মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২০ মে ২০১৩, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০
পহেলা জুলাই থেকে আধুনিক প্রযুক্তিতে ইট তৈরি
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আগামী পহেলা জুলাই থেকে দেশে নির্মাণ সামগ্রী ইট তৈরি হবে আধুনিক প্রযুক্তিতে। কোন ইটখোলা আর সনাতন পদ্ধতিতে ইট তৈরি করতে পারবে না। কেউ সনাতন পদ্ধতিতে ইট তৈরি করলে তার লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আগামী ১লা জুলাই থেকে আর বাংলাদেশে সনাতন পদ্ধতিতে ইট তৈরি করতে দেয়া হবে না। আধুনিক পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ইট পোড়ানো হবে। এতে ৫০ ভাগ জ্বালানি সাশ্রয় হবে। রক্ষা পাবে ৬০ ভাগ পরিবেশ দূষণ।
গত শনিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও-এ তেরোতম আন্তঃদেশীয় মালে ডিক্লিয়ারেশন এবং ৭ম আঞ্চলিক স্টকহোল্ডার সমন্বয় সভায় দক্ষিণ এশিয়ার বায়ু দূষণ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে পরিবেশমন্ত্রী বাংলাদেশের বায়ু দূষণের বিষয়টি উল্লেখ করে জানান, বিশ্বের যে কোন স্থানে বাতাস দূষণ হয় স্থানীয় কারণে। আর এর প্রভাব পরে বিশ্বব্যাপী। তাই আমরা ইটভাঁটির মাধ্যমে বাতাস দূষণ একেবারেই বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছি। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে ইট তৈরি করা হয় তা বাদ দেয়ার সময় ছিল মে মাস পর্যন্ত। এ সময় আরও এক মাস বাড়িয়ে জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ১লা জুলাই থেকে জিকজ্যাক পদ্ধতি বা হাইব্রিড হফম্যান প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট তৈরি করতে হবে। এভাবে ইট তৈরি করলে জ্বালানি সাশ্রয় হবে। পরিবেশও রক্ষা পাবে।
তিনি বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তিতে ইট তৈরি করা হলে দূষিত বায়ু পানির ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে উঁচু চুল্লি দিয়ে বেরিয়ে আসে। এতে দূষিত পদার্থ পানিতে আটকে যায়। ফলে পরিশোধিত বায়ু বেরিয়ে আসে। ফলে তা আর বায়ুকে দূষিত করতে পারে না।
ওই বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ সচিব শফিকুর রহমান ভূঁইয়া, ড. খলিকুজ্জামান আহমেদ, ড. জুনাথেনসহ সংশিষ্ট দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ার এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সহযোগিতা, বাতাসের দূষণ কমাতে যৌথ উদ্যোগ এবং পরিবেশের নিরাপত্তা রক্ষার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশসহ ভারত, ভুটান, ইরান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। আজ রবিবার সম্মেলন শেষ হবে। ২০০৬ সাল থেকে বাতাস দূষণ কমাতে এই বৈঠক শুরু হয়। প্রতিবছর এক এক দেশে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।