|
বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০০৯, ৫ অগ্রহায়ন ১৪১৬ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ানত্ম রায় ঘোষণা
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ানত্ম রায় ঘোষণা করা হয়েছে। সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ কারাগারে আটক মৃতু্যদ-প্রাপ্ত ৫ আসামির আপীল খারিজ করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মোঃ তাফাজ্জল ইসলামের নেতৃত্বে আপীল বিভাগের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এ রায় ঘোষণা করেছে। এ রায়ের ফলে কারাগারে আটক মৃতু্যদ-প্রাপ্ত ৫ আসামিসহ পলাতক অপর ৭ আসামির মৃতু্যদ- বহাল রইল। এই রায়ের মাধ্যমে জাতির দীর্ঘদিনের প্রতীৰার অবসান ঘটল। কারাগারে আটক আসামিরা হলো_ সৈয়দ ফারম্নক রহমান, বজলুল হুদা, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার), মহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি) এবং মৃতু্যদ-প্রাপ্ত পলাতক খুনীরা হলো_ খন্দকার আব্দুর রশিদ, রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন, শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, কিসমত হাশেম, নাজমুল হাসান আনসার এবং আজিজ পাশা ( মৃত) ।
মৃতু্যদ-প্রাপ্ত ৫ আসামির আপীল খারিজ
সুপ্রীমকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুুকে হত্যাকারীদের মৃতু্যদ-াদেশ বহাল
স্টাফ রিপোর্টার সুপ্রীমকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের হাইকোর্টের দেয়া মৃতু্যদ-াদেশ বহাল রয়েছে। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ আদালত স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃতু্যদ-প্রাপ্ত পাঁচ আসামি- বজলুল হুদা, মহিউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ ফারম্নক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও একেএম মহিউদ্দিনের আপীল নাকচ করে দিয়েছে। ১২ আসামির মৃতু্যদ-াদেশ বহাল থাকল মৃতু্যদ-াদেশপ্রাপ্ত পাঁচ জনের আপীল সুপ্রীমকোর্টে নাকচ হয়ে যাওয়ার পর এই পাঁচ জনসহ হাইকোর্টের মৃতু্যদ-াদেশ দেয়া ১২ জনেরই মৃতু্যদ-াদেশ বহাল থাকল। পলাতক সাত জন যারা হাইকোর্টের রায়ের বিরম্নদ্ধে সুপ্রীমকোর্টে আপীল করেনি তাদের মৃতু্যদ-াদেশ হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী বহাল থাকবে। আপীলের পাঁচ পয়েন্ট নাকচ যে পাঁচটি পয়েন্টে মৃতু্যদ-াদেশপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি আপীল করেছে সেসব পয়েন্টে যথাযথ তথ্যপ্রমাণ দিতে না পারায় আসামিদের আপীল নাকচ হয়েছে বলে রায়ে উলেস্নখ করা হয়। পাঁচটি পয়েন্টের মধ্যে বিশেষভাবে উলেস্নখযোগ্য পয়েন্ট ছিল_ মামলা দায়েরে বিলম্ব, সেনাবিদ্রোহ হিসাবে সেনাআইনে বিচার, শাসত্মি কমানোর আবেদন। কিন্তু এসব পয়েন্টে আসামিপৰের আইনজীবীরা যথাযথ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে না পারায় রায়ে এসব পয়েন্ট নাকচ করা হয়। আইনজীবীদের তাৎৰণিক প্রতিক্রিয়া সুপ্রীমকোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়ে রাষ্ট্রপৰের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, এ্যাডভোকেট আনিসুল হকসহ সকলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, এই রায়ের মাধ্যমে জাতি কলঙ্কমুক্ত হলো এবং এতে দেশে আইনের শাসনের ধারা ফিরে আসবে। জাতি ন্যায়বিচার পেয়েছে। আসামিপৰ রিভিউ পিটিশন না করলে আগামী ২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যেই এই মৃতু্যদ-াদেশ কার্যকর করা হবে। আসামিপৰ রিভিউ পিটিশন করলে সেৰেত্রে এই পিটিশনের নিষ্পত্তি ঘটতে এক মাস সময় লাগলে সব মিলিয়ে রায় কার্যকর করতে দু'মাস সময় লাগতে পারে। আসামিপৰের আইনজীবীর রিভিউ পিটিশনের কথা আসামিপৰের আইনজীবী বলেছেন, সুপ্রীমকোর্টের রায়ের কপি পেলে আসামিপৰ রিভিউ পিটিশন করতে পারে। এই রিভিউ পিটিশন নিষ্পত্তি করতে ৩০ দিনের মতো সময় লাগবে। আসামিপৰ রিভিউ পিটিশন করলে সেৰেত্রে তার নিষ্পত্তি ঘটতে এক মাস সময় লাগলে সব মিলিয়ে রায় কার্যকর করতে দু'মাস সময় লাগতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রতিক্রিয়া এই রায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যগণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে মসজিদ-মন্দির-গির্জা-প্যাগোডায় মোনাজাত-প্রার্থনায় শোকরিয়া আদায় করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া সাধারণ মানুষ এই রায়ে সনত্মোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা যত দ্রম্নত সম্ভব এই রায় বাসত্মবায়নের দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই বলেছেন, জাতির জনককে হত্যার দায়ে চাপিয়ে দেয়া অভিশাপ থেকে আজ জাতি মুক্তি পেয়েছে। নজিরবিহীন নিরাপত্তা রায় উপলৰে আদালত প্রাঙ্গণসহ সারাদেশে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। আগামী দু'-তিন দিন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবত থাকবে বলে পুলিশের আইজি নূর মোহাম্মদ সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন। আজ চূড়ান্ত রায়
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা সকাল ১১টায় রায় ঘোষণা প্রধান বিচারপতির কক্ষেই এ রায় ঘোষণা করা হবে
বিকাশ দত্ত বাংলাদেশের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার ঐতিহাসিক মামলার রায় আজ ঘোষণা করবে সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ সকাল ১১টায় সুপ্রীমকোর্টের ১ নম্বর বিচারকক্ষে আপীল বিভাগের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বেঞ্চের নেতৃত্বদানকারী বিচারপতি মোঃ তাফাজ্জাল ইসলাম রায় ঘোষণা করবেন। প্রধান বিচারপতি ছুটিতে থাকায় বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকছেন বিচারপতি মোঃ তাফাজ্জাল ইসলাম।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় উপলক্ষে দেশব্যাপী টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। রায় শোনার জন্য দেশের সর্বস্তরের জনগণ অধীর আগ্রহে চেয়ে আছেন। রায় ঘোষণার পর যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য আইনশৃক্মখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সবের্াচ্চ সর্তকাবস্থায় রাখা হয়েছে। সুপ্রীমকোর্ট এলাকা নিরাপত্তা চাদরে মুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ্যাটর্নি জেনারেল মাহাবুবে আলম বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন, এ রায়ের জন্য জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। রায় ঘিরে নাশকতা হতে পারে এ আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এজন্য সুপ্রীমকোর্টের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান কেঁঁৗসুলি এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, আমরা রায়ের জন্য অপেক্ষা করছি। আশা করছি রায় আমাদের পক্ষেই আসবে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা সকল যুক্তিতর্ক আদালতে তুলে ধরেছি। আমরা আশা করছি রায়ে আসামিরা নিদের্াষ প্রমাণিত হবে। কারাগারে আটক মৃতু্যদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির আইনজীবী ও সরকারপক্ষের আইনজীবীদের ২৯ দিন শুনানি শেষে বিচারপতি মোঃ তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বে আপীল বিভাগের ৫ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আজ (১৯ নভেম্বর) রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করে। শুনানি শেষে দীর্ঘ ১৩ বছরের বিচার প্রক্রিয়া পাড়ি দিয়ে মামলার চূড়ান্ত দিন ধার্য করা হয়। ১২ নবেম্বর সকল উদ্বেগ ও নীরবতার অবসান ঘটিয়ে আপীল বিভাগ রায়ের দিন নির্ধারণ করে। আজ সেই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় ঘোষণার মধ্যদিয়ে অবসান হবে বাঙালী জাতির এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার। বাঙালী পেঁৗছালো ইতিহাসের একটি স্বর্ণযুগের দ্বারপ্রান্তে। বঙ্গবন্ধু হত্যার দীর্ঘ ৩৪ বছর পর বাঙালী পেল একটি বিচারের রায়। অনেক দেরিতে হলেও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় হচ্ছে। আইন করে যে বিচার বন্ধ করা যায় না, সেটা আজ প্রমাণিত হলো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার দীর্ঘ ২১ বছর পর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আর মামলাটি নি্#৬৩৭৪৩;ত্তি করতে ১৩ বছর সময় লাগে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর হরমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ড থেকে বঙ্গবন্ধুর আত্মীয়স্বজনও বাদ যাননি। বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ঘটনার সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঐ বছরের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর রেসিডেন্স পিএ আ ফ ম মহিতুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে ধানমণ্ডি থানায় এজাহার দায়ের করেন। ১২ নবেম্বর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল হবার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারের পথ উন্মোচন হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নবেম্বর বিচারিক আদালত ১৫ জন আসামিকে ফায়ারিং স্কোয়াডে অথবা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃতু্যদণ্ড প্রদান করে। এর পর আপীল ও মৃতু্যদণ্ড নিশ্চিতকরণের শুনানি হয় হাইকোর্টে। মামলাটি হাইকোর্টে আসার পর বিচারপতিগণ একের পর এক বিব্রতবোধ করেন। অবশেষে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে একটি বেঞ্চ দ্বিধাবিভক্ত রায় প্রদান করে। এই বেঞ্চের প্রথম বিচারপতি মোঃ রুহুল আমিন নিম্নআদালতের মৃতু্যদণ্ড দেয়া ১৫ জনের মধ্যে ১০ জনের সাজা বহাল রাখেন এবং ৫ জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। দ্বিতীয় বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক নিম্নআদালতের দেয়া ১৫ জনের মৃতু্যদণ্ডই বহাল রাখেন। পরে তৃতীয় বেঞ্চে মামলাটি পাঠানো হয়। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল তৃতীয় বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম ১২ জনের মৃতু্যদণ্ড বহাল রাখেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপীল বিভাগে আপীল করে। আসামিদের আপীল দীর্ঘ ৮ বছর সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে ঝুলে ছিল। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার মামলার শুনানিতে কোন উদ্যোগই নেয়নি। তৎকালীন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারক সঙ্কট দেখিয়ে সময় অতিবাহিত করেন। ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মৃতু্যদণ্ড পাওয়া পাঁচ আসামির আপীল অনুমতির আবেদন মঞ্জুর হয়। মৃতু্যদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, লে. কর্নেল (অব) মুহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), মেজর (অব) বজলুল হুদা, ও লে. কর্নেল (অব) একেএম মহিউদ্দিন আহম্মেদ (ল্যান্সার)। আসামিদের লিভ টু আপীল মঞ্জুর হবার পর ২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর আপীল বিভাগের বেঞ্চ গঠন করা হয়। বিচারপতি মোঃ তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বে বিচারপতি মোঃ আব্দুল আজিজ, বিচারপতি বিজন কুমার দাস (বিকে দাস), বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেন এবং বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা)-এর সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ৫ অক্টোবর থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার শুনানি শুরু করে। দীর্ঘ ২৯ দিন শুনানির পর ১২ নবেম্বর এই রায়ের দিন ঘোষণা হয়। আজ বঙ্গবন্ধু হত্যার ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। বিচারিক আদালত ১৫১ দিন, হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ ৬৬ দিন, তৃতীয় বিচারপতির বেঞ্চ ২৫ দিন, লিভ টু আপীলের শুনানি ২৬ দিন হয়েছে। সবশেষে আপীল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে ২৯ দিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলায় সরকারপক্ষের প্রধান কেঁৗসুলি ছিলেন এ্যাডভোকেট আনিসুল হক। তাঁকে সহায়তা করেন ১৮ আইনজীবী। এ্যাটর্নি জেনারেল মাহাবুবে আলমকে সহায়তা করেন ১০ আইনজীবী। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে ছিলেন খান সাইফুর রহমান, আব্দুর রেজ্জাক খান ও ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটছে আজ। সুপ্রীমকোর্টের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, বঙ্গবন্ধু মামলার শুনানির জন্য গঠিত বেঞ্চ ১১টায় বসবে সুপ্রীমকোর্টের ১ নম্বর বিচারকক্ষে। ১ নম্বর বিচারকক্ষ অর্থাৎ প্রধান বিচারপতির বিচারকক্ষ। প্রধান বিচারপতি এমএম রুহুল আমিন ছুটিতে থাকায় বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকছেন বিচারপতি মোঃ তাফাজ্জাল ইসলাম। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। খন্দকার মোশতাক আহমেদ ক্ষমতা গ্রহণ করে হত্যাকারীদের যাতে বিচার না হয় সেজন্য ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ১২ নবেম্বর ১৯৯৬, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ৩০ জুলাই খুনীদের অন্যতম লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান ও লে. কর্নেল (অব) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খানকে গ্রেফতার করা হয়। তার পরে লে. কর্নেল (অব) মুহিউদ্দিন আহমেদকে (আর্টিলারি) গ্রেফতার করা হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নবেম্বর মেজর (অব) বজলুল হুদাকে গ্রেফতার করা হয। ২০০৭ সালের ১৩ মার্চ লে. কর্নেল (অব) এবিএম মহিউদ্দিন আহমেদকে (ল্যান্সার) যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার করা হয়। ১৮ জুন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের আগে ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর পিএ আ ফ ম মহিতুল ইসলাম ধানমণ্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশের বিশেষ সহকারী সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি আদালতে ২০ জনকে দাবি করে চার্জশীট দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১২০ খ (রাষ্ট্রদ্রোহ), ৩০২ (হত্যা), ১৪৯ (বেআইনী সমাবেশ), ৩৪ (সাধারণ অপরাধমূলক লক্ষ্য অর্জনে সামষ্টিক তৎপরতা) ২০৯ (আদালতে মিথ্যা দাবি করা), ৩৮০ (বাসগৃহে চুরি), এবং ১০৯ (অপরাধে সহযোগিতা)। অভিযোগপত্র থেকে নায়েম মোঃ ইউনুস আলী, ক্যাপ্টেন নূরুল হুদা ও মোঃ আবু মুসা, মজমুদারকে অপরাধের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। মারা যাবার কারণে খন্দকার মোশতাক আহমেদ, মাহবুব আলম চাষী, রিসালদার সৈয়দ সারোয়ার হোসেনকে হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার কারণেও বিচারে সোপর্দ করা যায়নি। অভিযোগ মতে, যে ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়, তাদের মধ্যে ছিল লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব) খোন্দকার আব্দুর রশিদ, মেজর (অব) বজলুল হুদা, লে. কর্নেল (অব) এনএইচএমবি নূর চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব) শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব) মোঃ আজিজ পাশা, লে. কর্নেল (অব) এএম রাশেদ চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব) একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার), রিসালদার মোসলেহউদ্দিন, ক্যাপ্টেন (অব) কিসমত হাসেম, মেজর (অব) আহম্মদ শরফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন (অব) নাজমুল হোসেন আনসার, ক্যাপ্টেন (অব) আব্দুল মাজেদ, দফাদার মারফত আলী শাহ, মোঃ আবুল কাশেম, লে. কর্নেল (অব) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, লে. কর্নেল (অব) মুহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), অনারারি ক্যাপ্টেন ওয়াহার জোয়ার্দার, জোবায়দা রশিদ, তাহের উদ্দিন ঠাকুর। ১৯৯৭ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। মৃতদের বাদ দিয়ে ২০ জনের নামে চার্জ গঠন করে আদালত। বিচারক কাজী গোলাম রসুল ৬১ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। ১৫১ কার্যদিবস শুনানি শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ নবেম্বর কাজী গোলাম রসুল রায় ঘোষণা করেন। ১৫ জনকে ফায়ারিং স্কোয়াডে অথবা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃতু্যদণ্ড প্রদান করেন। ৪ জনকে বেকসুর খালাস দেন। খালাসপ্রাপ্তরা হলো তাহের উদ্দিন ঠাকুর, অনারারি ক্যাপ্টেন আব্দুল ওয়াহাব জোয়ার্দার, দফাদার মারফত আলী, এলডি আবুল হাসেম মৃধা। এর আগে সুপ্রীমকোর্ট থেকে জোবায়দা রশিদকে খালাস প্রদান করা হয়। বিচারক গোলাম রসুল ৬১ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এই সাক্ষীরা হলেন, এএফএম মহিতুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, শেখ (রমা), মোঃ সেলিম, হাবিলদার (অব) মোঃ কুদ্দুস শিকদার, নায়েক সুবেদার আব্দুল গনি, হাবিলদার সোরহাব আলী, লে. কর্নেল (অব) আঃ বাশার, মেজর (অব) সাহাদত হোসেন খান, লে. কর্নেল (অব) আব্দুল হামিদ, মেজর জেনারেল (অব) আব্দুর রব, এলডি বশির আহম্মেদ, এএলডি সিরাজুল হক, দফাদার শফিউদ্দিন সর্দার, দফাদার আব্দুর জব্বার মৃধা, কমোডর (অব) গোলাম রাব্বানী, মেজর (অব) শহীদুল্লাহ, হাবিলদার শামছুল ইসলাম, হাবিলদার আবু তাহের, দফাদার শহিদুর রহমান, আইনুদ্দিন মোল্লা, ল্যান্স নায়েক আব্দুল খালেক, হাবিলদার আব্দুল আজিজ, রিসালদার আব্দুল আলীম, হাবিদার আমিনুর রহমান, নায়েক মোঃ ইয়াসিন, নায়েক জাফরুল ইসলাম, হাবিলদার হারুন অর রশীদ, আব্দুল হাই শেখ, নায়েক শিহাব উদ্দিন, এএসপি শেখ আঃ রহমান, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, হাবিলদার একেএম শাহেদুল হক, হাবিলদার সেলিম উদ্দিন, সুবেদার জয়নাল আবেদীন, নিয়াজ আহমেদ, শেখ রেজাউল হক, প্রণয় চন্দ্র রায়, রিসালদার মঞ্জুর আহমেদ, লেফটেন্যান্ট সৈয়দ আহম্মেদ, ব্রিগেডিয়ার একেএম শাহজাহান, মেজর (অব) জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ, প্রফেসর খোরশেদ আলম, কর্নেল (অব) সাফায়াত জামিল, মেজর জেনারেল (অব) কেএম শফিউল্লাহ, মোখলেসুর রহমান ভুইয়া, মেজর জেনারেল (অব) খলিলুর রহমান, এয়ারভাইস মার্শাল (অব) একে খন্দকার, রিয়াল এডমিরাল এমএইচ খান, নুরুল ইসলাম খান, মেজর আফজালুর রহমান এমএম, হাবিবুর রহমান এসিএমএম, সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, মোঃ ইলিয়াস হোসেন, লে. কর্নেল (অব) সৈয়দ আলী আনসার, ইন্সপেক্টর মোঃ শফিউল্লাহ, মোঃ দাউদ আলী, মোঃ আজিজুল হক, মোঃ বখতিয়ার রহমান, আব্দুল্লাহ আল হাসান ও আব্দুল কাহার আখন্দ। বিচারিক আদালত ৬১ জনের সাক্ষ্যপ্রমাণ দেখে ১৫ জনকে মৃতু্যদণ্ড প্রদান করেন। এরা হলো লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব) সুলতান শাহরিয়ার শরীফ খান, লে. কর্নেল (অব) মুহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), লে. কর্নেল (অব) খোন্দকার আব্দুর রশিদ, মেজর (অব) বজলুল হুদা, লে. কর্নেল (অব) শরিফুল হক ডালিম, মেজর (অব) শরফুল হোসেন ওরফে শরিফুল ইসলাম, লে. কর্নেল (অব) এএম রাশেদ চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব) একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার), লে. কর্নেল (অব) এনএইচএমবি নূর চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব) আব্দুল আজিজ পাশা, ক্যাপ্টেন (অব) কিসমত হাসেম, ক্যাপ্টেন (অব) নাজমুল হক আনসার, ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ, রিসালদার মোসলেহউদ্দিন। এদের সবাইকে ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযুক্ত করে সাজা দেয়া হয়। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগে তৃতীয় বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। তিনি রায়ে ১২ জনের মৃতু্যদণ্ড বহাল রাখেন। ৩ জনকে অব্যাহতিদেন। অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলো মেজর (অব) আহমেদ শরফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন কিসমত হাসেম ও ক্যাপ্টেন (অব) নাজমুল হোসেন আনসার। এর আগে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর একটি বেঞ্চ দ্বিধা বিভক্ত রায় প্রদান করে। দ্বৈত বেঞ্চের প্রথম বিচারপতি মোঃ রুহুল আমিন নিম্নআদালতের ১৫ জনের মধ্যে ১০ জনকে মৃতু্যদণ্ড প্রদান করেন। ৫ জনকে খালাস দেন। খালাসপ্রাপ্তরা হলো লে. কর্নেল (অব) মুহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), মেজর (অব) আহম্মেদ শরফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন কিসমত হাসেম, ক্যাপ্টেন নাজমুল হোসেন আনসার ও রিসালদার মোসলেহউদ্দিন। দ্বিতীয় বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক নিম্নআদালতের দেয়া ১৫ জনের মৃতু্যদণ্ড বহাল রাখেন। এর ফলে জেলা ও দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল কর্তৃক ১৫ জনের মৃতু্যদণ্ডের মধ্যে হাইকোর্ট ডিভিশন ৩ জন ছাড়া ১২ জনের প্রচলিত আইনে মৃতু্যদণ্ডে দণ্ডিত বলে গণ্য। এই মামলায় সংশ্লিষ্ট সবাই ইতিহাসে ঠাঁই করে নিলেন। হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চের ১২ জন মৃতু্যদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে পাঁচজন কারাগারে আটক রয়েছে। ৬ জন পলাতক রয়েছে। পলাতকরা হচ্ছে লে. কর্নেল (অব) খোন্দকার আব্দুর রশিদ, লে. কর্নেল (অব) শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব) এএম রাশেদ চৌধুরী, লে. কর্নেল এনএইচএমবি নূর চৌধুরী, ক্যাপ্টেন (অব) আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেহউদ্দিন, লে. কর্নেল (অব) আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবুইয়েতে মারা যায়। বাড্ডায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ছাত্রলীগ নেতা খুন
হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে মামুন গ্রুপের কিলাররা
স্টাফ রিপোর্টার রাজধানীর বাড্ডায় প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ছাত্রলীগের এক নেতা খুন হয়েছে। এ সময় তার মামাত ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পুলিশ জানায়, ভাইয়ের হত্যা মামলার সাক্ষী, গরুর হাটের ইজারা, ডিশ ও ঠিকাদার ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন গ্রুপের কিলাররা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এদিকে মিরপুরে এক কিশোরী গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃতু্য হয়েছে। বুধবার পুলিশ ও মেডিক্যাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, বুধবার দুপুর সোয়া ১২টায় মধ্যবাড্ডার জিপি-প-৮৮ নম্বর নিজ বাড়ির পেছনের চায়ের দোকানে বসা ছিলেন স্থানীয় ৯৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগসহ সভাপতি নাজিম (৩০) ও তার মামাত ভাই উজ্জ্বল (২৮)। এ সময় ৫/৬ যুবক মুখে কালো কাপড় বেঁধে হেঁটে ছাত্রলীগ সহসভাপতি নাজিমকে ঘিরে ধরে। কিছু বুঝে ওঠার আগে ওই যুবকরা নাজিমের মাথায়, কানে, পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি চালায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত অবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা নাজিম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ওই অবস্থায় সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতা নাজিমের পাশে বসা উজ্জ্বল জাপটে ধরে অস্ত্রধারী এক যুবককে। তারা উজ্জ্বলকে পায়ুপথে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি চালায়। পরে সন্ত্রাসীরা ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে হেঁটে এলাকা ত্যাগ করে। গুলির আতঙ্কে আশপাশের দোকানপাট ও বিভিন্ন বাসার জানালা বন্ধ করে দেয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে আত্মীয়স্বজন গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত গুরুতর আহত ছাত্রলীগ নেতা নাজিম ও তার মামাত ভাই উজ্জ্বলকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আনে। এ সময় কর্তব্যরত ডাক্তার ছাত্রলীগ সহসভাপতি নাজিমকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বড় ভাই আজিম অভিযোগ করেন, ছোট ভাই নাজিম স্থানীয় ৯৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রলীগ সহসভাপতি। সে তিতাস গ্যাসের ঠিকাদারী ব্যবসা করে। বুধবার সকাল সোয়া ১১টায় কে বা কারা ছোট নাজিমকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে যায়। বাসার পেছনের অদূরে চায়ের দোকানে সন্ত্রাসীরা ছোট ভাই নাজিমকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০০৬ সালে বাড্ডায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত উজ্জ্বলের বড় ভাই রুবেল খুন হয়। ডিশ ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন ও তার সহযোগীরা রুবেলকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনের ফাঁসির রায়। এরপর থেকে আইনশৃক্মখলা বাহিনীর ভয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনের ক্যাডাররা আধিপত্য টিকিয়ে রাখা দায়। এতে বর্তমানে মামলাটি আপীলের শুনানী হচ্ছে। আর রেেবল হত্যার মামলার অন্যতম সঙ্গী তার ছোটভাই উজ্জ্বল। এ ছাড়া সম্প্রতি ছাত্রলীগ নেতা নাজিমের কাছে চাঁদা দাবি করে শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন গ্রুপের কাডার কাবিল, হিরা। এতে নাজিম বিষয়টি পুলিশকে জানায়। এমনকি বাড্ডার আফতাবনগরে হাটের ইজারা পায় স্থানীয় শাসকদলীয় এক ক্রেতা। মামুন গ্রুপের ক্যাডাররা হাটের একাংশ দাবি করে। এতেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় ছাত্রলীগ নেতা নাজিম। এরই জের ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন গ্রুপের অন্যতম সহযোগী কিলার কাবিল, হিরাসহ তার ক্যাডাররা পরিকল্পিতভাবে ওয়ার্ডে ছাত্রলীগ সহসভাপতি নাজিমকে হত্যা করে। কোনরকম প্রাণে বেঁচে গেলেও উজ্জ্বলের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। নিহত ছাত্রলীগ নেতা নাজিমের পিতার নাম মোঃ তোতা মিয়া। ৪ ভাই-২ বোনের মধ্যে সে চতুর্থ ছিল। মিরপুরে কাজের মেয়ের রহস্যজনক মৃতু্য অন্যদিকে বুধবার দুপুর আড়াইটায় পুলিশ মিরপুর থানাধীন শাহ্ আলীবাগ এলাকার ৮৯ নম্বর বাড়ির ৫ তলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটের বাথরুম থেকে সোনা (১৩) নামে এক কিশোরী গৃহপরিচারিকার লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানায়, কিশোরী সোনা ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ঝিয়ের কাজ করত। বাথরুমের দরজা খোলা অবস্থায় কিশোরী বাথরুমে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে সোনার গলায় নাইলনের দড়ি ঝোলানো ছিল। তার দু'পা ফ্লোরে দাঁড়ানো অবস্থায় ছিল। এমনকি তার কোমরে নাইলনের দড়ি পেঁৗানো ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, কিশোরী সোনার মৃতু্যর ঘটনা রহস্যজনক। ময়নাতদন্তের পর আসল ঘটনা জানা যাবে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই অশোক চৌহান জনকণ্ঠকে জানান, মৃতু্যর আগে কিশোরী সোনা ধর্ষিত বা গর্ভবতী হয়েছে কিনা, ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ওই রিপোর্ট হাতে পেলেই সোনার মৃতু্যর রহস্য উদ্ঘাটন হবে। নিহতের পিতার নাম শ্রী অম্ল বাগচী। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থানার পদ্মডুবি গ্রামে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেবে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষাথর্ী
শুরু হচ্ছে শনিবার, সফলতা নিয়ে উদ্বেগ
বিভাষ বাড়ৈ শনিবারথেকে শুরু হচ্ছে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিতব্য আলোচিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। দেশের সর্ববৃহৎ এই পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেবে সারাদেশের পঞ্চম শ্রেণীর ১৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৮০ পরীক্ষার্থী। ২২, ২৩ এবং ২৪ নবেম্বর ছয়টি বিভাগের ৫০২টি উপজেলার ৫ হাজার ৩৪৮টি কেন্দ্রে প্রতিদিন দু'টি করে মোট ছয়টি বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের দেয়া হবে সনদ, যা নিয়ে তারা ভর্তি হবে ষষ্ঠ শ্রেণীতে। ২০ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে ফল। আর ২৫ জানুয়ারি প্রকাশ করা হবে সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকা। এদিকে সকল আয়োজন সফল করতে এ মুহূর্তে প্রস্তুত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা অধিদফতর। কেন্দ্রীয়ভাবে তৈরি প্রশ্নপত্র ইতোমধ্যেই চলে গেছে উপজেলাগুলোতে। সকল কাজ সর্বক্ষণিক মনিটরিং করছে প্রাথমিক শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত স্টিয়ারিং কমিটি। আগামীকাল থেকেই খোলা হচ্ছে দু'টি কন্ট্রোল রুম।
এর আগে পঞ্চম শ্রেণীতে শিক্ষাথর্ীরা নিজের বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা এবং উপজেলা পর্যায়ে বৃত্তি পরীক্ষা দিত। এ পদ্ধতি পরিবর্তন করে সারাদেশে একদিনে, একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের উদ্যোগ নেয় বর্তমান মহাজোট সরকার। কারণ হিসেবে সকল শিশুর জন্য সমান মানের শিক্ষা প্রদানের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, চলমান নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি স্কুলে সীমিত সংখক পরীক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ায় স্কুলে কেবল তারাই গুরুত্ব পায়। এর বাইরে যারা কিছু কম মেধাবী সেই লাখ লাখ শিক্ষাথর্ী স্কুলে অনেকটাই অবহেলার শিকার হয়। শিক্ষকরাও বৃত্তি পরীক্ষায় ফল ভাল করতে বৃত্তির জন্য বাছাইকৃত স্বল্পসংখক শিক্ষার্থীকে নিয়ে ব্যাস্ত থাকে পুরো সময়। ফলে প্রাথমিক স্তরেই তৈরি হয় বৈষম্য। এ বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েই সরকার মূলত সকল বিষয়ের জন্য একটি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গত সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এ ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নেয়। সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষার আদলে এ পরীক্ষা হবে। ১৩ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার নীতিমালা জারি করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী বাংলা, গণিত, ইংরেজী, পরিবেশ পরিচিতি সমাজ, পরিবেশ পরিচিত বিজ্ঞান ও ধর্ম_ এ ছয়টি বিষয়ে পরীক্ষা হবে। ২২, ২৩ ও ২৪ নবেম্বর অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সময় হবে দুই ঘণ্টা করে। বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষায় ঢাকা বিভাগের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগের ১৩৪টি উপজেলার ১ হাজার ৫৩৪টি কেন্দ্রে ৬ লাখ ১০ হাজার ৬১৩ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে, চট্টগ্রাম বিভাগের ১০৫টি উপজেলার ১ হাজার ৯৮টি কেন্দ্রে ৪ লাখ ৫ হাজার ৬২৫ পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগের ১২৫টি উপজেলার ১ হাজার ২৮৫টি কেন্দ্রে ৫ লাখ ৫ হাজার ৩৮, খুলনা বিভাগের ৬০টি উপজেলার ৬৪৪টি কেন্দ্রেু ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৮০, বরিশাল বিভাগের ৪০টি উপজেলার ৩৯২টি কেন্দ্রে ১ লাখ ১১ হাজার ১৫০ এবং সিলেট বিভাগের ৩৮টি উপজেলার ৪০৬টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭২০ পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১০ লাখ ৭০ হাজার ১৯৬ ছাত্রী এবং ৯ লাখ ৯ হাজার ৯৮৪ ছাত্র। মোট কেন্দ্রের মধ্যে আছে বিদেশে অবস্থিত ৫টি কেন্দ্র। পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্র পরিচলনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সর্বক্ষণিক দায়িত্বে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলিশের মাধ্যমে পরীক্ষার দিন সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্ন পেঁৗছে দেবেন। প্রতি কেন্দ্রে প্রথম শ্রেণীর অফিসার ছাড়াও দু'জন হল সুপার এবং পরীক্ষা হলের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ থাকবে। মন্ত্রণালয়, অধিদফতর এবং দেশের বিভিন্ন এলাকার মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তুতি এখন মোটামুটি শেষ। একটি ইউনিয়নে কমপক্ষে একটি পরীক্ষা কেন্দ্র থাকবে। তবে শিক্ষার্থী বেশি হলে কেন্দ্র হবে একাধিক। অন্তত ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ কেন্ত্র হবে উচ্চ বিদ্যালয়ে। যে বিদ্যালয়ে পরীক্ষা হবে ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হবেন কেন্দ্র সচিব। প্রতিটি শিশুই নিজ ইউনিয়নের কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাবে। তবে এক ইউনিয়নের শিক্ষকরা অন্য ইউনিয়নের কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে শিক্ষকরা নিজ নিজ ইউনিয়নের বাইরের শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়ন করবেন। উপজেলার সকল প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন। শিক্ষা অফিসের সকল কর্মকর্তা সর্বক্ষণিক কাজের সঙ্গে থাকবেন। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি করে বণ্টনের দায়িত্ব পালন করছে ময়মনসিংহে অবস্থিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী। পরীক্ষা অনুষ্ঠানের বিষয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ইতোমধ্যে একটি নির্দেশনা দিয়েছে। যেখানে পরীক্ষার সার্বিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। নম্বরের ভিত্তিতে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ এই দুই শাখায় বৃত্তি দেয়া হবে। সব ধরনের বৃত্তি ৫০ ভাগ ছেলে ও ৫০ ভাগ মেয়েদের দেয়া হবে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরাও এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। পরীক্ষায় ব্যয় হবে ২০ কোটি ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষা ফি বাবদ নেয়া হয়েছে ৩০ টাকা করে। পরীক্ষার ফি বাবদ ছয় কোটি টাকা ছাড়াও দ্বিতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প (পিইডিপি-২) এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ অর্থ থেকে অবশিষ্ট প্রতি পরীক্ষার্থীর জন্য মাথাপিছু ৭৪ টাকা ভতর্ুকি দেবে সরকার। নম্বরের ক্ষেত্রে কোন অভিভাবকের আপত্তি থাকলে ১৫ দিনের মধ্যে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষার যৌক্তিকতা প্রদর্শন করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদন করতে হবে। পুনর্নিরীক্ষার ফি বাবদ ২০০ টাকা ব্যাংক ড্রাফট করতে হবে। পরীক্ষার জন্য আগামীকাল শুক্রবার থেকে ২৪ নবেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর পৃথকভাবে দু'টি কন্ট্রোলরুম স্থাপন করছে। কন্ট্রোল রুমে সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য আদানপ্রদান করবেন। মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুমের টলিফোন নম্বর-৭১৬০২৯২, ফ্যাঙ্-৭১৬৮৮৭১ এবং অধিদফতরের কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বর-৮০১৮১২৩, ৯০১২৯২০ ও ফ্যাঙ্ নম্বর ৮০১৮১২২। এদিকে পরীক্ষার জন্য সরকারের প্রস্তুতি ব্যাপক হলেও বিশাল এ পরীক্ষার সফলতা নিয়ে কিছুটা হলেও উদ্বিগ্ন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। মাত্র ২ থেকে ৩ মাসের প্রস্তুতিতে ২০ লাখ শিশুকে দিয়ে প্রতিদিন ২টি করে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্তকে অনেকেই মনে করছেন একটি চ্যালেঞ্জ। বিষয়টি অনেক কঠিন মনে করছেন শিক্ষকরাও। অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বুধবার রাতে জনকণ্ঠকে বলেন, এত বড় আয়োজনে একটু বেশি সময় পেলে ভাল হতো। স্বল্প প্রস্তুতিতে পরীক্ষা নেয়ার ফলে প্রশ্ন ফাঁসসহ নানা জটিলতার আশঙ্কা থেকে য়ায়। তিনি আর বলেন, এর আগে সর্ববৃহৎ পাবলিক পরীক্ষা ছিল এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। অথচ সেখানে পরীক্ষার্থীও থাকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ। তবে পরীক্ষার আয়োজনকে স্বাগত জানাচ্ছেন কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক সকলেই। তাদের অভিমত, অল্প সময়ে কোন অভিজ্ঞতা ছাড়া এত বড় পরীক্ষা সফলভাবে নেয়াটা অবশ্যই একটা চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারলে শিশুদের শিক্ষার মানে একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজনে দেশের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রাথমিক শিক্ষামন্ত্রী আফছারুল আমীন এবং প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন। বুধবার মন্ত্রণালয়ে স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে তাঁরা পরীক্ষার আয়োজনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। বাইরে রূপবতী ভেতরে কঙ্কাল, উজাড় করছে চোরেরা
সুন্দরবনের গভীরে
ফিরোজ মান্না/ আহসান হাবিব হাসান, সুন্দরবনের চরাপুটিয়া থেকে পশুর নদীর দুই তীরজুড়ে বনভূমি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে। গোলপাতার সবুজ দৃশ্য যেন বনভূমিকে অপরূপ রুপে সাজিয়ে রেখেছে। দূর থেকে এ দৃশ্য দেখে মনে হবে ঘন গাছপালায় সুন্দরবন ভরে আছে। রূপবতী বনভূমি বাইরে সেজে থাকলেও ভেতরে তার কঙ্কালসার। গাছশূন্য বনভূমিতে বিরাজ করছে অন্তর দহন আর তীব্র হাহাকার। তীর ঘেঁষে গেলে-মাঝ নদী থেকে দেখা দৃশ্যপট চোখের পলকে মিলিয়ে যাবে। বনের এমনই চিত্র দেখে হবে ভীষণ মন খারাপ। গোলপাতার সবুজ আর অন্দোলিত করবে না কারও মন। তখন বুকের ভেতর যন্ত্রণাই হবে। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের এমন করুণ পরিণতি আজ। বনের ভেতরে চোরের দল নেমেছে গাছ কাটার মহাপ্রতিযোগিতায়। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নির্বিচারে তারা বন উজাড় করছে। গাছ চোর ঠেকাতে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হিমশিম খাচ্ছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গাছচোররা শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় বন কর্তৃপক্ষ অসহায় হয়ে পড়েছে। তবে অভিযোগ আছে গাছচোরদের প্রতি বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের রয়েছে আশীর্বাদ।
বুধবার খুব ভোরে আমরা সাম্পান বোটে যাত্রা শুরু করি সুন্দরবনের চড়াপুটিয়া টহল ফাঁড়ির দিকে। গোটা সুন্দরবনে গাছ কাটা হলেও চরাপুটিয়াতে গাছ কাটার পরিমাণ অনেক বেশি। পশুর নদী ধরে ৫৫ নটিক্যাল মাইল যাওয়ার পর ইন্দুরকানি খাল। এই ইন্দুরকানি খাল পার হয়ে কেউড়া খাল। দুই খালের মোহনায় চরাপটিয়া বন বিভাগের টহল ফাঁড়ি। টহল ফাঁড়ির আশপাশের দৃশ্য দেখে মনে হলো এখানে ঘন বনভূমি। আমরা নেমে পড়লাম। বনের ভেতরে কিছুদূর যেতেই দেখা মেলে নতুন কেটে নেয়া গাছের গুঁড়ি। আর কিছু দূর ভেতরে ঢুকতেই অসংখ্য গাছের গুঁড়ির সন্ধান মেলে। বনের ভেতরে আমাদের চোখে কেটে নেয়া হাজারের গাছের গুঁড়ি চোখে পড়েছে। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে খবর মিলেছে-সুন্দরবন থেকে কোটি কোটি টাকার মূল্যের কাঠ পাচার হয়ে যাচ্ছে। কাঠ পাচারের সঙ্গে বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মী যুক্ত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দিনে রাতে কাঠ পাচারের কারণে এরই মধ্যে সুন্দরবন এক রকম ফাঁকা হয়ে গেছে। চোররা বেশি পাচার করে সুন্দরী গাছ। সিডর আক্রান্তের পর সকল প্রজাতির বনজ সম্পদ অহরণের সরকারী নিষেধজ্ঞা দেয়া হয়েছে। সরকারের এই নিষেধজ্ঞা কেবল কাগজে কলমে বলবত রয়েছে। বাস্তব চিত্র ভিন্ন রকম। কে কার নিষেধজ্ঞা মেনে চলে। এখানে গাছচোরই রাজা। তাদের রাজত্বে সরকারের নিষেধাজ্ঞা খুবই দুর্বল ভিত্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বনের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়ি নির্মাণ ও গাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ করতেই গাছচোররাই যেন তাদের মাথার মুকুট। নিজেদের কোন কষ্ট নেই_বসে থেকেই মাসে মাসে হাতের মুঠায় চলে আসছে লাখ লাখ টাকা। চোররা সুন্দরী গাছ কেটে পাচার করে। কেননা এই গাছের মূল্য অন্যান্য গাছের চেয়ে অনেক বেশি। জানা গেছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চোররা সুন্দরবনে কাঠ কাটার জন্য বনে ঢোকে। গাছ কেটে 'ভুর' তৈরি করে গোল গাছের গোড়া দিয়ে কাঠ ভাসিয়ে রশি টেনে নিরাপদ স্থানে চোররা কাঠ নিয়ে যায়। ভুরের মাধ্যমে যারা কাঠ পাচার করে তাদের ভুর পার্টি বলা হয়। চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারি, ঘাঘড়ামারী, বড় জোংড়া, ছোট জোংড়া, নল বুন্না, বস্তার খাল, আন্দারিয়া, পোড়া মহল, মৃগেমারী, নন্দবালা, আদাচাকি, ইন্দুর কৌটা, ইন্দুর কানি, চরপুটিয়া, শেলার ভরানী, ডাকাইতা খাল, হরজাল, গোসিয়া_এসব স্থান থেকে চোররা গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। খুলনা রেঞ্জের সুতোরখালী, নলীয়ান, কাশিরাবাদ, সাতক্ষীরা রেঞ্জের কৈখালী, কদমতলা. কোবাতক, শরণখোলা রেঞ্জের বগি, সুপতি ছাড়াও সুন্দরবনের প্রায় সর্বত্র কাঠ চোরদের তৎপরতা রয়েছে। চাঁদপাই রেঞ্জের চিলাবাজার, কেয়াবন, বরইতলা ভায়না দিয়ে কাঠ পাচার হয়ে বাগেরহাট, স্বরুপকাঠি, আরিচা, জিঞ্জিরা, গোপালগঞ্জ, টেকেরহাট, রামদিয়া, খুলনা চাঁনমারি_এসব বড় মোকামে চলে যায়। সরেজমিন অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে মংলা ও খুলনা এলাকায় কাঠ পাচার চক্রের কয়েকজন গডফাদার রয়েছে। এই প্রভাবশালী গডফাদারই সুন্দরবন উজাড় করে দিচ্ছে। মংলার এক সাবেক জনপ্রতিনিধি আর খুলনার ক্ষমতাসীন দলের এক প্রতিনিধির ছোট ভাই সুন্দরবনের কাঠ চুরির চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। মংলার অর্ধশত স-মিলসহ খুলনার শিপইয়ার্ড থেকে রূপসা পর্যন্ত ২ শতাধিক স-মিলে অবৈধভাবে সুন্দরী কাঠ সাইজ করা হয়। এছাড়া বনসংলগ্ন উপকূলী লোকালয়ে রয়েছে অসংখ্য স-মিল। বন বিভাগের লোক দেখানো তৎপরতাও ব্যাপক সংখ্যক চোরাই গাছ উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন টহল ফাঁড়িতে দেখা গেছে চোরাই সুন্দরী কাঠসহ অন্যান্য কাঠ আটক করেছে। কাঠ পাচার বেড়ে গেলেও বন বিভাগ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করছে তুলনামূলক অনেক কম। রাজনৈতিক নগ্ন হস্তক্ষেপ বন কর্তৃপক্ষের ওপর পড়ছে বলেই মামলা ও আটকের সংখ্যা কম। এ ব্যাপারে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাবাসীর ভাষ্য হচ্ছে, সুন্দরী কাঠ বন থেকে প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া পশুর, ধন্দুল আর আমুর গাছ চোখে পড়ে না। বাংলাদেশে জোট আমলেই উলফার বিস্তৃতি
সন্ত্রাসের বিষবৃক্ষ উলফা-৩
মামুন-অর-রশিদ বাংলাদেশে উলফার শীর্ষ পর্যায়ের এক ডজন নেতা বিভিন্ন সময়ে অবস্থান করেছে। বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে উলফা নেটওয়ার্ক এখানে বিস্তৃতি লাভ করে। অভিযোগ আছে, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় উলফাকে ব্যবহার করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে উলফার গোপন তৎপরতা রোধে আঞ্চলিক পর্যায়ে সম্মিলিত প্রতিরোধের কথাই বলছেন সবাই। বাংলাদেশের একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী অবশ্য উলফার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের 'স্বাধীনতাকামী' অভিহিত করে বিভিন্ন সময় সহযোগিতার দাবি তুলেছে। যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করেছে আজ তারাই উলফাকে স্বাধীনতাকামী বলে সমর্থন করছে। তাদের এই দাবি উলফা প্রশ্নে পাকিস্তানের গতিপথই সমর্থন করছে কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছে। উলফার কর্মকাণ্ড, তৎপরতা এবং গতিবিধি অনুসন্ধানেই এ অঞ্চলে উলফার শক্তিশালী নেটওয়ার্কের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকারী কিংবা জঙ্গীগোষ্ঠী এখন বিশেষ কোন দেশের একক সমস্যা নয়। এটি এখন আঞ্চলিক রূপ পরিগ্রহ করেছে। সেই বিচারে সন্ত্রাসবাদ নিমর্ূলে আঞ্চলিক পর্যায়ে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলাও অসম্ভব বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই প্রধান রবার্ট মুলার গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত সফরে এসে সে দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা এমকে নারায়ণের সঙ্গে এক বৈঠকে বলেছেন, হরকত-উল-জিহাদসহ জঙ্গী সংগঠনগুলো পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে তাদের বিস্তৃতি ঘটিয়েছে। এখন তারা ভারতের বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের ঘাঁটি তৈরি করছে। রবার্ট মূলার শেখ হাসিনা প্রস্তাবিত সন্ত্রাসবিরোধী দক্ষিণ এশীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব সমর্থন করেন। একই সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা বিচ্ছিন্নতাবাদ ও জঙ্গীবাদসহ সকল ধরনের সন্ত্রাস মোকাবেলায় আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও বিচ্ছিন্নতাবাদ ও সন্ত্রাস নিমর্ূলে শেখ হাসিনার এ প্রস্তাব সমর্থন করেছেন।
বিএনপি-জামায়াত আমলে বাংলাদেশে উলফার বিস্তৃতি বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকতে ২০০৬ সালে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের একটি গ্রুপের সন্ধান পায় গোয়েন্দারা। তখন সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্রের একটি মজুদ উদ্ধার করা হয়। কথিত আছে, ১৯৯২ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরই সরকারের সক্রিয় সমর্থনে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলে। জোট সরকারের আমলে তাদের অবাধ কার্যক্রম পূর্বের তুলনায় প্রকাশ্য রূপলাভ করে। নিরাপদ আস্তানা হিসেবে তারা শেরপুর জামালপুর ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার গারো পাহাড়গুলো বেছে নেয়। হালুয়াঘাটের মনিকুড়ায় ২০০৬ সালে উদ্ধার হওয়া ব্যাপক অস্ত্রশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বলে প্রমাণিত হয়। ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী 'ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট অব বোড়োল্যান্ড' সদস্যরা ভারত সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে হালুয়াঘাটে গোলাবারুদ মজুদ করেছিল। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এত বড় অস্ত্রের চোরাচালান কিভাবে হালুয়াঘাটে এসে পৌঁছে সেই প্রশ্ন তৈরি হয় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে। প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া কোনভাবেই এত বড় অস্ত্রের চোরাচালান সম্ভব নয় বলে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে তখন ধারণা তৈরি হয়। বিগত জোট শাসনামলে সরকারের সক্রিয় সহযোগিতা এবং আশ্রয়-প্রশ্রয়েই তারা এ এলাকায় অবস্থান নেয়। উলফা নেতারা অনেকে এ অঞ্চলে বিয়ে ও ব্যবসাবাণিজ্য করে অনেকটা স্থায়ী বাসিন্দাদের মতো হয়ে উঠেছে। প্রচুর অর্থবিত্তের কারণে তাদের এসব এলাকায় ব্যাপক প্রভাববলয়ও তৈরি হয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে শেখ হাসিনার সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় উপযর্ুপরি গ্রেনেড হামলায় উলফার প্রশিক্ষিত ক্যাডারদের জেএমবি জঙ্গীরা ব্যবহার করেছে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় সামনে রেখে বাংলাদেশবিরোধী শক্তি বিশেষ অরাজকতা সৃষ্টিতে উলফাকে ব্যবহারে তৎপর রয়েছে বলে গোয়েন্দাদের হাতে তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশে উলফা নেতাদের অবস্থান বাংলাদেশে উলফার তৎপরতা রয়েছে বলে দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। এখানে উলফার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে মনিপুরে গড়ে ওঠা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন 'পিপলস ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট' (পিইউএলএফ)। দক্ষিণ এশিয়ার গোয়েন্দা সূত্রসমূহ দাবি করেছে, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বাংলাদেশের একটি বিশেষ মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এখানে অবস্থান করছে। বাংলাদেশবিরোধী এ শক্তি এই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ব্যবহার করে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার কৌশল অবলম্বন করেছে। একই সঙ্গে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ব্যাপক প্রসারে বাংলাদেশ বিরোধীশক্তি মদদ দিয়েছে। এশিয়ার একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উলফার চেয়ারম্যান অরবিন্দ রাজখোয়া, ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট অব বোরোল্যান্ডে'র (এনডিএফবি) চেয়ারম্যান রঞ্জন দাইমারী, কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (কেএলও) চেয়ারম্যান জীবন সিংহ, ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অব ত্রিপুরার (এনএলএফটি) চেয়ারম্যান বিশ্বমোহন দেব বর্ম, অল ত্রিপুরা টাইগার্স ফোর্সের (এটিটিএফ) সভাপতি রণজিৎ দেব বর্ম ছদ্মবেশে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। পরেশ বড় ুয়া কামারুজ্জামান খান নামে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করার তথ্য রয়েছে গোয়েন্দাদের হাতে। একই সঙ্গে উলফার চীফ অরবিন্দ রাজখোয়া ইনামুল হক নামে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহারের তথ্য মিলেছে গোয়েন্দাদের হাতে। ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপগুলো বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অস্ত্র চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে। জোট আমলে ১০ ট্রাক অস্ত্রের চোরাচালান তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। এ অস্ত্র চোরাচালানের বিস্তারিত তথ্যচিত্রে এ সম্পর্কিত অনেক তথ্যই এখন বেরিয়ে আসছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এনএসসিএন চেয়ারম্যান ইসাক সু এবং এন্থনি শিমরাই চীনের কুনমিং থেকে চলতি বছরের ৭ মে ব্যাঙ্কক আসেন এবং ১১ মে তারা ঢাকায় আসেন। তাদের দু'জনের সঙ্গেই বাংলাদেশের পাসপোর্ট ছিল। কেবল অস্ত্রের নিরাপদ রুট নয়, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অপারেশন প্যান বাস্তবায়নেরও রুট হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের আন্তরিক অতিথিপরায়ণতার সুযোগ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা খুব ভালভাবেই ব্যবহার করছে। নজিরবিহীন নিরাপত্তা রাজধানীতে, কোর্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা
স্টাফ রিপোর্টার বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা উপলক্ষে দেশব্যাপী কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। সারাদেশ মুড়িয়ে দেয়া হয়েছে নিরাপত্তার চাদরে। বিশেষ করে রাজধানীতে থাকছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা। রাজধানীতে মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কলঙ্কমুক্তির দিনে আর কোন কলঙ্কের বোঝা ঘাড়ে নিতে নারাজ আইনশৃক্মখলা বাহিনী। তাই এত ব্যস্ততা। চারদিকে শৃক্মখলা বাহিনীর প্রতিটি সদস্য যারপরনাই ব্যস্ত। অপশক্তি যাতে জাতির ললাটে আর কোন কলঙ্কের চিহ্ন না অাঁকতে পারে এজন্য সারাদেশ থাকছে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রায় ঘোষণার স্থান ও তার আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী। বিশেষ করে সুপ্রীমকোর্ট ও হাইকোর্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সন্দেহজনক কারও ভেতরে প্রবেশের কায়দা নেই। অতিসাবধানেও কারও প্রবেশ সম্ভব নয়। এমনই নিরাপত্তা বূ্যহ যা কোন প্রাণীর পক্ষেও ভেদ করা অসম্ভব। আদালত এলাকায় বসানো হয়েছে গোয়েন্দা ক্যামেরা। এসব গোয়েন্দা ক্যামেরা আদালত ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে। শত শত ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এসব ক্যামেরায় প্রাপ্ত তথ্য ছবি বা ভিডিও যাচাই-বাছাই চলছে ত্বরিত গতিতে। সন্দেহজনক কোন কিছু অাঁচ করা মাত্র সে সম্পর্কে তত্ত্ব তালাশ চলছে। যদিও এসব ক্যামেরাকে গোয়েন্দারা হাইড ক্যামেরা বলছেন। অর্থাৎ বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই কোথায় ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা খুবই শক্তিশালী। বহুদূরের ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম। আদালত ও তার আশপাশের এলাকায় থাকছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। আদালতসহ আশপাশের এলাকার চষে বেড়াচ্ছে সুদক্ষ ডগস্কোয়াড। ডগস্কোয়াড কয়েক হাত মাটির নিচে থাকা অবৈধ মালামাল, বিস্ফোরক খুঁজে বের করতে সক্ষম। পুরো উচ্চ আদালত এখন শৃক্মখলা বাহিনীর সদস্যে ঠাসা। চারদিকে গিজ গিজ করছে আইনশৃক্মখলা বাহিনীর সদস্যরা। হাইরাইজ ভবনের ওপর বসানো হয়েছে মুভি ক্যামেরা। এসব ক্যামেরা অটোমেটিক। ঘুরে ঘুরে চারদিকের ভিডিও ধারণ করবে। এসব ফুটেজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাচ্ছে কন্ট্রোলরুমে। সন্দেহজনক কোন কিছু পাওয়া মাত্র এ্যালার্ম দিতে থাকবে। উচ্চ ভবন গুলোতে বসানো হয়েছে একাধিক ওয়াচ টাওয়ার। বাইনোকুলারের মাধ্যমে পুরো এলাকা নজরদারির মধ্যে রাখা হবে। রাস্তায় বসানো হয়েছে শত শত চেকপোস্ট। যে কোন ধরনের যানবাহনে তল্লাশি চলছে। কোথাও কোন ফাঁক রাখা হচ্ছে না। প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর বসানো হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ছোট ছোট গেট। আইনজীবীদের সঠিক পরিচয়পত্র নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পার্কিং প্লেসের ক্ষেত্রেও আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। তল্লাশি ব্যতীত কোন যানবাহন আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। যে কোন ধরনের জিনিসে ডান্ডা (মেটাল ডিটেক্টর) বুলিয়ে দেয়া হচ্ছে। সুপ্রীমকোর্ট ও হাইকোর্ট এলাকার আশপাশের সব সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কোন প্রকার সন্দেহজনক ব্যক্তিকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে হলে সঠিক পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। অন্যথা হওয়ার কোন সুযোগ নেই। এছাড়া প্রবেশকারীদের রেজিস্ট্রারে নাম লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের বাকি কারাগারগুলোতে হাই রেড এ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চারদিকে পুলিশ, র্যাব, আর্মড পুলিশ ও কারারক্ষীদের যথেষ্ট ভারি অস্ত্রসহ পাহারা দিতে দেখা গেছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও তার আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে মিছিল সভা-সমাবেশ। কারাগারের চারদিকে বসানো হয়েছে প্রচুর পরিমাণ নিরাপত্তা চৌকি। কারাগারের ভেতরে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে সারাক্ষণ বঙ্গবন্ধুর খুনীদের অবস্থানকারী সেলের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। কারাগারের আশপাশের উঁচু ভবনগুলোতে বসানো হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। বাইনোকুলার হাতে আইনশৃক্মখলা বাহনীর সদস্যদের চারদিকে নজর রাখতে দেখা গেছে। কারাগারে অযাচিত লোকজনকে যাতায়াত করতে দেয়া হচ্ছে না। কারা কতর্ৃপক্ষের দাবি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত কোন আশঙ্কাও নেই বলে দাবি করেছেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার তৌহিদুল ইসলাম। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মামলা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের। এছাড়া ৫ বিচারপতিকে দেয়া হচ্ছে কড়া নিরাপত্তা। কড়া নিরাপত্তার বাইরে নেই রাষ্ট্রপক্ষের কেঁৗসুলি, আইনজীবী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও। ঢাকার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কড়া নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। অন্তত ৫ শতাধিক ব্যক্তিকে গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির বাইরে নেই জঙ্গী সংগঠন, বিতর্কিত ব্যক্তি, রাজনৈতিক দলও। বিশেষ নজরদারির মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর খুনী পরিবারের সদস্য ও যুদ্ধাপরাধীরা। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা উপলক্ষে রাজধানীর নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার একেএম শহীদুল হক। তিনি জানান, নগরবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু স্থাপনা নয়, ব্যক্তির নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। কোন প্রকার নাশকতার আশঙ্কা নেই বলেও তিনি দাবি করেন। সুপ্রীমকোর্ট, হাইকোর্ট, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ রাজধানীর অনেক এলাকা ঘুরে দেখা গেছে আইন-শৃক্মখলা বাহিনী পুরো এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলেছে। কোন অপশক্তি নাশকতা করে পাপমুক্তির পথ যেন রোধ করতে না পারে। সেই বোধ থেকেই বুঝি, আইন-শৃক্মখলা বাহিনীর একেকজন সদস্য চারদিকে তীক্ষ্ন নজর রাখছেন। ২১ আগস্ট পালানোর পরিকল্পনা ছিল ৫ খুনীর!
গাফফার খান চৌধুরী ২১ আগস্ট শেখ হাসিনা মারা গেলে কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বঙ্গবন্ধুর ৫ খুনীর। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে খুনীদের কাছে গ্রেনেড সরবরাহ করা হয়েছিল। গ্রেনেড হামলা মামলার পুনর্তদন্তে এমন তথ্যই ওঠে আসছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া অকার্যকর করতে এখনও মরিয়া যুদ্ধাপরাধীরা।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিতর থেকে পাকিস্তানের তৈরি আর্জেস-৮৪ মডেলের গ্রেনেড উদ্ধার করে কারা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ। পরবতর্ীতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মতো জায়গায় আর্জেস গ্রেনেড উদ্ধারের খবরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কারা কতর্ৃপক্ষ ও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে। কিন্তু বিগত জোট সরকারের আমলে তদন্ত হালে পানি পায়নি। পরবর্তীতে নামকাওয়াস্তে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের কাছে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা হয়। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা, কারাগারে জাতীয় চারনেতা হত্যা, ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা ও সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য ও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাংসদ ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস হত্যাচেষ্টা একসূত্রে গাথা। সর্বশেষ বাংলাদেশের ভারতীয় ও মার্কিন দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনার পিছনেও ছিল যুদ্ধাপরাধীরা। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া নস্যাত করতেই বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে জঙ্গীবাদের ভয়াবহ উত্থান ঘটানো হয়। যুদ্ধাপরাধীরা বঙ্গবন্ধু পরিবারের জীবিত সকল সদস্যকে হত্যার পরিকল্পনা নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর সমাবেশে ইতিহাসের জঘন্যতম ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে ২৪ জন নিহত ও ৫ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আহত হয়। শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলার পর পরই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ থেকে উদ্ধারকৃত অবিস্ফোরিত গ্রেনেড ও কারাগার থেকে উদ্ধার করা গ্রেনেড পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা জানান, আওয়ামী লীগ সমাবেশে হামলায় পাকিস্তানের তৈরি আর্জেস-৮৪ মডেলের গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছিল। আর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকেও পাকিস্তানের তৈরি আর্জেস-৮৪ মডেলের গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। সিআইডি সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গ্রেনেড উদ্ধারের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, যারা শেখ হাসিনাকে হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত তারাই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গ্রেনেড সরবরাহ করে থাকতে পারে। শেখ হাসিনা নিহত হলে সারাদেশের চিত্র পাল্টে যেত। এ সুযোগে কারাগারে গ্রেনেড হামলা করে বঙ্গবন্ধুর খুনীরা পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বাঁচাতেই কারাগারে পরিকল্পিতভাবে গ্রেনেড সরবরাহ করা হয়েছিল। এমনকি এসব গ্রেনেড একই চালানের গ্রেনেড বলে গোয়েন্দারা অনেকটাই নিশ্চিত। পরবতর্ীতে কারা বিদ্রোহের অজুহাত দেখানোর পরিকল্পনা ছিল। শেষ দফায় ২০০৫ সালের ৩১ মার্চ কারা বিদ্রোহের নামে কারাগারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হয়েছিল। সে পরিকল্পনা মোতাবেক ওই দিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিতরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। বিস্ফোরণে এক বন্দী মারাত্মক আহত হয়। ওই সময় লালবাগ থানা পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছিল। সে তদন্তও ভেস্তে গেছে। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের নির্দেশেও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মতো জায়গায় বোমা বিস্ফোরণের মত ভয়াবহ ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। এটিও বঙ্গবন্ধুর খুনীদের পালিয়ে যাওয়ার নীলনকশা হতে পারে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় অকার্যকর করতে বাংলাদেশের ভারতীয় ও মার্কিন দূতাবাসে জঙ্গী হামলার পরিকল্পনা করা হয়। এরও নেপথ্য কারিগর স্বাধীনতাবিরোধীরা। আত্মঘাতী হামলা করে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়। এতে বাংলাদেশ ব্যাপক চাপের মুখে পড়লে সহজেই বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিকভাবেই ঝুলে যেত। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দেশে জঙ্গীবাদের ভয়াবহ উত্থান ঘটানো হয়। জামাইআদরে লালন পালন করা হয় দেশী বিদেশী আন্তর্জাতিকমানের জঙ্গীদের। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধুর ৫ খুনী জামাইআদর পেত। কারাগারে খুনীরা রীতিমতো ঈদের আমেজে বসবাস করত। নিয়মিত ভূরিভোজ করানো হতো খুনীদের। মামলার হাজিরা দিতে গিয়ে খুনীরা পুলিশ পাহারায় আদালতের গারদখানায় পিকনিক করত। নানা ধরনের বাহারী খাবার হাজির হতো খুনীদের জন্য। এতে কোন পুলিশ কর্মকর্তা আপত্তি করলে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোটের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ওই পুলিশ কর্মকর্তার চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করত। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমল ছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই কুখ্যাত ৫ খুনী বহু সুবিধা পেয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ন্যায়বিচার চাই প্রধানমন্ত্রী
রোমে আওয়ামী লীগ ইতালি শাখার সংবর্ধনায় ভাষণ
রোম, ১৮ নবেম্বর, বাসস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ন্যায়বিচার কামনা করেছেন। বৃহস্পতিবার এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাতে এখানে অরিয়েন্টাল হলে তাঁর সম্মানে আওয়ামী লীগের ইতালি শাখার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমি আর কিছুই চাই না, কেবল ন্যায়বিচার চাই। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই। এ মুহূর্তে আমি এর বেশি আর কিছুই বলতে চাই না।' বিচারের রায় যাতে সুষ্ঠু হয় সেজন্য তিনি সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের খুনীরা বাঙালী জাতির জন্য অভিশাপ এবং এ ধরনের কলঙ্ক থেকে জাতি পরিত্রাণ চায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের পরবতর্ী সরকারগুলো এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি, বরং তারা খুনীদের রক্ষা করতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, 'অতীতে যারা খুনীদের লালন-পালন করেছে তাদের কাছ থেকে এ হত্যার বিচার আমরা আশা করতে পারি না।' প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনীদের রক্ষা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারা দেশে শান্তি ও সংহতি বিনষ্টের চেষ্টা করছে বলে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরে সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, তাঁর সরকার খুনীদের বিচারে সোপর্দ করার জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শেখ হাসিনা আরও বলেন, তাঁর সরকার বাংলার মাটিতেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বাংলাদেশকে শান্তির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কখনোই তার ভূখণ্ডকে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করতে দেবে না। ইতালিতে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেবে। শেখ হাসিনা ভোটার তালিকায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, তাঁর সরকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের ছেলেমেয়েদের জন্য ইতালিতে একটি কমিউনিটি স্কুল চালু করারও পদক্ষেপ নেবে। উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশীদের মুহুর্মুহু করতালি ও স্লোগানের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ইতালিতে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানে ইতালির মিলান শহরে একটি কনসাল অফিস খোলার জন্য রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসকে নির্দেশ দেন। প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাতৃভূমিতে আরও বেশি বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার প্রবাসীদের বিনিয়োগের ব্যাপারে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি বলেন, গত সাধারণ নির্বাচনে যে জনগণ বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করেছে তাদের কল্যাণে তাঁর সরকার দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে যাবে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে একটু ভালভাবে জীবনযাপন করতে পারে সে লক্ষ্যে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশীদের আচার-আচরণের ওপর দেশের ভাবমূর্তি নির্ভরশীল। কেননা তারা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী জাতির উন্নয়নে সকল মতভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমণি এবং আওয়ামী লীগের ইউরোপ শাখার সভাপতি অনিল দাসগুপ্ত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের ইতালি শাখার সভাপতি মোঃ মাহতাব হোসেন। ইতালি, ফ্রান্স, সুইডেন, জার্মানি, পর্তুগাল, অস্ট্রিয়া, ব্রিটেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী হাজার হাজার বাংলাদেশী তাদের প্রিয় নেত্রী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে দেখার জন্য এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ২০ লাখ
স্টাফ রিপোর্টার বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ২০ লাখ। ২০৫০ সালে দেশটির জনসংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ২২ কোটিতে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার উপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তনে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর ২০০৯ সালের বিশ্ব জনসংখ্যা প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। সরকারী হিসেবে দেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটির কিছু উপরে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক আব্দুল কাইয়ুম।
বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয় জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৯ সালের বিশ্ব জনসংখ্যা প্রতিবেদনে প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে 'পরিবর্তনশীল পৃথিবীর মুখোমুখি : নারী, জনসংখ্যা ও জলবায়ু।' ইউএনএফপিএ'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ২০ লাখ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দশমিক ৪ শতাংশ হলেও গ্রামাঞ্চলে এ হার ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রজনন হার ২ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং মাতৃমৃতু্যর সংখ্যা প্রতি লাখে ৫৭০ জন। এতে বলা হয়, জনসংখ্যার পরিবর্তন ও গতিপ্রকৃতিকে বিবেচনা করে যদি জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি ও জাতীয় পর্যায়ের নীতিগুলো প্রণয়ন করা হয় তবে এসব নীতি সফল হবে। ধীর গতিতে জনসংখ্যা বাড়লে তা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কাটিয়ে ওঠা এবং গ্রীন হাউস গ্যাস কম নির্গমন করতে সহায়তা করবে। তা না হলে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) পূরণে বিশ্বের দেশগুলোর অগ্রগতিকে থামিয়ে দিতে পারে জলবায়ু পরিবর্তন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, পৃথিবীর যে সব বড় শহর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত ঝুঁকিতে রয়েছে তার মধ্যে ঢাকা অন্যতম। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার উপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তনে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউএনএফপিএ'র প্রতিনিধি আর্থার আরকেন বলেন, গত ১০০ বছরে বিশ্বের তাপমাত্রা দশমিক ৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। বর্তমান হারে চলতে থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে আরও ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষের মৃতু্যর ঝুঁকির পরিমাণ বাড়ছে। বিশেষ করে নারীদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য সচিব শেখ আলতাফ আলী বলেন, আমাদের দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ধীরে ধীরে কমছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানো, মাতৃমৃতু্য কমানো, নিরাপদ সন্তান প্রসবসহ বেশ কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে আমরা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর সময়ে দেশের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো কিভাবে চালানো হবে, ওষুধ সরবরাহ কিভাবে অব্যাহত রাখা হবে এ বিষয়ে কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে খাদ্য নিরাপত্তা ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা নিশ্চিত করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বিশিষ্ট পরিবেশবিজ্ঞানী ড. আতিক রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ ৯ ধরনের ঝুঁকিতে পড়ছে। জমির লবণাক্ততা বাড়ছে, খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে, খরা, বন্যা, ভূমিকম্পসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে, কম সময়ে দুর্যোগ আঘাত হানছে, নিত্যনতুন রোগের উদ্ভব হচ্ছে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, উন্নত দেশগুলো বেশি গ্যাস নির্গমন করছে আর আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ-খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলোকে গ্যাস নির্গমনের বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক আব্দুল কাইয়ুম সাংবাদিকদের বলেন, পূর্বের বিভিন্ন জরিপের উপর ভিত্তি করে ইউএনপিএ দেশের জনসংখ্যার এই চিত্র দেখিয়েছে। আমাদের হিসেবে দেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটির কিছু উপরে। ইউএনএফপিএ মাতৃমৃতু্যর সংখ্যা দেখিয়েছে ৫৭০ জন। এটা ১৯৯৯ সালের পরিসংখ্যান। কিন্তু ২০০৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মাতৃমৃতু্যর সংখ্যা এখন ৩২০ জন। প্রজনন হার কমানোর লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলে জনসংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে বলে মনে করেন তিনি। কারাগারে খুনীরা যেমন আছে_
শংকর কুমার দে কারাবন্দী বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনীর এখন দিনকাল কেমন কাটছে। খুনের জন্য তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা কিংবা অনুতাপের কোন লেশমাত্র পরিলক্ষিত হয় না কারারুদ্ধ জীবনে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের রজনীগন্ধার পৃথক ৫টি সেলে রাখা হয়েছে পাঁচ খুনীকে। চার দেয়ালের ভেতরে অন্ধপ্রকোষ্ঠে তাদের প্রায়শ উদ্বিগ্ন পায়চারি করতে দেখা যায়। খুনীরা যাতে সেলের ভেতরে কোন প্রকার অঘটন ঘটাতে না পারে এজন্য কারা কর্তৃপক্ষের সর্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। কারা কর্তৃপক্ষ পাঁচ খুনীর সঙ্গে অতীতে কখন কারা দেখা করেছে সেই সাক্ষাতকারীদের তালিকাটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে। খুনীদের এখন একটিই প্রত্যাশা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে তাদের দেখা হবে কবে?
কারাগারের কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে সিসি টিভি বসিয়ে পাঁচ খুনী কখন কি করছে, দিনকাল কেমন কাটাচ্ছে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি করা হচ্ছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের রজনীগন্ধার যেই ৫টি পৃথক সেলে রাখা হয়েছে সেই সেলগুলোর সামনে বসানো হয়েছে ৭টি সিসি টিভি। রজনীগন্ধার মোট ৭টি সেলের মধ্যে ৫টি সেলে খুনীদের রেখে অপর ৩টি সেলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শূন্য রাখা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল। কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে বসানো হয়েছে সিসি টিভি। কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলের সিটি টিভির মাধ্যমে খুনীদের সেলের সামনে বসানো সিসি টিভি দিয়ে খুনীরা কখন কি করছে তা পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে। খুনীরা কখন খাচ্ছে, ঘুমাচ্ছে, পায়চারি করছে সবকিছুই দেখা যাচ্ছে। নিয়মিত ডাক্তারি পরীক্ষা করা হচ্ছে পাঁচ খুনীর। ডাক্তারি পরীক্ষা করে খাবার দেয়া হচ্ছে তাদের। দিনে-রাতে চবি্বশ ঘণ্টায় তাদের সেলের সামনে কারারক্ষীরা প্রহরা দিচ্ছে। প্রহরারত কারারক্ষীদের খুনীদের সঙ্গে কথা বলা নিষিদ্ধ। কারারক্ষীদের নজরদারি করার জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে কারা গোয়েন্দা সদস্যদের। পাঁচ খুনীকে অন্য কয়েদিরা যেই ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে তা দেয়া হচ্ছে। তাদের কোন আকাঙ্ক্ষা আছে কিনা কারা কর্তৃপক্ষ জানতে চাইলে খুনীরা জানায়, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে তাদের দেখা হবে কবে? ব্যারিস্টার তাপস হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে বোমা হামলার পর থেকে পাঁচ খুনীর সঙ্গে আত্মীয়স্বজনসহ সবার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত ও যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায়ের আপীলের শুনানি শুরু হওয়ার পর কারাগারে আটক পাঁচ খুনীকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা ছাড়াও জঙ্গী, সন্ত্রাসী কঠোর নজরদারিতে রেখে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনীরা দীর্ঘদিন ধরে কারারুদ্ধ থাকলেও তাদের আচার-আচরণে এখন যেই ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে তা অতীতে পরিলক্ষিত হয়নি। বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনীর মধ্যে লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে '৯৬ সালের ১৩ আগস্টে। '৯৬ সালের ১৬ আগস্টে কারাগারে আনা হয়েছে লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সুলতান শাহরিয়ার খানকে। লে. কর্নেল (বরখাস্ত) মহিউদ্দিনকে '৯৬ সালের ২৭ নবেম্বরে আনা হয়েছে কারাগারে। মেজর (বরখাস্ত) বজলুল হুদাকে কারাগারে আনা হয়েছে '৯৮ সালের ৮ নবেম্বরে। সর্বশেষ '০৭ সালের ২১ জুন কারাগারে আনা হয়েছে লে. কর্নেল (বরখাস্ত) মহিউদ্দিন আহমেদকে। বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনীকে কখন কারাগারে আনা হয়েছে এবং কারাগারে আনার পর তাদের সঙ্গে কখন কারা দেখা করেছে তাদের তালিকাটি পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আপীলের রায় ঘোষণার আগে থেকে কারাগারে আটক বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনীকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। পবিত্র ঈদ-উল-আযহা ২৮ নবেম্বর
স্টাফ রিপোর্টার আগামী ২৮ নবেম্বর (শনিবার) সারাদেশে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উদ্যাপিত হবে । বুধবার সন্ধ্যায় পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর প্রেক্ষিতে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট মোঃ শাহজাহান মিয়ার সভাপতিত্বে বুধবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন সভাকক্ষে চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, আবহাওয়া অধিদফতর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায় বুধবার বাংলাদেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সে অনুযায়ী আগামী ২৮ নবেম্বর ঈদ-উল-আযহা উদ্যাপিত হবে। চাঁদ দেখা কমিটির সভায় ধর্ম সচিব মোঃ আব্দুর রব হাওলাদার, অতিরিক্ত সচিব আবু বকর সিদ্দিক, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা একেএম শামীম চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব আতোয়ার রহমান, ঢাকা জেলা প্রশাসক মোঃ জিল্লার রহমান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব প্রফেসর মাওলানা মোঃ সালাউদ্দীন, মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকার অধ্যক্ষ ড. একেএম ইয়াকুব হোসাইন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক কাজী আবু জাফর মোহাম্মদ হাসান সিদ্দিকী, আবহাওয়া অধিদফতরের উপপরিচালক শাহ আলমসহ দেশের প্রখ্যাত ওলামাবৃন্দ ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির অন্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পোপের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক
রোম, ১৮ নবেম্বর, বাসস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার ভ্যাটিকান সিটির হলি সি-তে পোপ ষোড়শ বেনেডিক্টের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। আধা ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী পোপের সঙ্গে বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা এবং বিশ্ব শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন। পরে শেখ হাসিনা তাঁর প্রতিনিধি দলের সদস্যদের পোপের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পোপ ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রপ্রধানও।
এর আগে ভ্যাটিকান সিটিতে পেঁৗছলে উষ্ণ ও আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানানো হয়। পোপ তাঁকে কিছু উপহারও দেন। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমণি, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ, রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন প্রতিনিধি দলে ছিলেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে ভ্যাটিকান সিটির সরকারপ্রধান কার্ডিনাল তারসিও বারতোনের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তাঁরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। বিসিএস প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ছিল হাওয়া ভবন
সংসদ রিপোর্টার ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল হাওয়া ভবন। দলীয় লোকদের প্রশাসনে বসাবার জন্য কৌশলে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত করা হয় হাওয়া ভবন থেকে পাঠানো তালিকা দেখে। সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির উপকমিটির তদন্তে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
জাতীয় সংসদে বুধবার উপকমিটির বৈঠকে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার পক্ষে মত দেন কমিটির সদস্যরা। উপকমিটির আহ্বায়ক এবিএম গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য এইচ এন আশিকুর রহমান এবং এম এ মান্নান এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে উপকমিটির আহ্বায়ক জানান, তদন্তে ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার অনিয়ম ও দুনর্ীতি যে হয়েছিল সেটা প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষ করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অনিয়ম হয়েছে। সঠিক প্রক্রিয়ায় নম্বর প্রদান করা হয়নি। কিংবা গ্রেডিং করা হয়নি। রাজনৈতিক প্রভার খাটিয়ে অযোগ্যদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া শেষ মুহূর্তে কয়েকজনকে চাকরিতে যোগদান করতে দেয়া হয়নি। কমিটির পরবতর্ী বৈঠকে এসব অভিযোগের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণাদি উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে কমিটি। কমিটি তদন্তের স্বার্থে সে সময়ের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ডাকা হবে কি-না প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখনও এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি। আগে তথ্য-উপাত্তগুলো পর্যালোচনা করা হবে। দায়-দায়িত্ব নিরূপণ করা হবে। এর পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কাদের ডাকা প্রয়োজন। খুনীরা_ জেলে ও পলাতক
00
00
|
||
|
সাবধানবাণী: বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এই সাইটের কোন উপাদান ব্যবহার করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ এবং কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।
|