মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
১১২৪৮৫
বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০০৯, ৫ অগ্রহায়ন ১৪১৬
বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ২০ লাখ
স্টাফ রিপোর্টার বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ২০ লাখ। ২০৫০ সালে দেশটির জনসংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ২২ কোটিতে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার উপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তনে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর ২০০৯ সালের বিশ্ব জনসংখ্যা প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। সরকারী হিসেবে দেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটির কিছু উপরে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক আব্দুল কাইয়ুম।
বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয় জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৯ সালের বিশ্ব জনসংখ্যা প্রতিবেদনে প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে 'পরিবর্তনশীল পৃথিবীর মুখোমুখি : নারী, জনসংখ্যা ও জলবায়ু।'
ইউএনএফপিএ'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ২০ লাখ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার দশমিক ৪ শতাংশ হলেও গ্রামাঞ্চলে এ হার ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রজনন হার ২ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং মাতৃমৃতু্যর সংখ্যা প্রতি লাখে ৫৭০ জন।
এতে বলা হয়, জনসংখ্যার পরিবর্তন ও গতিপ্রকৃতিকে বিবেচনা করে যদি জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি ও জাতীয় পর্যায়ের নীতিগুলো প্রণয়ন করা হয় তবে এসব নীতি সফল হবে। ধীর গতিতে জনসংখ্যা বাড়লে তা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কাটিয়ে ওঠা এবং গ্রীন হাউস গ্যাস কম নির্গমন করতে সহায়তা করবে। তা না হলে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) পূরণে বিশ্বের দেশগুলোর অগ্রগতিকে থামিয়ে দিতে পারে জলবায়ু পরিবর্তন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, পৃথিবীর যে সব বড় শহর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত ঝুঁকিতে রয়েছে তার মধ্যে ঢাকা অন্যতম। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার উপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তনে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউএনএফপিএ'র প্রতিনিধি আর্থার আরকেন বলেন, গত ১০০ বছরে বিশ্বের তাপমাত্রা দশমিক ৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। বর্তমান হারে চলতে থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে আরও ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষের মৃতু্যর ঝুঁকির পরিমাণ বাড়ছে। বিশেষ করে নারীদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
স্বাস্থ্য সচিব শেখ আলতাফ আলী বলেন, আমাদের দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ধীরে ধীরে কমছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানো, মাতৃমৃতু্য কমানো, নিরাপদ সন্তান প্রসবসহ বেশ কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে আমরা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর সময়ে দেশের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো কিভাবে চালানো হবে, ওষুধ সরবরাহ কিভাবে অব্যাহত রাখা হবে এ বিষয়ে কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে খাদ্য নিরাপত্তা ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা নিশ্চিত করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
বিশিষ্ট পরিবেশবিজ্ঞানী ড. আতিক রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ ৯ ধরনের ঝুঁকিতে পড়ছে। জমির লবণাক্ততা বাড়ছে, খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে, খরা, বন্যা, ভূমিকম্পসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে, কম সময়ে দুর্যোগ আঘাত হানছে, নিত্যনতুন রোগের উদ্ভব হচ্ছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, উন্নত দেশগুলো বেশি গ্যাস নির্গমন করছে আর আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ-খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলোকে গ্যাস নির্গমনের বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক আব্দুল কাইয়ুম সাংবাদিকদের বলেন, পূর্বের বিভিন্ন জরিপের উপর ভিত্তি করে ইউএনপিএ দেশের জনসংখ্যার এই চিত্র দেখিয়েছে। আমাদের হিসেবে দেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটির কিছু উপরে। ইউএনএফপিএ মাতৃমৃতু্যর সংখ্যা দেখিয়েছে ৫৭০ জন। এটা ১৯৯৯ সালের পরিসংখ্যান। কিন্তু ২০০৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মাতৃমৃতু্যর সংখ্যা এখন ৩২০ জন। প্রজনন হার কমানোর লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলে জনসংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে বলে মনে করেন তিনি।