রোম, ১৮ নবেম্বর, বাসস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ন্যায়বিচার কামনা করেছেন। বৃহস্পতিবার এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাতে এখানে অরিয়েন্টাল হলে তাঁর সম্মানে আওয়ামী লীগের ইতালি শাখার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমি আর কিছুই চাই না, কেবল ন্যায়বিচার চাই। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই। এ মুহূর্তে আমি এর বেশি আর কিছুই বলতে চাই না।' বিচারের রায় যাতে সুষ্ঠু হয় সেজন্য তিনি সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের খুনীরা বাঙালী জাতির জন্য অভিশাপ এবং এ ধরনের কলঙ্ক থেকে জাতি পরিত্রাণ চায়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের পরবতর্ী সরকারগুলো এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি, বরং তারা খুনীদের রক্ষা করতে চেয়েছিল।
তিনি বলেন, 'অতীতে যারা খুনীদের লালন-পালন করেছে তাদের কাছ থেকে এ হত্যার বিচার আমরা আশা করতে পারি না।'
প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনীদের রক্ষা করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
শুধু তাই নয়, তারা দেশে শান্তি ও সংহতি বিনষ্টের চেষ্টা করছে বলে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরে সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, তাঁর সরকার খুনীদের বিচারে সোপর্দ করার জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, তাঁর সরকার বাংলার মাটিতেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে।
সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বাংলাদেশকে শান্তির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কখনোই তার ভূখণ্ডকে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করতে দেবে না।
ইতালিতে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেবে।
শেখ হাসিনা ভোটার তালিকায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, তাঁর সরকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের ছেলেমেয়েদের জন্য ইতালিতে একটি কমিউনিটি স্কুল চালু করারও পদক্ষেপ নেবে।
উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশীদের মুহুর্মুহু করতালি ও স্লোগানের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ইতালিতে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানে ইতালির মিলান শহরে একটি কনসাল অফিস খোলার জন্য রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসকে নির্দেশ দেন।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাতৃভূমিতে আরও বেশি বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার প্রবাসীদের বিনিয়োগের ব্যাপারে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।
তিনি বলেন, গত সাধারণ নির্বাচনে যে জনগণ বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করেছে তাদের কল্যাণে তাঁর সরকার দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে যাবে।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে একটু ভালভাবে জীবনযাপন করতে পারে সে লক্ষ্যে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশীদের আচার-আচরণের ওপর দেশের ভাবমূর্তি নির্ভরশীল। কেননা তারা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন।
প্রধানমন্ত্রী জাতির উন্নয়নে সকল মতভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমণি এবং আওয়ামী লীগের ইউরোপ শাখার সভাপতি অনিল দাসগুপ্ত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের ইতালি শাখার সভাপতি মোঃ মাহতাব হোসেন।
ইতালি, ফ্রান্স, সুইডেন, জার্মানি, পর্তুগাল, অস্ট্রিয়া, ব্রিটেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী হাজার হাজার বাংলাদেশী তাদের প্রিয় নেত্রী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে দেখার জন্য এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।