একটি কাইমেট চেঞ্জ ফান্ড গঠন করা হয়েছে। এ সময়ে ৰতিগ্রসত্ম দেশসমূহ প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা) পাওয়ার কথা রয়েছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
তিনি জানান, ২০২০ সাল নাগাদ আর্থিক এ সহায়তা প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়ায় বিশেষ বিবেচনায় অর্থ বরাদ্দ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং সংশিস্নষ্ট ৰেত্রে সৰমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা পাবে।
স্পীকার এ্যাডভোকেট আবদুল হামিদের দৃষ্টি আকর্ষণী এক মনত্মব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নদ-নদীর স্রোতধারা ঠিক না থাকলে দেশের জন্য বিপদ আসবেই। অনেক স্থানেই স্রোতস্বিনী নদীতে কাঠ বা বাঁশ দিয়ে ঘেরাও করে স্বাভাবিক স্রোতকে বাধাগ্রসত্ম করে শুকিয়ে ফেলা হচ্ছে। আগামীতে এ কাজ যাতে কেউ করতে না পারে সেজন্য কঠোর পদৰেপ নেয়া হবে। ভূমি ও পানিসম্পদমন্ত্রীর পাশাপাশি আমি নিজেই বিষয়টির দিকে লৰ্য রাখব।
সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবন আমাদের দেশের সম্পদ। এ বন আমাদের বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও ঝড়ের হাত থেকে রৰা করে। অথচ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সুন্দরবনের গাছপালা নির্বিচারে কেটে উজাড় করে দেয়া হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গঙ্গার পানি চুক্তির পাশাপাশি গড়াই নদী খনন প্রকল্প চালু করায় দৰিণাঞ্চলে লবণাক্ততা হ্রাস এবং সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল। অথচ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এসে গড়াই নদীর খাল খনন প্রকল্প বন্ধ করে দিলে আবারও ওই অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়।
সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নোত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, কৃষি খাতে গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য সরকার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাজেটে কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার, সারের মূল্য হ্রাস, বরেন্দ্র এলাকার কৃষকদের ১০০ ঘণ্টা বিনামূল্যে সেচ প্রদানে সহায়তা, ব্যাপক হারে কৃষিঋণ বিতরণ, বন্যা-খরা-লবণাক্ততা সহ্যকারী ফসলের বীজ উদ্ভাবন, কৃষি গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি, রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যনত্ম নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদু্যত সরবরাহ নিশ্চিতকরণসহ নানা পদৰেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ সরবরাহের লৰ্যে প্রতি কৃষককে সরকারীভাবে কার্ড বিতরণ করা হবে।
সংসদ সদস্য হারম্ননুর রশিদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, দেশের ৫৩টি নৌপথ ও মৃতপ্রায় নদনদীর নাব্য বৃদ্ধির লৰ্যে প্রায় ১১ হাজার ৫শ' কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেজিংয়ের একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পাইলট ক্যাপিটাল ড্রেজিং অব রিভার সিস্টেম ইন বাংলাদেশ ( ১ম পর্যায়) প্রকল্প, ১ হাজার ৫১৪ কোটি ব্যয়ে বুড়িগঙ্গা পুনরম্নদ্ধার প্রকল্প, ১ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশের নদী ড্রেজিং করে ড্রেজার ও এনসিলারি ইকুপমেন্ট ক্রয় ইত্যাদি।
সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সমবায় খাতকে সাংবিধানিকভাবে দ্বিতীয় গুরম্নত্বপূর্ণ খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সে কারণে সামগ্রিকভাবে সমবায় খাতে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রম্নতিবদ্ধ। এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজাম)-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিৰণ বু্যরোর অধীন বর্তমানে দেশে ৩৮টি কারিগরি প্রশিৰণ কেন্দ্র রয়েছে। প্রশিৰণ কেন্দ্রগুলোকে আধুনিকায়ন করে দৰ শ্রমিক তৈরির পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
সন্তু লারমাকে লৰ্য করে গাড়িবহরে তিন দফা গুলি
দেহরৰীসহ আহত ৪ ইউপিডিএফকে দায়ী করল জনসংহতি
ডেস্ক রিপোর্ট খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বেধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমাকে লৰ্য করে তাঁর গাড়িবহরে তিন দফা সশস্ত্র হামলা ও গুলি চালিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। তাঁকে হত্যার উদ্দেশে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বুধবার সকালে রাঙ্গামাটি থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়ার পথে পৃথক তিনটি স্থানে সন্তু লারমার গাড়িবহরে গুলি চালানো হয়। এতে সন্তু লারমা ও তাঁর দেহরৰীসহ ৪ জন সামান্য আহত হয়েছেন। উলেস্নখ্য, এই গাড়িবহরে চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়ের গাড়িও ছিল। এঁরা দু'জনই সুস্থ ও ভাল আছেন। সন্তু লারমা এই হামলার জন্য তাঁর প্রতিপৰ শানত্মি চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফকে দায়ী করেছেন। ইউপিডিএফ পাল্টা বিবৃতিতে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এটা জনসংহতি সমিতির অভ্যনত্মরীণ কোন্দলের বহিঃপর্্রকাশ। সন্তু লারমা পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের সভায় যোগ দিতে খাগড়াছড়ি যাচ্ছিলেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরডট কম জানায়, সন্তু লারমা খাগড়াছড়ি পৌঁছে সাংবাদিকদের জানান, সকাল ১০টার দিকে মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কে তিন স্থানে গাড়িবহরে হামলা হয়। প্রথমবার হামলাটি হয় রাঙ্গামাটির বেতছড়িতে, দ্বিতীয়বার কাটাপাহাড় এলাকায়। এরপর মাইকছড়ির ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারের পাশের জঙ্গল থেকে ৩ থেকে ৪ রাউন্ড গুলি চালানো হয়।
হামলাকারীরা খাকি পোশাক পরে ছিল বলে সন্তু লারমার সফরসঙ্গীরা জানান। তবে হামলা এড়াতে দ্রম্নতগতিতে গাড়ি চালিয়ে আসায় ৰয়ৰতি তেমন হয়নি বলে তাঁরা জানান।
হামলায় ষক্ত লারমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকমর্ী জিন পাল চাকমা ও বরম্নণ চাকমা আহত হন। গাড়ির কাঁচ ভেঙ্গে সন্তু লারমার হাতেও বিঁধেছে।
খাগড়াছড়িতে তাৎৰণিক সংবাদ সম্মেলনে সন্তু লারমা শানত্মি চুক্তিবিরোধী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রাটিক ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) হামলার জন্য দায়ী করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রৰাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে তার ওপর হামলায় ৰোভও প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রীর মর্যাদাধারী পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু বলেন, "আমার ওপর হামলা হয়েছে, এতে দুঃখ নেই। কিন্তু বাংলাদেশের পতাকার ওপর হামলা পুরো দেশের পরই হামলা।"
হামলাকারীদের বিরম্নদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে এক সময়ের গেরিলা নেতা প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, তারা ব্যবস্থা না নিলে তিনি নিজেই ব্যবস্থা নেবেন।
এদিকে হামলার অভিযোগের বিষয়ে ইউপিডিএফ নেতা নিরন চাকমা বলেন, "এমন কোন খবর আমরা শুনিনি। আমাদের সংস্কারবাদী গ্রম্নপ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।"

অন্যদিকে, নিজস্ব সংবাদদাতা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি থেকে জানান, সন্তু লারমা, রাজা দেবাশীষ রায় ও রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমার গাড়ির জানালার কাঁচ ভাংচুর হয়েছে। আকস্মিক এ হামলা ও সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণের পর সন্তু লারমার দেহরৰী পাল্টা গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনার জন্য সন্তু লারমা তাদের প্রতিপৰ ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) দায়ী করেছেন। ঘটনার পর প্রশাসন পার্বত্য এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
সকাল ১০টার দিকে জেলার মাইচছড়ি, লেমুছড়ি ও বেতছড়িতে পৃথক পৃথক স্থানে এ সশস্ত্র হামলা হয়। হামলায় রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা ও রাঙ্গামাটি চাকমা সার্কেলের রাজা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের গাড়ি বহরেও সশস্ত্র হামলা ও ভাংচুর হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সন্তু লারমার গাড়ি বহর খাগড়াছড়ির তিনটি স্থানে হামলায় আক্রানত্ম হয়েছে। এ সময় সন্ত্রাসী ও সন্তু লারমার দেহরীর মধ্যে গুলিপাল্টাগুলি বিনিময় হলে সন্ত্রাসীরা জঙ্গলে পালিয়ে যায়। হামলায় সন্তু লারমাসহ তাঁর এপিএস বরম্নণ চাকমা, হাবিলদার ঝিনুপাল খীসা ও দেহরী টারজেন চাকমা সামান্য আহত হয়। ঘটনায় সন্তু লারমার গাড়িসহ আরও তিনটি গাড়ির কাঁচ ভেঙ্গে যায়। বেলা এগারোটার দিকে একই স্থানে রাঙ্গামাটি থেকে আসা রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমার গাড়িবহরেও হামলা হয়। তিন ঘটনাস্থলে প্রত্যৰদশর্ী সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীদের সবুজ রঙের পোশাক এবং মুখে কাপড় বাঁধা ছিল।
পরে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের দেয়া এক ব্রিফিংয়ে সন্তু লারমা বলেন, সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণে এ হামলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালিয়েছে। তিনি সরকারের নিকট প্রশ্ন রেখে বলেন, পার্বত্য এলাকায় সেনা উপস্থিতির পরেও কেন সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করে। সন্তু লারমা বলেন, পার্বত্য শানত্মি চুক্তি সম্পাদনের পর পরই একটি বিশেষ মহলের পৃষ্ঠপোষকতায় ইউপিডিএফের জন্ম হয়। তিনি পার্বত্য এলাকায় স্থায়ী শানত্মি প্রতিষ্ঠায় ইউপিডিএফকে নিষিদ্ধ করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। এ দিকে হামলার ঘটনার পর পরই খাগড়াছড়ি শহরের নিরপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুলস্নাহ জানান, সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করতে প্রশাসনের প থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার আমির জাফর জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের যে কোন মূল্যে আইনের আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের জন্য সহকারী পুলিশ সুপার মাকছেদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশী অভিযান শুরম্ন হয়েছে। তবে সন্ধ্যায় এ সংবাদ লেখা পর্যনত্ম কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণাথর্ী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, মহাজোট সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য সারাদেশে ষড়যন্ত্র চলছে। আজকের এ হামলাও সেই ষড়যন্ত্রের অংশ। হামলাকারীরা যেই হোক না কেন তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।
অপরদিকে ইউপিডিএফ ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশিস্নষ্টতার কথা অস্বীকার করেছে। ইউপিডিএফের প্রেস সেকশনের প্রধান নিরন চাকমা সাংবাদিকদের জানান, জনসংহতি সমিতির অভ্যনত্মরীণ কোন্দলের কারণে এ হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তাদের অভ্যনত্মরীণ কোন্দলের বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ইউপিডিএফের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে। এদিকে এ ঘটনার বিচারের দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি তাৎৰণিকভাবে রাঙ্গামাটিতে বিােভ মিছিল করে এবং বৃহস্পতিবার সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে। এদিকে দুপুরে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে ভূমি নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠক শেষ করে সন্তু লারমা কড়া পুলিশী পাহারায় রাঙ্গামাটি ফিরে যান।
শেষ পর্যনত্ম দুর্বিষহ স্মৃতি হয়েই রইল মিরপুর টেস্ট
দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে উল্টো বিপর্যয় টাইগারদের
আরিফুর রহমান বাবু কত হিসেব-নিকেশ। কত আলোচনা-পর্যালোচনা। কত জল্পনা-কল্পনা। সব ভুল-সব মিথ্যা। তামিম ইকবালের অতিমানবীয় উইলোবাজি হঠাৎই আশা জাগিয়েছিল। ভাবা হচ্ছিল, চট্টগ্রামের পর মিরপুরেও টাইগাররা পেছন থেকে ভারতের কাছাকাছি চলে আসবে। ধোনি বাহিনীকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে। সে সম্ভাবনা জেগেছিল। তামিম ও জুনায়েদের গড়ে দেয়া শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে সত্যিই ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সুযোগ পেয়েছিল শাকিবের দল। কিন্তু শেষ পর্যনত্ম সে সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। ঘুরিয়ে বললে সুযোগের অপব্যবহার করেছে শাকিবের দল। আবার যাচ্ছেতাই ও দায়িত্বহীন ব্যাটিং করে উল্টো বিপর্যয় ডেকে এনেছে। ভারতকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে গিয়ে নিজেরাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। ১০ উইকেটের অনায়াস জয়ে মাঠ ছেড়েছে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।
আগের দিন মঙ্গলবার তামিম-জুনায়েদ দ্বিতীয় উইকেটে দারম্নণ শক্ত ভিত গড়ে দেয়ায় অনেকটা পেছনে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশ পায় সামনে আগানোর পথ। কিন্তু দুর্ভাগ্য অনেকদূর এগিয়েও শেষ পর্যনত্ম তামিম-জুনায়েদের কেউই তৃতীয় দিন শেষ করতে পারেননি। ২০০ রানের বিশাল জুটি ভেঙ্গে গিয়েছিল একদম পড়নত্ম বিকেলে। তাতে কিন্তু ভিত নড়বড়ে হলেও সম্ভাবনার সবটুকু শেষ হয়ে যায়নি। বাকিটুকু নির্ভর করছিল আশরাফুল, রকিবুল, শাকিব, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদ উলস্নাহ রিয়াদের ওপর। ওরা ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারলেই ম্যাচ আবার জমে উঠত। খুব বড় ও কঠিন না হোক, ভারতের সামনে অনত্মত একটা মাঝারি ল্য এঁটে দেয়া যেত। গোটা দেশ ও জাতি সে আশায়ই ছিল। দৈনন্দিন জীবনের হাজারো কাজের মধ্যেও বুধবার সকাল থেকে টিভির সামনে বসেছিল কোটি বাঙালী। কিন্তু দুপুর গড়ানোর আগেই সে স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার। মাঝারি টার্গেট বহুদূরে, আবার ইনিংস পরাজয়ের লজ্জায় ডোবার সম্ভাবনাই জেগেছিল। মুশফিকুর রহিমের এক বাউন্ডারিতে সে লজ্জাটুকু নিবারণ হয়েছে মাত্র। এতে করে ভারতের সামনে ২ রানের ছোট্ট টার্গেট দাঁড়ায়, যা ছোঁয়ার জন্য নামা না নামা আসলে একই কথা। কিন্তু নিয়ম, নিয়মই। ওই নিয়মরার জন্যই নামতে হলো সেবাগ ও গৌতম গাম্ভীরকে। শাকিবের করা প্রথম ওভারের প্রথম বলকে কভারের ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে ব্যর্থ হলেন সেবাগ। পরের বলেই চালালেন। কিন্তু ব্যাটে-বলে হলো না। কীপার মুশফিকুর রহিমও ধরতে পারলেন না। বল চলে গেল থার্ডম্যানে। ফিল্ডার দৌড়ে ধরে থ্রো করতে করতেই দুবার প্রানত্মবদল হয়ে গেল। বাই রান থেকেই জয়সূচক রান পেল ভারত।
এরই সঙ্গে একটা সম্ভাবনাময় ম্যাচের অন্যরকম সমাপ্তি ঘটল, যা হতে পারত জমজমাট লড়াই, তা দারম্নণ একপেশে ও ম্যাড়মেড়েভাবে শেষ হলো। ইতিহাসে লেখা থাকবে, স্কোরকার্ড ঘেঁটেও মিলবে, জহির খানের বিধ্বংসী বোলিংয়েই মিরপুরের দ্বিতীয় টেস্টে ১০ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। জহির খান ভাল বোলিং করেছেন ঠিক। সুইং পেয়েছেন যথেষ্টই। রিভার্স সুইংও হয়েছে। কিন্তু তা আর যাই হোক, বিধ্বংসী ছিল না। ক্রিকেটীয় পরিভাষায় যাকে বলে 'আনপেস্নয়েবল', আর যাই হোক, তা ছিল না। বাসত্মবতা হচ্ছে_ আশরাফুল, রাজিব, রকিবুল, শাকিব ও রিয়াদরা চরম দায়িত্বহীন ব্যাটিং করে বিপর্যয় ডেকে এনেছেন। না হয়, ভারতকে অনত্মত দেড়-দু'শ' রানের টার্গেট দেয়া যেত। তাহলে বাংলাদেশ জিতে যেত, এমন নয়। ভারতকে কঠিন চাপে ফেলা যেত তাও বলার উপায় নেই। তবে খেলাটা হয়ত শেষ দিনে গড়াত।
যে কলঙ্ক মুক্ত হলো জাতি
ফাঁসির রজ্জু
মামুন-অর-রশিদ অতঃপর দীর্ঘ ৩৪ বছরের প্রতীৰার অবসান। শেষ পর্যনত্ম সকল অপকৌশলের দেয়াল ভেঙ্গে কার্যকর হতে যাচ্ছে সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যাকারীদের ফাঁসির রায়। পৃথিবীর ইতিহাসকে হতভম্ব করে জাতি রাষ্ট্রের স্থপতি, গর্ভবতী নারী আর শিশু হত্যাকারীদের দীর্ঘ ৩৪ বছরের বিভিন্ন সময় রাষ্ট্র-সরকার আর দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা আশ্রয়-প্রশ্রয় আর পৃষ্ঠপোষকতা দেয়। খুনীদের দোসর আর বেনিফিসিয়ারী চক্র ইনডেমনিটি দিয়ে ন্যায় সত্য আর আইনের শাসনকে অবরম্নদ্ধ করে দিয়েছিল। বিচারের বাণী কেঁদেছে নীরবে-নিভৃতে। কিন্তু রাষ্ট্রৰমতার পালা বদলে ইনডেমনিটি প্রত্যাহার করে জাতির জনককে হত্যার বিচারের পথ উন্মুক্ত করা। কিন্তু এরপরও বিচারকার্য নিয়ে অনেক টালবাহানা হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার খুনীদের রিভিউ আপীল আবেদন খারিজ হওয়ার পর জাতি জগদ্দল পাথরের মতো চাপিয়ে দেয়া অভিশাপ মুক্ত হলো।
শুধু আওয়ামী লীগই নয়, হাতেগোনা খুনীদের দোসর ও বেনিফিশিয়ারি ছাড়া গোটা দেশের মানুষই প্রত্যাশিত ফাঁসিতে নিঃশ্বাস ফেলেছে। ইতিহাসের দায়মুক্তিতে আজ সবাই উলস্নসিত, েআবেগতাড়িত। মৃতু্যঞ্জয়ী মুজিব আজ জীবনদর্শনে, বাঙালীর মুক্তির নিঃশ্বাসে, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণে 'বাঙালীকে' যেন 'মানুষ' করে তুলেছে। সবুজ বাংলার সজীব ইতিহাসে চির অমরত্বের ভাষা আন্দোলন আর স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে ১৫ আগস্টের শোকাবহ মুজিব উপাখ্যানের নামই আজ 'বাংলাদেশ'। বীর বাঙালী আজ ন্যায়ের পতাকা উর্ধে তুলে ধরে বলতে পারবে 'জাতির জনককে হত্যার দায় চাপানো অভিশাপ থেকে আমরা মুক্ত।'

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়
কুঠারাঘাত ১৫ আগস্ট
রক্তৰরা ১৫ আগস্ট। বেদনাবিধুর ও কলঙ্কের কালিমায় কলুষিত বিভীষিকাময় ইতিহাসের সেই ভয়ঙ্কর দিনটির কথা স্মরণ করে এখনও শিহরিত হন দেশের মানুষ। বাংলাদেশ ও বাঙালীর গভীর মর্মস্পশর্ী শোকের এ দিনে কী ঘটেছিল? ৩৪ বছরেও বাঙালী জাতি তা একটি দিনের জন্যও ভোলেনি। একাত্তরের এ কৃষ্ণদিনে পরাজিত শক্তির ঘৃণ্য সর্বনাশা চক্রানত্মে একদল ঘাতকের পৈশাচিকতার বলি হয়েছিলেন ইতিহাসের মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবার পরিজন। দেশীয় ও আনত্মর্জাতিক ষড়যন্ত্রে নিরপিশাচ ঘাতক দলের অদম্য রক্তপিপাসায় এদিন রক্তগঙ্গায় ভেসে গিয়েছিল বাঙালীর স্বাধিকার-স্বাধীনতা আন্দোলনের সূতিকাগার বঙ্গবন্ধুর অসম্ভব প্রিয় ঐতিহাসিক ধানম-ির ৩২ নম্বরের বাড়িটি। রাজনীতির সঙ্গে সামান্যতম সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও নারী-শিশুরাও রেহাই পায়নি ঘৃণ্য কাপুরম্নষ এ ঘাতকচক্রের হাত থেকে। বিদেশ থাকার জন্য প্রাণে বেঁচে যান কেবল বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা_ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। এ দিনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পিছনে কাজ করেছিল একটি জঘন্য চক্রানত্ম। চক্রানত্মে শরিক ছিল বিশ্বাসঘাতক আর পাকিসত্মানপ্রেমী কিছু নিমকহারাম। বাংলাদেশ নামক ভূখ-ের প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনককে হত্যার পর পেরিয়ে গেছে ৩৪টি বছর। খুনী, খুনীদের দোসর এবং তাদের মদদদাতারা দীর্ঘ সময় ৰমতায় থাকায় বিচারের বাণী নীরবে কেঁদেছে। এ অপশক্তিরা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার তো করেইনি, উল্টো আত্মস্বীকৃত খুনীদের প্রতিষ্ঠিত, পুরস্কৃত এবং বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে খুনীদের সঙ্গে তাদের যোগসূত্রতার সুস্পষ্ট প্রমাণ রেখেছে। জাতি দীর্ঘ ৩৪ বছর পর পিতৃহত্যার বিচার পাচ্ছে।

কী ঘটেছিল সর্বনাশা সেই রাতে
'৭৫-এর ১৫ আগস্ট কালরাতে বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাড়িতে প্রত্যৰদশর্ীদের বরাতে বেরিয়ে আসে ওই ভয়াল রাতে বর্বরোচিত ঘটনার ভয়াবহ চিত্র। শিশুপুত্র রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ঘুমাচ্ছিলেন দোতলায় তাঁর বেডরম্নমে। তিনতলায় শেখ কামাল ও তাঁর স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, তাঁর স্ত্রী রোজী জামাল এবং বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের ঘুমিয়েছিলেন দোতলায়। বাড়ির নিচতলায় নিরাপত্তা রৰী, কাজের ছেলেসহ সবাই ডিউটিতে ছিলেন।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী খুনীরা তিনটি গ্রম্নপে বিভক্ত হয়ে ভোর পাঁচটার মধ্যেই তিন টার্গেট ঘেরাও করে ফেলে। আত্মস্বীকৃত খুনী মেজর ফারম্নক যখন রৰীবাহিনীকে ঠেকাতে ব্যসত্ম, ততৰণে সব টার্গেটে বিভিন্ন গ্রম্নপের ঝটিকা অপারেশন শুরম্ন হয়ে যায়। ১২টি ট্রাক ও কয়েকটি জীপে করে আক্রমণকারী ল্যান্সার ও আর্টিলারির প্রায় ৫শ' রাইফেলস টু্রপস আশপাশে ছেয়ে যায়। খুনীদের প্রধান টার্গেটই ছিল ৩২ নম্বর রোডের বঙ্গবন্ধুর বাড়ি। খুনী মেজর মহিউদ্দিন, মেজর হুদা, মেজর পাশা, মেজর নূরের নেতৃত্বে আউটার ও ইনার দুটি বৃত্তে ঘেরাও করে ফেলে ওই বাড়িটি। আনুমানিক সাড়ে পাঁচটার দিকে ৩২ নম্বর ভবনে আক্রমণ শুরম্ন হয়ে যায়। প্রথমে গেটে ঢুকতে গিয়েই গোলাগুলির সূত্রপাত হয়। তারপর তা প্রবল আকার ধারণ করে। ৩২ নম্বর ভবন থেকে পুলিশ গার্ডরা অবিরাম গুলি চালিয়ে সেনাদের আক্রমণে বাধা দিতে থাকে। এ সময় বঙ্গবন্ধু নিচের বারান্দায় বেরিয়ে আসেন এবং পুলিশদের ফায়ার বন্ধ করতে বলেন। এতে আক্রমণকারী সৈন্যরা বিনা বাধায় বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে প্রবেশের সহজ সুযোগ পেয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু যখন গোলাগুলির মধ্যে আক্রানত্ম ছিলেন, তখন তিনি বাসা থেকে বিভিন্ন দিকে ফোন করতে সৰম হয়েছিলেন। তিনি পুলিশ কন্ট্রোল রম্নমে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কেউ ফোন ধরছিল না। তিনি তাঁর মিলিটারি সেক্রেটারি কর্নেল জামিল উদ্দিনকে ফোনে পেয়েছিলেন। তাঁকে বলেন, 'জামিল তুমি তাড়াতাড়ি আসো। আর্মির লোক আমার বাসায় আক্রমণ করেছে। শফিউলস্নাহকে ফোর্স পাঠাতে বলো।' জামিল ফোন পেয়ে তাৎৰণিক ঘটনাস্থলে তাঁর প্রাইভেট লাল কার করে ছুটে যান ৩২ নম্বরে, কিন্তু সৈন্যদের গুলিতে বাসার কাছেই নিহত হন তিনি।
অনেক চেষ্টার পর সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউলস্নাহকে পেয়ে যান বঙ্গবন্ধু। তাঁকে বলেন, 'শফিউলস্নাহ, আমার বাসা তোমার ফোর্স এ্যাটাক করেছে। কামালকে হয়ত মেরেই ফেলেছে। তুমি তাড়াতাড়ি ফোর্স পাঠাও।' জবাবে শফিউলস্নাহ বলেন, 'স্যার, ক্যান ইউ গেট আউট, আই এ্যাম ডুয়িং সামথিং।' এর পর ফোনে আর তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি। শফিউলস্নাহ ফোনে গুলাগুলির শব্দ শুনতে পান। তখন ভোর আনুমানিক ৫টা ৫০ মিনিট। কিন্তু শফিউলস্নাহ রাষ্ট্রপতির সাহায্যার্থে একটি সৈন্যও মুভ করাতে পারলেন না। ইতিহাসের নির্মম হত্যাকা- সংঘটিত হওয়ার পর রেডিওতে ভেসে এল খুনী মেজর ডালিমের পৈশাচিক ঘোষণা_ "শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে।" এমন ঘোষণা শুনে হতভম্ব বাংলাদেশ, শোকে মুহ্যমান বাঙালী জাতি।
ওই ভয়াল মুহূর্তের যে ক'জন প্রত্যৰদশর্ী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বাড়ির কাজের ছেলে আবদুর রহমান শেখ ওরফে রমা উলেস্নখযোগ্য। প্রত্যৰদশর্ী হিসেবে তিনি এ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা পরিচালনাকারী আদালতে। তাঁর এ বর্ণনা থেকে নেয়া হয়েছে পনেরো আগস্ট রাতের বর্বরোচিত ঘটনার ভয়াবহ চিত্র।
আবদুর রহমান রমার বর্ণনায়, '৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর ৫টায় যখন বঙ্গবন্ধু নিহত হন, তখন আমি সেখানেই ছিলাম। ঘটনার দিন রাতে আমি এবং অপর কাজের ছেলে সেলিম দোতলায় বঙ্গবন্ধুর বেডরম্নমের সামনে বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলাম। আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ বেগম মুজিব দরজা খুলে বাইরে আসেন এবং বলেন যে, সেরনিয়াবাতের বাসায় দুষ্কৃতকারীরা আক্রমণ করেছে। তিনতলায় শেখ কামাল ও তাঁর স্ত্রী সুলতানা কামাল ঘুমিয়েছিলেন। শেখ জামাল ও তাঁর স্ত্রী রোজী এবং বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের ঘুমিয়েছিলেন দোতলায়। বঙ্গবন্ধু, বেগম মুজিব এবং শেখ রাসেল দোতলায় একই রম্নমে ঘুমিয়েছিলেন। বাড়ির নিচতলায় পিএ মহিতুল ইসলামসহ অন্যরা ডিউটিতে ছিলেন।
বেগম মুজিবের কথা শুনে তাড়াতাড়ি লেকের পারে গিয়ে দেখি কিছু আর্মি গুলি করতে করতে আমাদের বাড়ির দিকে আসছে। আবার বাসায় ঢুকে দেখি রিসেপশন রম্নমে পিএ মহিতুলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কথা বলছেন। পিছনের সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় গিয়ে দেখি বেগম মুজিব ছোটাছুটি করছেন। তিনতলায় গিয়ে কামাল ভাইকে উঠাই। তাঁকে বলি_ আমাদের বাসায় আর্মিরা আক্রমণ করেছে। কামাল ভাই তাড়াতাড়ি শার্টপ্যান্ট পরে নিচে নেমে যান। সুলতানাকে নিয়ে আমি দোতলায় আসি। একইভাবে জামাল ভাইকে উঠাই। তিনিও তাড়াতাড়ি শার্টপ্যান্ট পরে তাঁর মার রম্নমে যান। সঙ্গে তাঁর স্ত্রীও যান। এ সময় বাইরে প্রচ- গোলাগুলির শব্দ হচ্ছিল।
এক পর্যায়ে কামাল ভাইয়ের আর্তচিৎকার শুনতে পাই। একই সময় বঙ্গবন্ধু দোতলায় এসে রম্নমে প্রবেশ করেন এবং দরজা বন্ধ করে দেন। গোলাগুলি এক সময় বন্ধ হয়ে যায়। তারপর বঙ্গবন্ধু দরজা খুলে আবার বাইরে এলে আর্মিরা তাঁর বেডরম্নমের সামনে তাঁকে ঘিরে ফেলে। আর্মিদের লৰ্য করে অমিত তেজী বঙ্গবন্ধু বলেন, "তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে?" বঙ্গবন্ধু সিঁড়ির দুই তিন ধাপ নামার পরে নিচের দিক থেকে ক'জন আর্মি বঙ্গবন্ধুকে গুলি করে। গুলি খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু সিঁড়িতে লুটিয়ে পড়েন। আমি তখন আর্মিদের পেছনে ছিলাম। খুনীরা আমাকে জিজ্ঞাস করে, তুমি কি কর? উত্তরে আমি বলি, বাসায় কাজ করি। তারা আমাকে ভিতরে যেতে বলে।
আমি বেগম মুজিবের রম্নমের বাথরম্নমে গিয়ে আশ্রয় নেই। সেখানে বেগম মুজিবকে বলি, বঙ্গবন্ধুকে আর্মিরা গুলি করেছে। বাথরম্নমে শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা, শেখ জামাল ও তাঁর স্ত্রী রোজী, শেখ রাসেল, বেগম মুজিব ও বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের এবং আমি আশ্রয় নিই। শেখ নাসের ওই বাথরম্নমে আসার আগে তাঁর হাতে গুলি লাগে। তাঁর হাত থেকে তখনও রক্ত ঝরছিল। বেগম মুজিব শাড়ির অাঁচল ছিঁড়ে তাঁর রক্ত মুছতে থাকেন। এর মধ্যে আর্মিরা দোতলায় আসে এবং দরজা পিটাতে থাকলে বেগম মুজিব দরজা খুলে দেন।
আর্মিরা রম্নমের ভেতর ঢুকে পড়ে এবং শেখ নাসের, শেখ রাসেল, বেগম মুজিব এবং আমাকে নিচের দিকে নিয়ে যায়। সিঁড়িতে বেগম মুজিব বঙ্গবন্ধুর লাশ দেখে বলেন, আমি যাব না। আমাকে এখানেই মেরে ফেল। আর্মিরা তাঁকে দোতলায় তাঁর রম্নমের দিকে নিয়ে যায়। একটু পরেই ওই রম্নমে গুলির শব্দসহ মেয়েদের আর্তচিৎকার শুনতে পাই। আর্মিরা শেখ নাসের, রাসেল ও আমাকে নিচতলায় এনে লাইনে দাঁড় করায়। সেখানে সাদা পোশাকে এক পুলিশের লাশ দেখতে পাই। নিচে শেখ নাসেরকে লৰ্য করে আর্মিরা জিজ্ঞেস করে, তুমি কে? পরিচয় দিয়ে তাঁকে নিচতলার বাথরম্নমে নিয়ে যায়। একটু পরে গুলির শব্দ ও 'মাগে' বলে চিৎকার শুনতে পাই।
বঙ্গবন্ধুর শিশুপুত্র শেখ রাসেল মার কাছে যাবে বলে তখন কান্নাকাটি করছিল এবং পিএ মহিতুল ইসলামকে ধরে বলছিল, ভাই আমাকে মারবে না তো? এ সময় এক আর্মি শেখ রাসেলকে বলে, চল তোমার মার কাছে নিয়ে যাই। তাকেও দোতলায় নিয়ে যায়। একটু পরেই আর্তচিৎকার ও গুলির শব্দ শুনতে পাই। লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় সেলিমের হাত ও পেটে দুটি গুলির জখম দেখলাম। দেখলাম কালো পোশাক পরিহিত আর্মিরা আমাদের বাসার সব জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। ডিএসপি নুরম্নল ইসলাম ও পিএ মহিতুল ইসলামকে আহত অবস্থায় দেখি। এর পর আমাদের বাসার সামনে একটি ট্যাঙ্ক আসে। ট্যাঙ্ক থেকে কয়েক আর্মি নেমে বাড়ির ভেতরের আর্মিদের লৰ্য করে জিজ্ঞাস করে, ভেতরে কে আছে? উত্তরে ভিতরের আর্মিরা বলে, 'অল আর ফিনিশড।'
পরে জানা গেছে, মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ঘৃণ্য খুনীরা শেখ রাসেলের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে। শুধু বঙ্গবন্ধুর বাসভবনই নয়, বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে সমূলে নিশ্চিহ্ন করার ঘৃণ্য পরিকল্পনায় একই সময় শেখ ফজলুল হক মণি এবং আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাড়িতেও আক্রমণ চালিয়ে নিষ্ঠুরভাবে সবাইকে হত্যা করে। এ তিনটি বাড়িতেই এ দিন বইয়ে যায় রক্তগঙ্গা।
কিছু বিশ্বাসঘাতক রাজনীতিকের চক্রানত্ম, পরাজিত পাকিসত্মানী দোসরদের পরিকল্পনা এবং সেনাবাহিনীর একদল বিপথগামী উচ্চাভিলাষী সদস্যরা পৈশাচিক কায়দায় গুলি করে সেদিন বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, একসঙ্গে তিন বাড়িতে হামলা করে মেতে উঠেছিল অদম্য রক্তপিপাসায়। নিষ্ঠুর কায়দায় একে একে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তিন ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর অনুজ পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা শেখ নাসের, ভগি্নপতি পানিসম্পদমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর ছেলে আরিফ ও শিশুপৌত্র সুকানত্ম বাবু, ভাগ্নে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি, তাঁর অনত্মঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, সেরনিয়াবাতের কন্যা বেবি সেরনিয়াবাত, আবদুর নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিলসহ কয়েক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

মোশতাক-জিয়ার
ইনডেমনিটি আইন
বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার রহিত করতে কুখ্যাত ইনডেমনিটি সংবিধানে আনেন জেনারেল জিয়া । একাত্তরের পরাজিত শক্তির ঘৃণ্য সর্বনাশা চক্রানত্মে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর স্বাধীন বাংলাদেশ ডুবে গিয়েছিল অমানিশার অন্ধকারে। মুহূর্তেই দেশ হয়েছিল নেতৃত্বহীন আর রাষ্ট্র হয়েছিল পথচু্যত। ভেঙ্গে পড়ে সামরিক বাহিনীর চেন অব কমান্ড। এ সুযোগে খুনীচক্র ও মদদদাতা এবং কিছু উচ্চাভিলাষী সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে শুরম্ন হয় অভু্যত্থান পাল্টাঅভু্যত্থানপর্ব। চলে রক্তের হোলিখেলা। সর্বশেষ খুনীদের বাঁচাতে জারি করা হয় কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। আর ৩৪ বছর পর ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম এ হত্যাকা- সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে নানা অজানা তথ্য।
পৈশাচিক হত্যাকা-ের মাত্র ক'দিনের মধ্যেই মীরজাফর খন্দকার মোশতাক কতর্ৃক জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান নিয়োগ, আত্মস্বীকৃত খুনীদের নিরাপদে দেশত্যাগের সুযোগ দেয়া, ৭ নবেম্বর কথিত বিপস্নবের নামে সামরিক শাসন দিয়ে ৰমতা দখল, এরপর বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদের পুরস্কৃত করা, একাত্তরের ঘাতক ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করা এবং যুদ্ধাপরাধীদের কারাগার থেকে মুক্ত করে তাদের নিয়ে জেনারেল জিয়ার দল গঠন স্পষ্ট হয়_ বঙ্গবন্ধুকে কারা এবং কেন হত্যা করেছে।
অতি গোপনেই ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কুখ্যাত অর্ডিন্যান্সটি জারি করে খোন্দকার মোশতাক। ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার ভয়েই তা প্রকাশ করা হয়নি। একটা এক্সটা অর্ডিনারি গেজেট নোটিফিকেশন আকারে প্রকাশ পেয়েছিল এবং গোপনে। এ গোপন অধ্যাদেশটির মাধ্যমে মেজরদের সকল প্রকার হত্যা খুনের অপরাধকে সম্পূর্ণভাবে ৰমা এবং তাদের আইনের উর্ধে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। কেবল খুনী রশিদ-ফারম্নকই এ আইনটির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি, মোশতাক তার নিজের চলার পিচ্ছিল পথে একটা নিরাপত্তা খুঁটি হিসেবেও কাজ করেছিলেন। কিন্তু অক্টোবরের শেষ দিকে মোশতাক, ফারম্নক-রশিদ গং পরিষ্কারভাবে আভাস পেল দেশে একটি অভু্যত্থান অত্যাসন্ন।
৩ নবেম্বরে খালেদ মোশারফ ও শাফায়াত জামিলের নেতৃত্বে সামরিক অভু্যত্থানে মোশতাকের পতন ঘটে। পরে পাল্টা অভু্যত্থানে খালেদ মোশারফ নিহত হন, ৰমতার মসনদে আসীন হন জেনারেল জিয়া। তাঁর আমলে ১৯৭৯ সালের সংসদে বিচারের পথ বন্ধ করতে জারি করা কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সংবিধানে অনত্মভর্ুক্ত করা এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বিষোদগার প্রমাণ হয় এ নিষ্ঠুর হত্যাকা-ের মূল বেনিফিশিয়ারি কারা। আর মুজিব হত্যায় জিয়ার সম্পৃক্ততার প্রশ্নটিও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় বার বার এসেছে। এ মামলার অন্যতম আসামি কর্নেল ফারম্নক ১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর ম্যাজিস্ট্রেটকে দেয়া স্বেচ্ছা জবানবন্দীতে বলেছেন, 'আলাপের মাধ্যমে তিনি (জিয়া) আমাকে লৰ্য করে বলেছিলেন দেশ বাঁচানোর জন্য কিছু একটা করা দরকার। ....তোমরা কিছু পারলে কর।' আসামি তাহেরউদ্দিন ঠাকুর তাঁর জবানবন্দীতে বলেন যে, জিয়া দু'বার এসেছিল মোশতাকের কাছে। তারা জোরপূর্বক ৰমতা বদলাতে অস্থির হয়ে পড়েছিল। এরপর জিয়ার পথ অনুসরণ করেন প্রথমে এরশাদ পরে জিয়ার স্ত্রী খালেদা জিয়া। সেই থেকে দীর্ঘ ২১টি বছর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুধু বন্ধই নয়, খুনীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হয়েছিল বাংলাদেশকে।
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটিকে সংবিধানের ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে অনত্মভর্ুক্ত করে বৈধতার সিল দেয়া হয় দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের প্রথম বৈঠকে ১৯৭৯ সালের ৩ এপ্রিল।

খুনীদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা
বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর ঘাতকচক্রকে বিদেশে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে খন্দকার মোশতাক আহমেদের সরকার। আর জিয়াউর রহমান রক্তপিপাসু হিংস্র খুনীদের প্রায় সবাইকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত ও পুনর্বাসিত করেন। পরবতর্ীতে জেনারেল এরশাদ ও জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও একই পথ অনুসরণ করে খুনীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও পুরস্কৃত এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সুযোগসুবিধা দিয়েছেন। অন্যদিকে দেশবাসীকে বঞ্চিত করেছেন পিতৃহত্যার বিচার পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার থেকে। বিচার পেতে ৩৪টি বছর অপেৰা করতে হলেও খুনীদের পুনর্বাসনে কার কি ভূমিকা, আর এই নিষ্ঠুর হত্যাকা-ের নেপথ্যের নায়ক ও বেনিফিশিয়ারি কারা তা দেশবাসীর সামনে এখন দিবালোকের মতোই স্পষ্ট।
১৯৭৬ সালের ৮ জুন জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত ১২ খুনীকে বিদেশে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত ও পুনর্বাসিত করেন। এর আগে খুনী ডালিম, আজিজ পাশা, শাহরিয়ার রশিদ, আহমেদ শরিফুল হোসেন, বজলুল হুদা, নুর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী, এ কে এম মহিউদ্দিন, নাজমুল হোসেন, কিসমত হোসেন, খায়রম্নজ্জামান ও মাজেদের চাকরি সামরিক বাহিনী থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যসত্ম করা হয়। তাদের নিয়োগ দেয়া হয় বিভিন্ন দূতাবাসে।
এর মধ্যে খুনী ডালিমকে চীনে, আজিজ পাশাকে আর্জেন্টিনা ও মহিউদ্দিনকে আলজেরিয়ায় প্রথম সচিব, শাহরিয়ারকে ইন্দোনেশিয়ায়, বজলুল হুদাকে পাকিসত্মানে, রাশেদ চৌধুরীকে সৌদি আরবে, নূর চৌধুরীকে ইরান ও আহমেদ শরিফুল হোসেনকে কুয়েতে দ্বিতীয় সচিব এবং কিসমতকে আবুধাবিতে, খায়রম্নজ্জামানকে মিসরে, নাজমুলকে কানাডায়, মাজেদকে সেনেগালে তৃতীয় সচিব পদে নিয়োগ দেয়া হয়। পরবতর্ীতে তারা আরও বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে চাকরি করেছে। ১৯৮০ সালে খুনীদের চাকরি পররাষ্ট্র ক্যাডার সার্ভিসে অনত্মভর্ুক্ত করে সরকারী সকল সুযোগসুবিধা গ্রহণের পথ উন্মুক্ত করা হয়। তবে খুনী ফারম্নক ও রশিদ সরকারী চাকরি নেয়নি।
১৯৮০ সালের ১৭ জুন ঢাকায় একটি ব্যর্থ সামরিক অভু্যত্থান হয়। তখন খুনী হুদা পাকিসত্মানে ও শাহরিয়ার ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব এবং ডালিম চীনে প্রথম সচিব পদে নিযুক্ত ছিল। এই অভু্যত্থানে জড়িত থাকার দায়ে আটক হতে পারে আশঙ্কায় বজলুল হুদা, শাহরিয়ার রশিদ খান ও ডালিম কর্মস্থল ছেড়ে তখন পালিয়ে যায়। অভু্যত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে আজিজ পাশাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ওই মামলায় সে রাজসাৰী হয়ে ছাড়া পায় এবং রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে আবার কূটনীতিকের দায়িত্ব পায়। এছাড়া দেশে অবাধে যাতায়াতসহ জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে নানা রাষ্ট্রীয় সুযোগসুবিধা গ্রহণ করে খুনীরা।

ইনডেমনিটি বাতিলের মুহূর্ত
'৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর ৰমতাসীন জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ার সরকার জাতিকে মিথ্যার ধূম্রজালে আটকে রেখে পিতৃহত্যার বিচারের পথ বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হানিসার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ৰমতায় এসেই ওই ধারণাটি ভুল প্রমাণ করে। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ সাধারণ একটি আইন এবং সংসদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েই তা বাতিল করা যেতে পারে এই সত্য উদঘাটন করে।
সে অনুযায়ী দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ নবেম্বর কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি সংসদে বাতিল হবার পরই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথে থাকা সকল বাধা অপসারিত হয়। ওইদিন সংসদে হত্যাকা-ের বেনিফিশিয়ারি বিএনপি-জামায়াত অনুপস্থিত থাকলেও জাতীয় পার্টির সদস্যরা তা সমর্থন করে। ১৪ নবেম্বর রাষ্ট্রপতি এ বিলে সম্মতি দেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার
বিচার প্রক্রিয়া শুরম্ন
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ সংসদে বাতিল হওয়ার পরপরই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরম্ন হয়। ট্রাইবু্যনালে নয়, বরং সাধারণ আইনে বিচার করার ঘোষণা দিয়ে মহানুভবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টানত্ম স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। এর আগে আওয়ামী লীগ ৰমতায় আসার পরপরই ১৯৯৬ সালের ১২ আগস্ট বিশেষ ৰমতা আইনে কর্নেল ফারম্নকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। একই বছরের ২ অক্টোবর ধানম-ি থানায় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার এজাহার দাখিল করা হয়। ১২ নবেম্বর সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের পর ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি ফৌজদারি কার্যবিধির ১২০ (বি), ৩০২/৩৪ এবং ২০১ ধারায় মামলার চার্জশীট দাখিল করা হয়। ২০ জানুয়ারি গ্রেফতার করা আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালের ৩ ফেব্রম্নয়ারি পলাতক আসামিদের নামে গ্রেজেট নোটিস জারি, ১ মার্চ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে বিশেষ এজলাস গঠন করে বিচারক করা হয় কাজী গোলাম রসুলকে। রাষ্ট্রপৰের বিশেষ পিপি হন প্রবীণ আইনজীবী সিরাজুল হক। একই বছরের ১২ মার্চ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার কাজ শুরম্ন হয়। ৭ এপ্রিল মামলার অভিযোগ গঠন, ৬ জুলাই সাৰ্য শুরম্ন হয়ে '৯৮ সালের ২০ জুলাই সাৰ্যপ্রমাণ শেষ হয়। ১২ আগস্ট সওয়াল জবাব শেষে রায় প্রদানের তারিখ ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে ৮ নবেম্বর আসামি বজলুল হুদাকে ব্যাঙ্কক থেকে ফেরত আনা হয় এবং ওইদিনই রায়ে আসামিদের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃতু্যদ-ের আদেশ দেয়া হয়। একই বছরের ১১ নবেম্বর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পাঠানো হয়। নানা আইনী জটিলতা পেরিয়ে ২০০০ সালের ২৮ জুন হাইকোর্টের মামলার শুনানি শুরম্ন হয় এবং ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট থেকে দ্বিমতে বিভক্ত রায় ঘোষণা করে।
বিভক্তি রায় নিষ্পত্তিতে ২০০১ সালের ১২ ফেব্রম্নয়ারি তৃতীয় বিচারপতির আদালতে শুনানি শুরম্ন হয়। ১৯ এপ্রিল শুনানি শেষে তৃতীয় বিচারপতির সিদ্ধানত্ম ঘোষণার মধ্য দিয়ে হাইকোর্ট পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়ার সমাপ্তি হয়। তৃতীয় বিচারপতি ১২ আসামির মৃতু্যদ-াদেশ বহাল রেখে তিনজনকে খালাস দেন। চূড়ানত্ম রায়ে মৃতু্যদ- বহাল থাকা ১২ আসামির মধ্যে পরে ওই বছরই কারাবন্দী চার আসামি আপীল বিভাগে লিভ টু আপীল করে। ২০০৭ সালে মৃতু্যদ-াদেশপ্রাপ্ত অপর আসামি ল্যান্সার একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ অক্টোবর আপীল বিভাগের বিচারপতি তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি বেঞ্চ গঠন করা হয় এবং ৫ অক্টোবরে লিভ টু আপীল শুনানি শুরম্ন হয়। ১২ অক্টোবর শুনানি শেষে ১৯ নবেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়। সুপ্রীমকোর্ট হাইকোর্টের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখে। সর্বশেষ খুনীদের রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পরই শেষ নিয়তি হয় ফাঁসির রজ্জু। খুনীদের দীর্ঘ ৩৪ বছরের নানা চক্রানত্ম-ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ডিঙ্গিয়ে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদের মৃতু্যদ-াদেশ কার্যকর দেখতে এখন অধীর অপেৰায় গোটা দেশবাসী।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাৰাত
রাষ্ট্রপতি মো. জিলস্নুর রহমানের সঙ্গে বুধবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌজন্য সাৰাত করেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে বাসস জানায়, সাৰাতকালে তিনি তাঁর সম্প্রতি ভারত সফর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহনের সঙ্গে বৈঠকের বিসত্মারিত রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
সফল ভারত সফরের জন্য রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ সফরের ফলে বন্ধুপ্রতিম ও নিকট প্রতিবেশী দু'দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং দ্বিপৰীয় অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধান সহজতর হবে।
রাষ্ট্রপতি দেশের অব্যাহত উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেন। সাৰাতকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।

বসনত্ম কি এসে গেল!
সমুদ্র হক কবি পার্সি বিসি (পিবি) শেলী তাঁর কবিতায় লিখেছেন ' ইফ উইন্টার কামস, ক্যান সপ্রিং বি ফার বিহাইন্ড...'। এই তো দিনকয়েক আগেই কী শীতই না অনুভূত হয়েছিল! এবারের মাঘের শীতে যে বাঘ পালিয়ে লোকালয়ে আশ্রয় নিয়েছিল (যদিও সেই বাঘকে রা করা যায়নি) সেই খবর তো পত্রিকার পাঠকরা পড়েছেন। সাধারণত ঢাকায় কংক্রিটের বনে শীত কমই অনুভূত হয়_ সেই রাজধানী ঢাকাকেও কাহিল করে ফেলেছিল এবারের শীত! উত্তরাঞ্চলের মানুষই যখন শীতে এবার একেবারে ফ্রিজ তখন অন্যান্য এলাকার কি অবস্থা তা আর বলে দিতে হয় না। সেই শীত বুঝি এবার উধাও হয়ে যাচ্ছে। মাঘের মধ্যভাগেই বইছে বসনত্মের হাওয়া। শীতের অনুভূতিটাই এবার যেন কেমন। ক'দিন আগেই কুয়াশার মেঘ চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল রোদকে, সেই রোদ যখন উঠেছে তখন কিছুণ রোদে থাকলেই ঘেমে ওঠে শরীর। আবার ছায়ায় বসলে লাগে শীত। আবহাওয়ার মতিগতি বুঝে ওঠাই কঠিন। এদিকে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়ে দিয়েছে ফেব্রম্নয়ারি মাসে ফের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবেই হয়েছে। শৈত্যপ্রবাহ আসুক আর নাই আসুক বসনত্ম যে দুয়ারে উঁকি দিয়েছে এখনকার রৌদ্র ছায়া তাই বলে দেয়। বসনত্মের মাতাল সমীরণে ভরা চাঁদের মাঘী পূর্ণিমাও এখন দুয়ারে। মাঘ মাসের এই পূর্ণিমায় হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের থাকে কতই আয়োজন। বগুড়ার শেরপুরে ভবানীপুর মন্দিরে মাঘী পূর্ণিমাকে ঘিরে সাজ সাজ রব পড়েছে, যেখানে আগামী শনিবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল থেকেই শুরম্ন হয়ে যাবে পুণ্যস্নানসহ নানা অনুষ্ঠান। বসনত্মের হাওয়ায় এই আয়োজনে দেশবিদেশের পুণ্যাথর্ীরা আসবে। বসনত্মের দোলায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা আনন্দে মেতে ওঠার আয়োজন করেছে। এ তো সবই ঘটছে বসনত্মের আগমনে। কবি শেলীর কবিতার শীত যখন এসেছে বসনত্ম কি খুব দূরে! মোটেও না। ফাগুনের রং যেন এখনই। বসনত্ম এলো বলে.....।
গ্যাস রেশনিং প্রথম দিনের সরবরাহে তেমন উন্নতি হয়নি
রশিদ মামুন রেশনিংয়ের প্রথম দিনে গ্যাস সরবরাহর দৃশ্যমান কোন উন্নতি হয়নি। বুধবার নির্ধারিত ৬ এলাকার মধ্যে চারটিতে রেশনিং হয়েছে। ভালুকা এবং মুন্সীগঞ্জে রেশনিং করেনি শিল্প মালিকরা। তিতাস এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের পৰ থেকে রেশনিংয়ের প্রথম দিনে কোন মনিটরিং করা হয়নি। তিতাস গ্যাস কতর্ৃপৰ রেশনিংয়ের দিন কলকারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে গ্রাহকদের চিঠি দিতে শুরম্ন করছে। তবে সিদ্ধানত্ম গ্রহণের ৭ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও সকল গ্রাহককে চিঠি পেঁৗছে দিতে পারেনি।
তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ খান বলেন, রেশনিংয়ের ফলে যে গ্যাসের সাশ্রয় হবে তা দিয়ে আপাতত সঙ্কট উত্তরণ সম্ভব হবে।
পেট্রোবাংলা গত ২৭ জানুয়ারি গ্যাস সঙ্কট নিরসনে তিতাসের আওতাভুক্ত এলাকাগুলোকে সাত জোনে বিভক্ত করে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধানত্ম নেয়। পেট্রোবাংলার সিদ্ধানত্ম অনুসারে বুধবার নরসিংদী থেকে ঘোড়াশাল, ভালুকা, জিঞ্জিরা, মুন্সীগঞ্জ ও তিতাসের বাড্ডা জোনের শিল্প কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়। তবে এসব এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বুধবার ভালুকা, মুন্সীগঞ্জ এলাকার অধিকাংশ কলকারখানায় উৎপাদন অব্যাহত ছিল। অন্য এলাকার কলকারখানা মোটামুটি বন্ধ রাখা হয়েছে। যেসব এলাকায় কলকারখানা বন্ধ ছিল সেখানে বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি ছিল বলে জানা গেছে।
রেশনিংয়ের আওতাভুক্ত নরসিংদী তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপক নূরম্নল ইসলাম প্রধান জনকণ্ঠকে জানান, নরসিংদী এবং ঘোড়াশাল এলাকায় অধিকাংশ কলকারখানা বন্ধ ছিল। তবে তাদের পৰ থেকে কোন ধরনের মনিটরিং করা হয়নি। মনিটরিংয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হলেও তাঁরা এখনও সে কাগজপত্র হাতে পাননি। রেশনিং কার্যকর করার জন্য তিতাস কি পদৰেপ নিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রাহকদের নির্দিষ্ট দিনে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কলকারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা চিঠি দিচ্ছেন। তবে এখনও সকল গ্রাহককে চিঠি পেঁৗছে দেয়া সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।
তিতাস গ্যাসের ময়মনসিংহ এলাকার ব্যবস্থাপক আলাউদ্দিন আহমেদ জানান ভালুকায় বুধবার কোন রেশনিং হয়নি। তিনি বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা তিতাসকে জানিয়েছে তারা রেশনিংয়ের বিষয়ে বৈঠক করে সিদ্ধানত্ম নেবে। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে রেশনিং করা হবে বলে জানান তিনি।
রেশনিংয়ের আওতাভুক্ত মুন্সীগঞ্জ এলাকার তিতাসের ব্যবস্থাপক অজিত চন্দ্র দেবের কাছে তাঁর এলাকার রেশনিং বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, মুন্সীগঞ্জের ৩০ শিল্প প্রতিষ্ঠান রেশনিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বাকিগুলো উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়েছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত দিনে বন্ধ রাখার জন্য তিতাসের পৰ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রেশনিংয়ের আওতাভুক্ত জিঞ্জিরা ও রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় বুধবার প্রায় সব শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। তিতাতের কেরানীগঞ্জের ব্যবস্থাপক, আবু জাফর জানিয়েছেন, তাঁর এলাকার প্রায় সব শিল্প কারখানা বন্ধ ছিল। তবে যেসব শিল্প কারখানা বন্ধ ছিল না তাদের বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার এ বিষয়ে রেশনিংয়ের আওতায় আসা বিলাসী টেক্সটাইলের মালিক হাজী আবুল কাশেম জানান, তার প্রতিষ্ঠানের এক হাজার ৩০০ কর্মচারীকে তিনি রেশনিংয়ের দিন ছুটি দিয়ে দিয়েছেন। তবে প্রয়োজন হলে তারা সপ্তাহে দু'দিন রেশনিং করতে রাজি রয়েছেন তবে অন্যান্য দিন তারা পূর্ণ মাত্রায় গ্যাস সরবরাহ পাবেন এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে রেশনিং সত্ত্বেও বুধবার গ্যাসের সরবরাহর দৃশ্যমান কোন উন্নতি হয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বুধবারও গৃহিণীদের চুলা জ্বলেনি। তবে যেসব এলাকা রেশনিংয়ের আওতাভুক্ত ছিল সেসব এলাকায় গৃহস্থালির সরবরাহর কিছুটা উন্নতি হয়েছে। রেশনিংয়ের বাইরে থাকা এলাকাগুলোর শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রয়োজন মাফিক গ্যাস পায়নি। বুধবার এ বিষয়ে বিকেএমইএ'র সভাপতি ফজলুল হক জানান, রেশনিংয়ের প্রথম দিনে দৃশ্যমান কোন উন্নতি হয়নি। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরবরাহ অন্যান্য দিনের মতোই কম ছিল। তিনি বলেন, রেশনিং কোন সমাধান হতে পারে না। তাদের পৰ থেকে বিদু্যতকেন্দ্র, সারকারখানা, সিএনজি স্টেশনে গ্যাস রেশনিংয়ের দাবি জানানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল প্রতিষ্ঠানে রেশনিং করা হলে সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। তবে রেশনিং যেহেতু স্থায়ী সমাধান নয়, এ কারণে সরকারকে নতুন নতুন গ্যাস ৰেত্র অনুসন্ধান এবং উত্তোলন করার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্রমতে, বর্তমানে প্রত্যেকদিন গড়ে উত্তোলিত ১৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের মধ্যে তিতাসের গ্রাহকদের ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। তিতাস এ চাহিদার বিপরীতে ১৪৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরহ করছে। শীত মৌসুমে বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সোনারগাঁও ও তিতাসের মিরপুর জোন; শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের ফতুলস্না ও টাঙ্গাইল; শনিবার তিতাসের টিকাটুলি ও মতিঝিল জোন; রোববার সাভার; সোমবার গাজীপুর (জয়দেবপুর থেকে মাওনা), মানিকগঞ্জ ও তিতাসের লালমাটিয়া জোন; মঙ্গলবার টঙ্গী, গাজীপুর (জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইল) ও ময়মনসিংহ এলাকায় গ্যাস রেশনিংয়ের কথা রয়েছে।
বসনত্ম কি এসে গেল!
সমুদ্র হক কবি পার্সি বিসি (পিবি) শেলী তাঁর কবিতায় লিখেছেন ' ইফ উইন্টার কামস, ক্যান সপ্রিং বি ফার বিহাইন্ড...'। এই তো দিনকয়েক আগেই কী শীতই না অনুভূত হয়েছিল! এবারের মাঘের শীতে যে বাঘ পালিয়ে লোকালয়ে আশ্রয় নিয়েছিল (যদিও সেই বাঘকে রা করা যায়নি) সেই খবর তো পত্রিকার পাঠকরা পড়েছেন। সাধারণত ঢাকায় কংক্রিটের বনে শীত কমই অনুভূত হয়_ সেই রাজধানী ঢাকাকেও কাহিল করে ফেলেছিল এবারের শীত! উত্তরাঞ্চলের মানুষই যখন শীতে এবার একেবারে ফ্রিজ তখন অন্যান্য এলাকার কি অবস্থা তা আর বলে দিতে হয় না। সেই শীত বুঝি এবার উধাও হয়ে যাচ্ছে। মাঘের মধ্যভাগেই বইছে বসনত্মের হাওয়া। শীতের অনুভূতিটাই এবার যেন কেমন। ক'দিন আগেই কুয়াশার মেঘ চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল রোদকে, সেই রোদ যখন উঠেছে তখন কিছুণ রোদে থাকলেই ঘেমে ওঠে শরীর। আবার ছায়ায় বসলে লাগে শীত। আবহাওয়ার মতিগতি বুঝে ওঠাই কঠিন। এদিকে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়ে দিয়েছে ফেব্রম্নয়ারি মাসে ফের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবেই হয়েছে। শৈত্যপ্রবাহ আসুক আর নাই আসুক বসনত্ম যে দুয়ারে উঁকি দিয়েছে এখনকার রৌদ্র ছায়া তাই বলে দেয়। বসনত্মের মাতাল সমীরণে ভরা চাঁদের মাঘী পূর্ণিমাও এখন দুয়ারে। মাঘ মাসের এই পূর্ণিমায় হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের থাকে কতই আয়োজন। বগুড়ার শেরপুরে ভবানীপুর মন্দিরে মাঘী পূর্ণিমাকে ঘিরে সাজ সাজ রব পড়েছে, যেখানে আগামী শনিবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল থেকেই শুরম্ন হয়ে যাবে পুণ্যস্নানসহ নানা অনুষ্ঠান। বসনত্মের হাওয়ায় এই আয়োজনে দেশবিদেশের পুণ্যাথর্ীরা আসবে। বসনত্মের দোলায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা আনন্দে মেতে ওঠার আয়োজন করেছে। এ তো সবই ঘটছে বসনত্মের আগমনে। কবি শেলীর কবিতার শীত যখন এসেছে বসনত্ম কি খুব দূরে! মোটেও না। ফাগুনের রং যেন এখনই। বসনত্ম এলো বলে.....।
রাজধানীতে ঝুঁকিপূর্ণ ৩ হাজার ভবন দ্রম্নত ভেঙ্গে ফেলা হবে
স্টাফ রিপোর্টার রাজধানীতে ভূমিকম্পে ঝুঁকিপূর্ণ ৩ হাজার ভবন দ্রম্নত ভেঙ্গে ফেলা হবে। এই লৰ্যে আগামী ২/১ দিনের মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হবে। এছাড়া অন্য ভবনগুলো বিল্ডং কোড অনুসরণ করে নির্মাণ করা হয়েছে কি না তাও পরীৰা করে দেখা হবে। এ লৰ্যে নির্মাণ করা অন্য ভবনসমূহের মধ্যে থেকে র্যান্ডমভিত্তিতে কিছু ভবন পরীৰা করে দেখা হবে। এসব ভবনকে ভূমিকম্পের দিক থেকে ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী চিহ্নিত করা হবে। এ জন্য রিখটার স্কেলের মাত্রা ধরা হবে সাত। এ ছাড়াও ভূমিকম্প পরবর্তীতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জন্য করণীয় সম্পর্কে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সিডিএমপি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত কম্প্রিহেনসিভ পস্ন্যান একটি কারিগরি কমিটি যাচাইবাচাই করে চূড়ানত্ম করবে।
বুধবার খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সভাকৰে অনুষ্ঠিত ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও সচেতনতা কমটির বৈঠকে এসব সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়।
সংশিস্নষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীতে ভূমিকম্পে ঝুঁকিপূর্ণ ৩ হাজার ভবন চিহ্নত করা হয়। এর মধ্য থেকে মাত্র ছ'টি ভবন ইতোমধ্যে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। বাকি ২ হাজার ৯শ' ৯৩টি ভবন দ্রম্নত ভেঙ্গে ফেলা হবে। এই ভবনগুলোর মধ্যে অধিকাংশই হলো পুরনো ঢাকায়। এছাড়াও মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ভবন রয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী ড. রাজ্জাক বলেন, ভূমিকম্প পরবর্তী অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজের জন্য বেশকিছু যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। এসব যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যেই সশস্ত্রবাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কাছে হসত্মানত্মর করা হয়েছে। অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য সারাদেশে ৬২ হাজার স্বেচ্ছাসেবক গড়ে তোলা হচ্ছে। কিন্তু এ কাজের জন্য স্বেচ্ছাসেবক গড়ে তোলাই যথেষ্ট নয়। এ জন্য ভূমিকম্প পরবর্তী করণীয় এবং উদ্ধার কাজের বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। জনগণের প্রত্যৰ সহায়তা ছাড়া এ কাজে সফল হওয়া কঠিন। তিনি বলেন, ইতোপূর্বে নেয়া সিদ্ধানত্ম অনুযায়ী প্রতীকী হিসেবে সচিবালয়ের একটি ভবন এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজকে ভূমিকম্প ঝুঁকিমুক্ত করতে রেট্রোফিটিং করার কাজ দ্রম্নত সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রী পূর্ত বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেন এবং সিডিএমপি থেকে কারিগরি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।
বৈঠকে আরও সিদ্ধানত্ম হয় যে, বিভিন্ন বেসরকারী নির্মাণ সংস্থার কাছে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজের জন্য কি ধরনের যন্ত্রপাতি আছে তা চিহ্নিত করা হবে। প্রয়োজনে এসব যন্ত্রপাতি যাতে ব্যবহার করা যায়, তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারের এবং বেসরকারী সংস্থার কাছে থাকা যন্ত্রপাতির তালিকা করার পর আরও কি কি যন্ত্রপাতি কেনা প্রয়োজন তা চূড়ানত্ম করা হবে। ঢাকা সিটি করপোরেশন বা অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের বিভিন্ন শিল্প-কারখানার ভবন যাতে ভূমিকম্প ঝুঁকিমুক্ত করে নির্মাণ করা হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়াও ভূমিকম্প পরবর্তী অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজের জন্য ঢাকা শহরের আশপাশের এলাকা থেকেও স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচন করে প্রশিৰণ প্রদানের বিষয়েও বৈঠকে সিদ্ধানত্ম হয়।
সূত্র জানায়, ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার লৰ্যে ইতোমধ্যে ৭০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে। আরও কিছু যন্ত্রপাতি দ্রম্নত ক্রয় করা হবে। পাশাপাশি এখন থেকে সকল ভবন নির্মাণের ৰেত্রে অবশ্যই বিল্ডিং কোড মেনে করতে হবে। ঢাকা শহরের বাইরে ভবন নির্মাণেও বিল্ডিং কোড মানতে হবে।
খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বৈঠকে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব মো. মোখলেছুর রহমান, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ সচিব মোহাম্মদ মোহসীন, প্রাথমিক ও গণশিৰা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান, গণপূর্ত অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম মর্তুজা, সিডিএমপির ভূমিকম্প ও সুনামি বিশেষজ্ঞ এস এম মাকসুদ কামাল, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এ আনসারী।
উলেস্নখ্য, বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিদ্যমান সত্ত্বেও সরকারের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই এমন একটি রিট পিটিশনের পরিপ্রেৰিতে মহামান্য হাইকোর্ট সরকারকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা এবং একটি উচ্চ ৰমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। সে নির্দেশের ভিত্তিতেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
ফিরলেন সোহেল তাজ
নেননি সরকারী প্রটোকল বললেন না কোন কথা
স্টাফ রিপোর্টার দীর্ঘ আট মাস পর বুধবার দেশে ফিরেছেন মহাজোট সরকারের পদত্যাগী স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। সরকারী প্রটোকল না নিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতেই তিনি বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। সরকারের একজন দফতরবিহীন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর জন্য বিমানবন্দরে গাড়ি পাঠানো হয়েছিল। সেই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দু'জন কর্মকর্তা তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি সরকারী প্রটোকল না নিয়েই ব্যক্তিগত গাড়িতে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। তবে বাসায় গিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের জানান, খুব শীঘ্রই এলাকায় গিয়ে মুরবি্বদের সঙ্গে দেখা সাৰাত করে খোঁজখবর জানবেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে যোগ দিবেন।
আওয়ামী লীগদলীয় সাংসদ ও মহাজোট সরকারের পদত্যাগী স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল দীর্ঘ প্রায় আট মাস পর গতকাল বুধবার দেশে ফিরছেন। তিনি সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিমানে ঢাকা এসে পেঁৗছান। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা ছেড়ে বেলা ১১টার দিকে তিনি বন্দর ত্যাগ করেন। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি ঢাকায় তাঁর নিজ বাসভবনে উদ্দেশে চলে যান। বিমানবন্দরে সোহেল তাজের নিজ নির্বাচনী এলাকা কাপাসিয়া ও গাজীপুরের নেতাকর্মী-সমর্থকদের পৰ থেকে বিপুল সংবর্ধনা দেয়া হয়। হাজারো নেতাকর্মী সমর্থকরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন গাজীপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্যকে। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুস সোবহান শিকদার, যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) আবু নূর বজলুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব শহীদুল ইসলাম এবং প্রটোকলের গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়। কিন্তু তিনি সরকারী প্রটোকল নেননি। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, কাপাসিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজগর রশিদ খান, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রম্নহুল আমিনসহ অন্য নেতৃবৃন্দ। সোহেল তাজের আগমন উপলৰে বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালের সামনের রাসত্মা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। ব্যানার, ফেস্টুন, পেস্নকার্ড শোভা পাচ্ছিল দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে। বিমানবন্দরের বিআইপি টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মীরা করতালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। সোহেল তাজকে বহনকারী বিমানটি বিলম্বে অবতরণ করায় স্বরাষ্ট্র সচিব বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। সরকারী প্রটোকল না নিলেও তাঁকে বহনকারী পারিবারিক গাড়ির সামনে পিছনে পুলিশের দু'টি গাড়ি তাঁকে অনুসরণ করে। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে বেলা ১২টার দিকে সোহেল তাজ বনানী পুরনো ডিওএইচএসের বাসভবনে পেঁৗছান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু নূর বজলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সোহেল তাজ প্রতিমন্ত্রী নন, এমন কোন নির্দেশনা সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে আসেনি। এই কারণেই তাঁকে দফতরবিহীন প্রতিমন্ত্রীর প্রটোকল দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়। সে কারণেই আমরা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলাম।
উলেস্নখ্য, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর তিনি গত বছরের ৯ জুন ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান। তিনি ২শ' ৩৮ দিন পর দেশে ফিরেছেন। ১৯ জুলাই সোহেল তাজ ওয়াশিংটনের বার্তা সংস্থা নিউজ ওয়ার্ল্ডের কাছে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের কথা জানান। ১০ সেপ্টেম্বর পদত্যাগী স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রানত্ম সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। অন্যদিকে এ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকুকে সোহেল তাজের স্থলাভিষিক্ত করা হয়। সংশিস্নষ্ট বিভিন্ন মহল মনে করছে, জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে যোগ দিতেই সোহেল তাজ ঢাকায় ফিরে এসেছেন। দেশে ফিরে এসে তিনি কি সরকারের মন্ত্রিপরিষদে থাকবেন, সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেমন হবে_ এমন সব প্রশ্ন আলোচনা চলছে বিভিন্ন মহলে। তবে সোহেল তাজের পারিবারিক সূত্র দাবি করেছে, এ ব্যাপারে তাদের কোন বক্তব্য নেই। তারা কোন মত কিংবা সিদ্ধানত্ম সোহেল তাজের ওপর চাপিয়ে দিবেন না। সোহেল তাজ যে সিদ্ধানত্ম নিবে পরিবার সেই সিদ্ধানত্ম মেনে নিবে।